ম্যাচ জিততে এক বলে দরকার ছয় রান। বলার অপেক্ষা রাখেনা ম্যাচটি কতোটা উত্তেজনা পূর্ণ! বল হাতে এক প্রান্তে মুস্তাফিজুর রহমান। অন্যদিকে ব্যাট হাতে কিউই অধিনায়ক ল্যাথম। তবে শেষ হাসিটা হাসালেন মুস্তাফিজই।

শেরে বাংলা সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে শেষ ওভারে রুদ্ধশ্বাস জয় পেয়েছে টাইগাররা। চার রানের এই জয়ে পাঁচ ম্যাচ সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলো স্বাগতিকরা। এর আগে নিউজিল্যান্ডকে জয়ের জন্য ১৪২ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল টাইগাররা।

১৪২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে এবারও শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছে নিউজিল্যান্ড। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে বল হাতে নিয়েই সাফল্য পান সাকিব আল হাসান। পরের ওভারে আর এক উইকেট তুলে নেন শেখ মেহেদি।

তৃতীয় উইকেটে বেশ প্রতিরোধ গড়ে তুলেন কিউই অধিনায়ক টম ল্যাথাম আর উইল ইয়ং। শেষ পর্যন্ত তাদের ৪৬ বলে ৪৩ রানের জুটিটি ১১তম ওভারে এসে ভেঙেন সাকিব।

তবে লড়াইটা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন কিউই অধিনায়ক টম ল্যাথাম। দারুণ এক ইনিংস উপহার দিয়েছেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত আর বিজয়ীর বেশে মাঠ ছাড়তে পারেননি।

শুরুতে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। এরপর ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪১ রান সংগ্রহ করে সাকিবরা।

দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৯ রান করেন ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম। ৩৭ রান করে অপরাজিত থাকেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এছাড়া ৩৩ রান করেন আরেক ওপেনার লিটন দাস।

লিটন দাসকে সঙ্গে নিয়ে ওপেনিংয়ে ৯.৩ ওভারে স্কোর বোর্ডে ৫৯ রান যোগ করেন নাঈম। ২৯ বলে তিন চার ও এক ছক্কায় ৩৩ রান করে রাচিন রবিন্দ্রর স্পিনে বিভ্রান্ত হয়ে ফেরেন লিটন। সিরিজের প্রথম ম্যাচে ১ রানে আউট হয়েছিলেন তিনি।

লিটন আউট হওয়ার পর তিন নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিপদে পড়েন মুশফিকুর রহিম। রাচিন রবিন্দ্রর বলে গোল্ডেন ডাক পান জাতীয় দলের সাবেক এ অধিনায়ক।

চার নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে ৭ বলে ১২ রান করে ফেরেন সাকিব আল হাসান। তার বিদায়ে ৭২ রানে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ দল।

এরপর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত রান সংগ্রহের চেষ্টা করতে গিয়ে আউট হন ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম। রাচিন রবিন্দ্রর করা বলটি বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন এ ওপেনার। ৩৯ বলে ৩টি চারের সাহায্যে ৩৯ রান করে ফেরেন তিনি।

নাঈম আউট হওয়ার পর ৩ বলে ৩ রান করে ফেরেন আফিফ হোসেন। তার বিদায়ে ১৬.২ ওভারে ১০৯ রানে বাংলাদেশ হারায় পঞ্চম উইকেট।

নুরুল হাসান সোহানকে সঙ্গে নিয়ে ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ২২ বলে ৩২ রান যোগ করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ইনিংসের শেষ বলে আউট হন সোহান। তিনি ফেরেন ৯ বলে ১৩ রান করে। ৩২ বলে ৫টি চারের সাহায্যে ৩৭ রান করে অপরাজিত থাকেন রিয়াদ।

প্লেয়ার অব দ্য মাচ হয়েছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।