অপহরণের ৫১ ঘন্টা পর উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্প থেকে অপহৃত নোহা চালক, হ্নীলা রঙ্গিখালী স্কুল পাড়ার দিলদার আহমদ প্রকাশ দিলু মাঝির পুত্র নুরুল বশরকে ছেড়ে দিয়েছে রোহিঙ্গারা।

৮ অক্টোবর রাত ৯ টার দিকে নোহা চালক নুরুল বশরকে (৩৫) রোহিঙ্গা অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা গুরুতর আহত অবস্থায় ছেড়ে দেয় বলে জানায় তার নিকটাত্মীয়রা। বেঁচে যাওয়া নুরুল বশরকে কক্সবাজারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

একটি অসমর্থিত সূত্রে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হ্নীলা সিকদার প্লাজার সামনে থেকে ড্রাইভার নুরুল বশরের নোহাটি ভাড়া নেয় হ্নীলা দরগাহ পাড়ার মৃত লম্বা বক্করের ছেলে ছৈয়দ আলম প্রকাশ কালু ড্রাইভার।

তার ভাই দদাইয়াকে দিয়ে কুতুপালং থেকে মেয়ে যাত্রী আনার কথা বলে গাড়িটা ভাড়া করা হয়।

কালু ড্রাইভারের বড় ভাই শামশুল আলম প্রকাশ দদাইয়াকে নিয়ে কুতুপালং যাওয়ার পথে হ্নীলা স্টেশন থেকে ড্রাইভার নুরুল হুদাকে কুতুপালং ঘুরে আসার উদ্দেশ্যে গাড়িতে তুলে নেয় ভাড়া করা গাড়ীর ড্রাইভার নুরুল বশর।

রাত ৮টার দিকে নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী রোহিঙ্গা লম্বাশিয়া মারকাজের পাহাড়ের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা একটি নোহা গাড়িতে ৪জন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী উঠতে দেখতে পায়। ফিরতি পথে গাড়িটি কিছুদুর যেতেই একদল সশস্ত্র রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গাড়ি থামিয়ে যাত্রীদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।

এ সময় গাড়িতে থাকা হ্নীলা দরগাহ পাড়ার মৃত লম্বা বক্করের ছেলে দদাইয়া (কালা বদার ভাই) সহ ৩ জন যাত্রী পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও ঐ গাড়ির ড্রাইভার রঙ্গীখালীর দিলু মাঝির ছেলে নুরুল বশর ও তার সাথে যাওয়া হ্নীলা পশ্চিম সিকদার পাড়ার নোহা চালক নুর হোসেনের ছেলে নুরুল হুদাসহ অপর ২ রোহিঙ্গাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে জনসমুখে জবাই করে সশস্ত্র রোহিঙ্গা বাহিনী।

দূ’গ্রুপের চলমান সংঘর্ষে কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প উত্তপ্ত জেনেও যাত্রী আনতে এত রাতে কেন নোহা পাঠানো হল তা নিয়ে কৌতূহল সর্বত্র।