সারা বিশ্বে পছন্দের খাবার আলু সহজলভ্য হওয়ায় সবার কাছে জনপ্রিয়তা রয়েছে। ফ্রেঞ্চ ফ্রাই থেকে শুরু করে সুস্বাদু পাকোড়া, আলু টিকিয়া, ভর্তা, সিদ্ধ এবং আরও নানা রকম মুখরোচক খাবার তৈরি হয় এই আলু থেকেই। অনেকের ধারণা আলু খেলে ওজন বাড়ে। কিন্তু গবেষণা বলছে ভিন্ন কথা। যদি আপনি স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকা অনুসরণ করেন এবং জাঙ্ক ফুড খাওয়া থেকে দূরে থাকেন, তাহলে আলু খেলে ওজন বাড়বে না। বরং সাদা এবং মিষ্টি আলু দুটিই ওজন কমাতে সাহায্য করে। কারণ আলুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে যা ওজন কমাতে ভূমিকা রাখে। এছাড়া আলু কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন এবং ফাইবারের দারুন উত্‍স।

যুক্তরাজ্যের কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১০০ গ্রাম সাদা আলুতে ৭৭ ক্যালরি, ২ গ্রাম প্রোটিন এবং ২ গ্রাম ফাইবার থাকে। এছাড়া এতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে, যা পেশী তৈরির জন্য এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য অপরিহার্য। এতে চর্বির পরিমাণ খুব কম থাকে। আলুতে থাকা কার্বোহাইড্রেট ওজন কমাতে সাহায্য করে।

তবে আলু যদি ক্রিম, পনির, মাখন এবং এই ধরনের ফ্যাটি জাতীয় উপাদানের সঙ্গে খাওয়া হয় তাহলে নিশ্চিত ওজন বাড়ায়। এছাড়া চিপস, আলু ভাজাও ওজন বাড়ায়। আসলে আলু খেলে ওজন বাড়বে কিনা সেটা নির্ভর করে এটা আপনি কিভাবে খাচ্ছেন তার উপর ভিত্তি করে। রান্না কিংবা সিদ্ধ আলু কখনোই ওজন বাড়ায় না।

প্রচলিত আছে, আলু খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়। আসলে গ্লাইসিমিক ইনডেক্স জাতীয় খাবার রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। আলু মাঝারি ধরনের গ্লাইসিমিক ইনডেক্স জাতীয় খাবার। এটা খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ খুব বেশি বাড়ে না। তবে কি উপায়ে আলু রান্না হয় সেটার উপর এটা নির্ভর করে। যদি আলু ডুবো তেলে ভাজা হয় তাহলে তা যেমন রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়ায় তেমনি ওজনও বাড়ায়।

সিদ্ধ আলু ডায়েট যা আপনার ওজন কমাতেও সাহায্য করবে। অনেকের এটা অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটাই বাস্তব। সাধারণত মনে করা হয় শরীরের জন্য আলু খারাপ, কারণ এতে ওজন বাড়ে। অতিরিক্ত আলু খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়তে পারে, ওজন বৃদ্ধির সম্ভাববনা থাকে। কিন্তু আমরা এনেছি একটা আলু ডায়েট যা আপনার ওজন কমাতেও সাহায্য করবে। অনেকের এটা অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটাই বাস্তব। আলুতে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে যা ইমিউনিটি বাড়ায়, এতে প্রচুর পটাসিয়ামও থাকে। আলু ডায়েট ক্যলোরি সমৃদ্ধ হওয়ায় এটা বেশিদিন চালালে কিন্তু উল্টো ফল হতে পারে।

আমেরিকার সিনেমা নির্মাতা, কমেডিয়ান, অভিনেতা তথা লেখক কেভিন স্মিথ দু’সপ্তাহ শুধু আলু খেয়ে ডায়েট করেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের পেন জিলেটির লেখা বেস্ট সেলার ‘প্রেস্টো! হাউ আই মেড ওভার হান্ড্রেড পাউন্ডস ডিজঅ্যাপিয়ার’ লেখাটি প্রকাশের পরে এই ডায়েট আরও প্রচলিত এবং জনপ্রিয় হয়। প্রাক্তন অস্ট্রেলিয় স্পোর্টসপার্সন অ্যান্ড্রু ফ্লিন্ডার্স টেলর দাবি করেছিলেন, এক বছর ধরে এই ডায়েট অনুসরন করে তিনি পঞ্চাশ কেজি ওজন কমিয়েছেন। এই ডায়েটে দিনের তিনবেলার খাবারেই আলু রাখতে হয়।

ওজন কমাতে বিশেষজ্ঞেরা এ জন্য ম্যাশড পটেটো, বেকড ও হার্বড পটেটোর মতো লো ক্যালোরি পদ খেতে বলেন। শরীরের ওজন কমাতে সিদ্ধ আলু ডায়েটে টানা পাঁচ দিন খেয়ে থাকতে হবে! কীভাবে সম্ভব এমন প্রশ্নের জবাব আগেই দিয়ে রেখেছেন ‘ইয়োরোপিয়ান ফুড ইনফরমেশন কাউন্সিলের গবেষকরা। গবেষকরা বলছেন, ওজন কমাতে মাসের পর মাস জিমে গিয়ে ঘাম ঝরানো, সকাল-বিকাল পার্কে দৌড়ানো, নানা ধরনের যন্ত্রাদি কিনে পয়সা খরচ করানো চাইতে পাঁচ দিন সিদ্ধ আলু খাওয়াটাই অনেক কম কষ্টের। আর বিষয়টি ফলদায়কও।

পটেটো ডায়েটেকে কাজে লাগিয়ে ওজন কমাতে চাইলে টানা পাঁচ দিন যেমন শুধু সেদ্ধ আলু খেতে হবে, তেমনি আরও কিছু নিয়ম মেনে চলার প্রয়োজন রয়েছে, না হলে কিন্তু সেভাবে সুফল মিলবে না। প্রসঙ্গত, এক্ষেত্রে যে যে বিষয়গুলো মাথায় রাখা একান্ত জরুরি, সেগুলো হল-

আলু সিদ্ধ বানানোর সময় তাতে অল্প করে সামুদ্রিক লবণ মেশাতে পারেন। তবে যদি সম্ভব হয়, তাহলে একেবারে লবণ খাবেন না। কারণ এমনটা করলে ফল মিলবে দ্রুত।

আলু সিদ্ধ ছাড়া কিন্তু এই পাঁচদিন আর কিছু খাওয়া চলবে না। তবে ইচ্ছা হলে লাল চা, হার্বাল টি এবং কপি পান চলতেই পারে। কিন্তু এমন পানীয়তে ভুলেও দুধ বা চিনি মেশালে চলবে না কিন্তু!

পটোটো ডায়েট মেনে খাওয়া-দাওয়া করার সময় হেভি ওয়ার্কআউট করলে কিন্তু বিপদ! তবে ইচ্ছা হলে অল্প বিস্তর হাঁটাহাঁটি চলতে পারে।

এই বিশেষ ধরনের ডায়েট মেনে চলাকালীন প্রয়োজনীয় সব ওষুধই খেতে পারেন। কিন্তু ভুলেও ডায়াটারি সাপ্লিমেন্ট নেওয়া চলবে না।

টানা পাঁচ দিন আলু ছাড়া আর কিছু যে খাওয়া চলবে না, সে তো না হয় জেনে গেলেন! কিন্তু কতটা পরিমাণে আলু খেতে হবে জানেন কি? এক্ষেত্রে যতক্ষণ না পর্যন্ত পেট ভরছে, ততক্ষণ আলু সেদ্ধ খেতে পারেন। তবে ২টি সিদ্ধ আলু খাওয়ার পর দেখবেন পেট এমন ভরে যাবে যে আর খেতেই পারবেন না!

প্রসঙ্গত, এই নিয়মগুলো মেনে আলু সিদ্ধ খাওয়া শুরু করলে ওজন তো কমবেই, সেই সঙ্গে কিন্তু আরও একাধিক শারীরিক উপকারও মিলবে।