অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সমৃদ্ধ হচ্ছে বাংলা ভাষা।  বাংলায় ওয়েবসাইট তৈরির খবর অনেক পুরনো এখন। বাংলায় অ্যাপস তৈরির খবরও বাসী হতে চললো।  বরং বাংলা ভাষায় চ্যাটবট তৈরি (হোয়াটসঅ্যাপ ও ভাইবার), অনলাইন লার্নিং প্ল্যাটফর্ম তৈরি, অনলাইনে বাংলা ভাষার মান উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে এখন।  বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৩৫ কোটি লোক বাংলা ভাষায় কথা বলে।  কিন্তু এখনও ইন্টারনেট ও তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলার ব্যবহার ও প্রয়োগ সার্বজনীন নয়।  এজন্য সরকার, গবেষক, প্রযুক্তি ও ভাষাবিদদের একযোগে কাজ করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করেছেন।

বাংলাদেশ কান্ট্রিকোড টপ লেভেল ডোমেইন ডট বাংলা পেয়েছে।  এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করতে ১৬টি টুলস ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।  সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ ১৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষার উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করেছে।  তৈরি হচ্ছে বাংলা কার্পাস, বাংলা ওসিআর, বাংলা স্পিচ টু টেক্সট, টেক্সটু টু স্পিচ, জাতীয় বাংলা কি-বোর্ড, বাংলা স্টাইল গাইড, বাংলা ফন্ট, বাংলা মেশিন ট্রান্সলেটর। এসবের মাধ্যমে অনলাইন এবং  ডিজিটাল ডিভাইসে ভালোভাবে বাংলা ভাষা লেখা ও পড়া সহজ হবে।

এ বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, কম্পিউটারে বাংলা লেখার শুরুটা একেবারেই সাধারণ ছিল। ১৯৮৬ সালে ডেস্কটপ পাবলিশিং (ডিটিপি) প্রযুক্তিতে ঢাকা কুরিয়ার প্রকাশিত হয়।  ১৯৮৭ সালের ১৬ মে কম্পিউটারে কম্পোজ করা বাংলা পত্রিকা (আনন্দপত্র) প্রকাশের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলার প্রবেশ ঘটে।  আর ১৯৮৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় বাংলা কি-বোর্ড ও সফটওয়্যার প্রকাশ হয়।  বর্তমানে দেশের ৯৯ ভাগ কম্পিউটারে বাংলা লিখতে বিজয় সফটওয়্যার ব্যবহার হয়।  বিজয় বাংলা  ম্যাক, লিনাক্সেও জনপ্রিয় হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মুক্তপাঠ
মুক্তপাঠ হলো বাংলা ভাষায় সবেচেয়ে বড় লার্নিং প্ল্যাটফর্ম।  যেখানে অনলাইনে সাধারণ শিক্ষা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও জীবনমুখী শিক্ষার সুযোগ রয়েছে।  মুক্তপাঠে ১০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী নিবন্ধিত রয়েছে।  বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান মুক্তপাঠের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনলাইনে কোর্সের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।  এরইমধ্যে ১ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অ্যাপটি ব্যবহার করে মুক্তপাঠে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে বলে জানা গেছে।

অনলাইনে বাংলা ভাষার মান উন্নয়ন

বাংলা বর্ণমালার জন্য বিদ্যমান কোড সেটের মান বিডিএস ১৫২০:২০০০ -কে হালনাগাদকরণ এবং মোবাইল ফোনে বাংলা ব্যবহারের জন্য মোবাইল বাংলা কি-প্যাডের মান উন্নয়ন করা হয়েছে। বাংলা বর্ণমালার বিদ্যমান কোডসেট  ইউনিকোড ৬ -এর ভিত্তিতে হালনাগাদ করা হয়েছে।  এছাড়া বাংলা ক্যারেক্টার কোড সেট -ডাব্লিউইউ বিডিএস ১৫২০:২০১১ নামে এবং প্রস্তাবিত বাংলা কি-প্যাডটি বিডিএস ১৮৩৪:২০১১ বাংলাদেশ মান হিসেবে বিএসটিআই ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে বাংলা ভাষা সম্প্রসারণের জন্য নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।  এরমধ্যে রয়েছে সর্টিং ডাটা, বাংলা ফন্ট কনভার্সন ইত্যাদি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও বাংলা জনপ্রিয়। যদিও তাতে ইউনিকোড ও অভ্র দিয়ে লিখতে হয়।  তবে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বাংলা বাংলাদেশ থেকে ভাষাভাষী একজন প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়েছে।  তিনি বাংলা কনটেন্ট, কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড ইত্যাদি বিষয়গুলো দেখভাল করছেন বলে জানা গেছে।

সার্চ জায়ান্ট গুগল বাংলায় অনুবাদ অপশন চালু করেছে।  বাংলা শব্দের ‘স্টক’ বাড়াতে গুগল ২০১৫ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের একাধিক কমিউনিটি গ্রুপের মাধ্যমে একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।  ওই আয়োজনে সরকারের আইসিটি বিভাগের সঙ্গে ছিল বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন)।  সে সময় কয়েক লাখ বাংলা শব্দ গুগলে যোগ করা হয়।

স্মার্ট ফোনের জন্য দেশেই বাংলায় অ্যাপস তৈরি হচ্ছে।  সরকারও মোবাইল ফোনের কি-প্যাডে বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলক করেছে।  এ কারণে সব মোবাইল ফোনেই বাংলা লেখা ও পড়া যাচ্ছে।  আমদানিকৃত কম্পিউটার, ল্যাপটপের কি-বোর্ডে থাকছে বাংলা ভাষা।  কোনোটার কি-বোর্ডে বাংলা হরফ মুদ্রিত থাকছে, কোনোটায়  আবার সফটওয়্যার আকারে থাকছে।  ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি হচ্ছে বাংলায়।  ফলে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা এখন আগের চেয়ে অনেক সমৃদ্ধ।