একটা সময় কক্সবাজার সদর ও রামুর জন্য বাঁকখালী নদী ছিল এক অভিশাপের নাম। সেই নদীই এখন আশীর্বাদ ড্রেজিংয়ের ফলে গভীর নদীতে পানি বেড়েছে কয়েকগুণ।

সেই সঙ্গে তীরের ভাঙ্গন রোধে বসানো হয়েছে সিসি ব্লক। এর ফলে দীর্ঘ বছর পর বন্যা থেকে মুক্ত হলো উপকুলের লাখো মানুষ।

বাঁকখালী নদীর তাণ্ডব দেখেনি এমন মানুষ কক্সবাজারে কম।। বর্ষা এলেই নদীর পানি ফুঁসে উঠে  ডুবিয়ে দিতো লোকালয়। ভাসিয়ে নিতো মানুষের ভাগ্যও।

ফলে প্রতিবছর ঘর হারাতো মানুষ। বছরের পর বছর পানির নিচে থাকতো কৃষি জমি ও মাছের ঘের। প্রাণহানির চাইতেও জীবনের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্থ করছিলো বেশি।

কিন্তু দেড় বছর আগে পলি মাটি দিয়ে ভরাট হয়ে যাওয়া এই বাঁকখালী নদীতে নামে ড্রেজার। খননের পর বাড়ে গভীরতা।

ফলে দেড় বছরে বন্যার মুখামুখি হয়নি কক্সবাজার সদরের পিএমখালী, ঝিলংজা, রামুর চাকমারকুল, ফাতেখার কুল, মিঠাছড়ি ও রাজার কুলের আড়াই লাখ মানুষ।

এলাকার জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, নদীর তীরে পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় সিসি ব্লক বসানোর ফলে রক্ষা পেয়েছে ছয় হাজার একর জমি।

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা বলছেন, নদীর ৪০ কিলোমিটার জুড়ে প্রতিরক্ষা বাঁধ হলে নদী পাড়ের আরো ৩ লাখ মানুষ উপকৃত হবে।

আর কক্সবাজার জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী জানালেন, নিয়মিত খননের পাশাপাশি সিসি ব্লক দেয়ার পরিকল্পনা করছেন তারা।

বাঁকখালী নদীর খনন ও সিসিব্লক স্থাপনে খরচ হয়েছে একশ’ ৮৪ কোটি টাকা।