দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রান্তিক জনগোষ্ঠিকে টিকার আওতায় আনতে এবার ইউনিয়ন পর্যায়েও কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ফলে টিকা গ্রহীতারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে না গিয়ে ঘরের পাশেই গ্রহণ করতে পারবেন টিকা। তবে আলোচ্য এসব কেন্দ্রে প্রতিদিন টিকা প্রদান করা না হলেও আপাতত সপ্তাহে দুইদিন দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগের। যা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর  থেকে সংশ্লিষ্টদের কাছে নতুন পরিকল্পনার ছকও ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, জেলা ও সিটি কর্পোরেশন এলাকাগুলোতে চলমান স্থায়ী টিকা কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনে দুই শিফটে অর্থাৎ সকাল-বিকেল টিকাদান চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছে জাতীয় ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা টাস্কফোর্স কমিটি। একই সঙ্গে নিয়মিত টিকাদান কেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি আরও অস্থায়ী কেন্দ্র ও বুথ বাড়ানোরও পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, এ বিষয়ে তাদের কাজ চলমান রয়েছে। তবে জনবল সংকটের কারণে সেটি বাস্তবায়নে বাধাও হতে পারে বলে ধারণা কারও কারও। অন্যদিকে, দেরিতে হলেও স্বাস্থ্য বিভাগের এমন সিদ্ধান্ত সংক্রমণ রোধে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে বলে মত সংশ্লিষ্টদের। তবে চিঠির মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত না থেকে দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।

এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা ট্রাস্কফোর্স কমিটির সদস্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ও লাইন ডাইরেক্টর (এমএনসিএন্ডএইচ) ডা. মো. শামসুল হক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সাত নির্দেশনা দেয়া হয়। যাতে টিকাদান কেন্দ্র ও বুথ বৃদ্ধি, ইউনিয়ন পর্যায়ে সপ্তাহে দুইদিন টিকাদান, অনিবন্ধিতদের স্পট রেজিস্ট্রেশন, স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিবার কল্যাণ সহকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা রেজিস্টেশনে সহায়তা, টিকা প্রদানের সময় বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়া হয়।

এসব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘ইউনিয়ন পর্যায়ে টিকা কেন্দ্র স্থাপনের নির্দেশনা এসেছে। সে বিষয়ে ইতোমধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। উনারাই নতুন কেন্দ্রগুলো নির্ধারণ করে আমাদের জানাবেন। তবে যেহেতু স্কুল খুলেছে সেখানে কেন্দ্র স্থাপন করা যাবে না, আবার সবসময় কমিউনিটি সেন্টারগুলোতেও এ কার্যক্রম চালানো যাবে না। তাই বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আশা করছি অক্টোবর মাস থেকেই এ কার্যক্রম শুরু করা যাবে।’

এদিকে নির্দেশনা অনুযায়ী, নতুন নিবন্ধনকারীকে অবশ্যই তার সংশ্লিষ্ট উপজেলা কেন্দ্রে নিবন্ধন করতে হবে। এসএমএস পাওয়া সাপেক্ষে স্ব স্ব ইউনিয়নের নির্ধারিত কেন্দ্র হতে টিকা গ্রহণ করতে হবে। আইসিটি বিভাগ ইউনিয়নের নাম উল্লেখ করে টিকা গ্রহণের জন্য এসএমএস প্রদানের ব্যবস্থা করার বিষয়ে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করা হয় তাতে। স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান বলেন, ‘এমন সিদ্ধান্ত আরও আগে নেয়া উচিত ছিল। তবে দেরিতে হলেও এ বিষয়টি দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা দরকার। অল্প সময়ের মধ্যে যদি অধিক মানুষকে টিকার আওতায় আনা যায়, তাহলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বাধা থাকবে না। এ কাজে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের যুক্ত করা যেতে পারে বলেও পরামর্শ এ চিকিৎসক নেতার।’