দেশের প্রবীণতম আলেম এবং প্রাচীনতম মাদ্রাসা চট্টগ্রামের আল জামেয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার মুহতামিম বা মহাপরিচালক এবং হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না বলে দাবি করেছেন হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাছসহ কিছু আলেম। তারা এর বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন।

গত শুক্রবার ( ২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘আল্লামা আহমদ শফীর জীবন ও কর্ম’ শীর্ষক আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠানে এ দাবি জানানো হয়।

তবে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মৃত্যু স্বাভাবিকভাবেই হয়েছে জানিয়ে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, হযরতের (আহমদ শফী) মৃত্যু স্বাভাবিকভাবেই হয়েছে, সম্মানের সঙ্গে হয়েছে। তার মৃত্যু অস্বাভাবিকভাবে হয়নি।

এক ভিডিওতে এসব কথা বলেন বাবু নগরী। কওমি ভিশনের ব্যানারে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে আলোচিত ফেসবুক আইডি উসামা মুহাম্মদের টাইমলাইন থেকে।

এতে তিনি আরো বলেন, হযরত আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। যখন বেশি অসুস্থ হয়ে গেছেন, তখন তাকে মজলিশে শুরার সদস্যরা হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। সেখানে তিনি কিছুটা সুস্থ হলেও শ্বাসকষ্ট ছিলো। তাই পরে তাকে ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পরে ১৮ তারিখ শুক্রবার হযরত ইন্তেকাল করেন। এই ইন্তেকালটি স্বাভাবিক, অস্বাভাবিক হয় নাই। হযরতকে কেউ খুন করে নাই, খুন করার কোন প্রশ্নই নাই। যেখানে সকলের চোখের অশ্রু ঝরেছে, সবাই হযরতে আশেক। খুন কে করবে? হযরতের দুশমন এখানে কেউ নাই, সব দোস্ত, বন্ধু, আশেক, ছাত্র, মুরিদান, খুলাফা। সুতরাং হযরতের মৃত্যু স্বাভাবিকভাবেই হয়েছে। এটা হাকিকত, এটা বাস্তব। এর বিপরীত যদি কেউ বলে, হযরতের লাশ নিয়ে যদি কেউ রাজনীতি করে; হযরতের মৃত্যু অস্বাভাবিকভাবে হয়েছে, তাকে খুন করা হয়েছে, এসব কথা যারা বলে, এগুলো নির্ভেজাল মিথ্যা ছাড়া কিছু নয়। আপনারা এগুলোর দিকে কান দেবেন না। এগুলোর দ্বারা মাদ্রাসার আরো ক্ষতি হবে। পরিবেশ অশান্ত হয়ে যাবে।

বাবুনগরী আরো বলেন, কেউ কেউ বলছে এটা সরকারিভাবে তদন্ত করা হোক। এটা যদি করা হয় তবে হযরতের লাশ কবর থেকে তোলা হবে। এটা করলে হযরতের সঙ্গে চরম বেয়াদবি করা হবে, চরম বেয়াজ্জতী হবে। এসব মিথ্যাচার, প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে মাদ্রাসাকে ধ্বংস করার জন্য। আমরা জান দিয়ে হলেও এই মাদ্র্রসাকে হেফাজত করবো ইনশা আল্লাহ।