আফগানিস্তানে অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষণা করেছে তালেবান। নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ। উপ-প্রধানমন্ত্রী করা হয়েছে দুজনকে। তারা হলেন তালেবানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা আবদুল গনি বারাদার ও মোল্লা আবদুল সালাম। তিন সপ্তাহ আগে আফগানিস্তানের বেশির ভাগ এলাকার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করার পর এই সরকার ঘোষণা করা হলো।

মোল্লা হাসান আখুন্দ দীর্ঘ দিন ধরে গ্রুপটির শূরার নেতা হিসেবে কাজ করছেন। তিনি বেশ প্রভাবশালী ও শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব। তিনি সামরিক বিভাগে সক্রিয় না হলেও ধর্মীয় বিষয়গুলোর তদারকিতে বেশি নজর দেন।

মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে তালেবানের প্রধান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ নতুন সরকারের ঘোষণা দেন। তিনি ৩৩ সদস্যবিশিষ্ট ‘নতুন ইসলামি সরকারের’ কথা ঘোষণা করে বলেন, বাকি পদগুলো সতর্ক বিবেচনার পর ঘোষণা করা হবে।

হাক্কানি নেটওয়ার্কের প্রধান সিরাজুদ্দিন হাক্কানি নতুন সরকারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন। যুক্তরাষ্ট্র তার মাথার মূল্য ৫০ লাখ পাউন্ড বলে ঘোষণা করে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্র হাক্কানি নেটওয়ার্ককে সন্ত্রাসী সংগঠন মনে করে।

নতুন সরকারে ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মোল্লা ইয়াকুব। তিনি তালেবানের প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমরের ছেলে এবং ২০১৬ সাল থেকে তালেবানের উপ-নেতা হিসেবে কাজ করছেন। ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন আমির খান মুত্তাকি। অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন হেদায়েতুল্লাহ বাদরি।

মুজাহিদ আরো বলেন, আমরা জানি যে আমাদের দেশের জনগণ একটি নতুন সরকারের জন্য অপেক্ষা করছিল।

মুজাহিদ বলেন, অন্যান্য মন্ত্রীর নাম শিগগিরই ঘোষণা করা হবে। তিনি জানান, মন্ত্রিসভায় সব গ্রুপের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে এবং ভবিষ্যতে অন্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

তিনি বলেন, আমাদের সরকার জাতিগতভিত্তিক হবে না। আমরা এ ধরনের রাজনীতি অনুমোদন করব না।

সরকারে কেন নারীদের কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই- এমন প্রশ্নের জবাবে তালেবান নেতা সেকান্দার কারমানি বলেন, মন্ত্রিসভা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

সূত্র : আল জাজিরা, বিবিসি, সিএনএন