প্রেস বিজ্ঞপ্তি: জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেন প্রথমবারের মতো কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকদের নিয়ে নারীপুরুষ বৈষম্যহীন সাংবাদিকতা সম্পর্কে “ ফার্স্ট জানালিস্ট ডায়লগ অন জেন্ডার রেসপনসিভ জার্নালিজম” শীর্ষক একটি আলোচনা সভা করেছে। মঙ্গলবার সকালে কক্সবাজারে একটি হোটেলের সম্মেলন কক্ষে এই সভার আয়োজন করে সংস্থাটি।
অনুষ্ঠানটিতে স্বাগত বক্তব্য দেন ইউএন উইমেন কক্সবাজারের জেনডার এন্ড হিমেনিটারিয়ান অ্যাকশন প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট মেরী সোফি পিটারসন।

আলোচনা সভায় ইউএন উইমেন কক্সবাজারের কর্মসূচী সম্পর্কে বলেন ইউএন উমেন কক্সবাজারের ন্যাশনাল প্রোগ্রাম অফিসার নুসরাত জহির এবং সুলতানা নাসরিন।
স্থানীয় সাংবাদিকদের উপর জেন্ডার রেসপনসিভ সাংবাদিকতা, নারীদের সাংবাদিক পেশায় অবস্থান, বাধা-বিপত্তি এবং সকল সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ইউএন উইমেন একটি জরিপ করেছিলো। সেই জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন ইউএন উইমেন কক্সবাজারের কমিউনিকেশনের দ্বায়িত্বে থাকা মাহমুদুল করিম।
পরবর্তীতে সাংবাদিকদের সাথে কিভাবে কাজ করলে অথবা কি ধরণের সহায়তা করলে কক্সবাজারে সাংবাদিকদের দক্ষতার আরো উন্নয়ন করা যায় এবং মেয়েদের এই পেশাতে নিরাপত্তা বিধান এবং কিভাবে আরো বেশী সম্পৃক্ত করা যায় সে সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
দ্য নিউজ টুডে’র সাংবাদিক মমতাজউদ্দিন বাহারী বলেন, “প্রশিক্ষণের পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে সাংবাদিকদের নীতিমালা পাশ করতে হবে এবং সাংবাদিকদের বেতনভাতা বৃদ্ধি করতে হবে।”
ভয়েস অব আমেরিকার প্রতিনিধি মোয়াজ্জেম হোসেন শাকিল বলেন,“এই প্রথম কোনো সংগঠনকে দেখলাম আমাদের কাছে জানতে চেয়েছে যে সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়নে আমরা কিভাবে একসাথে কাজ করতে পারি। আমার দীর্ঘ পেশা জীবনে অনেকগুলো ট্রেনিং করেছি, পেশাগত উন্নয়নে ট্রেনিংয়ের কোনো বিকল্প নেই।”
চ্যানেল আইয়ের প্রতিবেদক সরওয়ার আজম মানিক বলেন, “নারীর প্রতি বৈষম্যহীন এবং সংবেদনশীল রিপোটিংয়ের একটি দীর্ঘ মেয়াদি কর্মশালা চাই এবং মহিলা সাংবাদিকদের জন্য একটি রির্পোটিং প্রতিযোগীতার আয়োজন এবং প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা যেতে পারে।”
এনটিভির প্রতিবেদন একরাম চৌধুরী টিপু বলেন,“আমাদের কক্সবাজারের সাংবাদিকরা খুবই নিগৃহীত। ২০১৭ সালে যখন প্রথম রোহিঙ্গা সংকট দেখা দেয় তখন এই কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকরাই সবার আগে এগিয়ে আসে এবং এই সংকট সম্পর্কে বিশ^বাসীকে জানানোর প্রাথমিক কাজটি আমরাই করেছিলাম। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থাগুলোকে আমি আহ্বান করবো কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়নে একসাথে কাজ করার জন্য।”
দ্য টেরিটোরিয়েল নিউজের সাংবাদিক জেসমিন আক্তার জেসিয়া বলেন, “সাংবাদিকতায় আমাদের এখনো নারীদের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়নি। আমাদের আগে সমাজে এবং পরিবারে নারীদের সাংবাদিক হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা তৈরী করতে হবে। আমার এই পেশার আসার ক্ষেত্রে প্রথম বাধা আসে পরিবার থেকে। আমার মনে হয় আগে আমাদের এই সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করতে হবে।”
দ্য টেরিটোরিয়াল নিউজে অন্য দুই সাংবাদিক মরিয়ম নুপুর এবং জান্নাতুল নাইম জেরিন বলেন,“শুধু পরিবারেই নয় সমাজেও সাংবাদিকতায় নারী হিসেবে গ্রহণযোগ্যতার অভাব দেখি।

আমরা কোথাও গেলে যেনো মনে পুরুয় সহকর্মীদের চাইতে একটু কম মুল্যায়ণ পাচ্ছি। সাংবাদিকতায় কাজের ক্ষেত্রে পুরুষের চাইতে নারীদের যেন বাধা অনেক বেশী।”
সময় টেলিভিশনের প্রতিনিধি সুজাউদ্দিন রুবেল বলেন,“আমাদের দেশে সাংবাদিকতা একটি গুরুমুখী বিদ্যা। আমরা দীর্ঘদিন সিনিয়র সাংবাদিকদের সাথে কাজ করে কাজ শিখেছি। আমাদের নারী সহকর্মীদের অনুরোধ করবো তোমরা তোমাদের অসুবিধার কথা আমাদেরকে বলবে। আমরা চেষ্টা করবো কিভাবে আরো ভালোভাবে কর্মসম্পাদনে তোমাদের সহায়তা করা যায়।”
মেরী সোফি বলেন,“আমরা আপনাদের সকল মন্তব্যগুলো নিয়েছি। এগুলো যাচাই বাছাই করে আমরা ইউএন উইমেন থেকে যতটুকু সহযোগিতা করা সম্ভব আমরা করবো। আমাদের নারীদের এই পেশায় দক্ষতা উন্নয়নে এবং শুধু নারীদের নয় নারীপুরুষ সবাইকে নিয়ে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা বয়েছে। এক্ষেত্রে আপনাদের সহায়তা ছাড়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আমরা আপনাদের পুর্ণাঙ্গ সহায়তা কামনা করছি।”
সকল সাংবাদিকগণ তাদের আইটি দক্ষতার উপর ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করার জন্য ইউএন উইমেনকে অনুরোধ করেন এবং সাংবাদিকদের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির ব্যপারে সহায়তা চান।
উল্লেখ্য যে, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে ইউএন ইউমেন স্বল্প সংখ্যক সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানায়। পর্যায়ক্রমে সকল সাংবাদিকদের নিয়ে আলোচনা সভার পরিকল্পনা আছে বলে উল্লেখ করেন।