অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে জঙ্গি হামলায় সরাসরি নির্দেশ প্রদানের জন্যে অভিযুক্ত সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাস্তির ব্যাপারে সমানসংখ্যক আমেরিকানের দ্বিমত পাওয়া গেছে। কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটি পরিচালিত জাতীয়ভিত্তিক সর্বশেষ এক জরিপে ৪ ফেব্রুয়ারি এমন তথ্য উদঘাটিত হয়েছে। ইউএস সিনেটে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ইমপিচমেন্ট ট্রায়ালে ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করা উচিত কিনা সে আলোকে এ জরিপ চালানো হয়। এতে অংশগ্রহণকারি ডেমক্র্যাটদের ৮৬% ট্রাম্পকে শাস্তি প্রদান করা উচিত বলে মত দিয়েছে।

রিপাবলিকানদেরও ঠিক ৮৬%  বলেছেন যে, ট্রাম্পকে শাস্তির পরিবর্তে অব্যাহতি প্রদান করা উচিত। দলীয় সমর্থকদের মধ্যে সরাসরি এমন বিভাজনের ইঙ্গিতে ৩ নভেম্বরের জাতীয় নির্বাচনের প্রভাবই পরিলক্ষিত হলো। সেই নির্বাচনে ট্রাম্প পেয়েছেন ৭৪ মিলিয়ন ভোট এবং বাইডেন জয়ী হয়েছেন প্রায় ৮০ মিলিয়ন ভোটে।

এই জরিপে অংশগ্রহণকারি নির্দলীয় আমেরিকানদের ৪৯% ট্রাম্পের শাস্তি চেয়েছেন।

আর ট্রাম্পের বিচারের বিরোধিতা করেছেন ৪৫%। উল্লেখ্য, ৯ ফেব্রুয়ারি সিনেটে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এই বিচার শুরু হবে। ক্যাপিটল হিলে সন্ত্রাসী হামলায় সমর্থকদের উস্কে দেয়া এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণকে হত্যায় প্রবৃত্ত করাসহ নিরাপত্তা রক্ষী হত্যায় মদদদানের জন্যে ১৩ জানুয়ারি প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্পকে ইমপিচের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেটি হচ্ছে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফা ইমপিচের সিদ্ধান্ত, যা এর আগে আর কোন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ঘটেনি।

নির্বাচনী ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করার সময় এই হামলা চালানো হয় জো বাইডেনের বিজয়কে পাল্টে দিয়ে ট্রাম্পকে বিজয়ী ঘোষণার দাবিতে। অথচ কংগ্রেসের ঐ যৌথ অধিবেশনে ট্রাম্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সও ছিলেন এবং রিপাবলিকান সিনেটর-কংগ্রেসম্যানরাও ফ্লোরে ছিলেন।

জরিপে অংশগ্রহণকারিদের মধ্যে ৭৪% উল্লেখ করেছেন যে, উদ্দেশ্যমূলকভাবে অপপ্রচারণায় লিপ্ত সামাজিক গণমাধ্যমগুলোকে জবাবদিহিতার আইন দরকার। এমন প্রশ্নের জবাবে মাত্র ২০% বলেছেন যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ না করাই শ্রেয়।
ক্যাপিটল হিলে জঙ্গি হামলার মত অভ্যন্তরীণভাবে ভীতি সঞ্চারকারি লোকজনের ব্যাপারে বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ৪৮%।

ততটা বিচলিত বা উদ্বিগ্ন নন বলে জানিয়েছেন ২৭% আমেরিকান।

উল্লেখ্য, গত নির্বাচনের আগে থেকেই কোন কোন সামাজিক-মাধ্যম উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা প্রচারণা শুরুর পরই ঐসব মাধ্যমকে আইনের আওতায় আনার পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনার পরই এমন অভিব্যক্তি পাওয়া গেল সচেতন আমেরিকানদের মধ্য থেকে। নির্বাচনে কারচুপি-জালিয়াতি আর প্রতারণার যে উদ্ভট অভিযোগ ট্রাম্পের পক্ষ থেকে করা হচ্ছে তাকে বিস্তৃত করার ক্ষেত্রেও বেশ কিছু গণমাধ্যম দায়ী বলে মন্তব্য করা হয়েছে এই জরিপে। এ ধরনের মতলবী প্রচারণাকারিদের ইতিমধ্যেই প্রধান প্রধান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আমাজন, আপেল, ফেসবুক, গুগল নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ নিয়েছে। এমনকি সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকেও বেশ কটি মাধ্যম নিষিদ্ধ করেছে।

৩ নভেম্বরের নির্বাচনে ব্যাপক কোন কারচুপি কিংবা ভোট-ডাকাতি হয়েছে বলে এই জরিপে অংশগ্রহণকারিগণের ৫৯% মনে করেন না। মাত্র ৩৬% বিশ্বাস করেন যে ভোট চুরির ঘটনা ঘটেছে। জরিপে অংশগ্রহণকারিগণের ৭১% বিশ্বাস করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র হুমকির মুখে। এমন ধারণা পোষণকারিগণের ৮৫% রিপাবলিকান এবং ৬৭% হলেন ডেমক্র্যাট। আর স্বতন্ত্র হচ্ছে ৭০%।