ইতিহাসের সামনে বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল। সোমবার নেপালকে হারালেই প্রথমবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা। এবারের নারী সাফ চাম্পিয়নশিপে অদম্য বাংলাদেশ।

দলের বোঝাপড়া, সাবিনা-মারিয়াদের পরিণত ফুটবল লাল-সবুজের বড় আত্মবিশ্বাস। অন্যদিকে ঘরের মাঠে দর্শকদের সমর্থন নেপালের শক্তি। ম্যাচ শুরু বাংলাদেশ সময় বিকেল সোয়া ৫টায়।

শিরোপা লড়াইয়ের প্রায় ২৪ ঘণ্টা আগে দুই অধিনায়কের ট্রফি নিয়ে ফটোসেশন, ফরোয়ার্ড সাবিনার পাশে নেপাল গোলরক্ষক অঞ্জিলা।

বলা যায় ফাইনালে দুইদলেরই বড় ভরসার জায়গায় এই দুই জন। লাল-সবুজ অধিনায়ক দারুণ ফর্মে, আসরে ৮ গোল কোরে দলকে টেনে নিয়েছেন ফাইনালে।

আর একটা ৯০ মিনিট, আর একবার মেয়েদের বাজিমাতেই হতে পরে দেশের ফুটবলের নতুন ইতিহাস। সেই ক্ষণেরই অপেক্ষায় সাবিনা, আঁখি, রিতু চাকমা, মনিকা, মারিয়ারা।

পরিসংখ্যান অবশ্য বাংলাদেশের বিপক্ষে। ৬ দেখায় পাঁচবারই হেরেছে বাংলা, একটি ড্র চার বছর আগে। তবে বয়সভিত্তিক পর্যায়ে নেপালের বিপক্ষে পাওয়া একাধিক জয়, আর বর্তমান দলের জয়ধারা, কোচকে যোগাচ্ছে আত্মবিশ্বাস।

দলের প্রধান কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন বলেন, বাংলাদেশ সাফ ফুটবল শিরোপা জয়ের লক্ষ্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। দল ফাইনালের জন্য মানসিক ও ফিজিক্যালি ফিট।

নেপালকে খুব শক্তিশালী দল হিসাবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, স্বাগতিকদের বিপক্ষে খেলা সব সময়ই কঠিন। তারপরও আমরা চার ম্যাচে দুর্দান্ত  খেলেছি। মেয়েরা ভাল খেলেছে।

ছোটন বলেন, আমরা  মানসিকভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। মেয়েরা লড়তে প্রস্তুত। গোলকিপারসহ রক্ষণে যারা রয়েছে তারা ভাল করছে। আমাদের সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করবো।

নেপালের দলটির বড় তারকা ফরোয়ার্ড সাবিত্রা ভান্ডারি, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত থাকায় ফাইনালে অনিশ্চিত। তবে ঘরের দর্শকদের সামনে ইতিহাস গড়ার হাতছানি স্বাগতিকদেরও।

নেপালের দলনায়ক অঞ্জিলা সুব্বা বলেন, শারীরিক ও মানসিকভাবে আমরা প্রস্তুত। জানি বাংলাদেশ শক্তিশালী দল, তবে আমরাও ঘরের মাঠে তাদেরকে ছাড় দেবো না।

হেড কোচ কুমার থাপা বলেন, বাংলাদেশ এবারের আসরের সেরা দল। টিম স্পিরিট, গোছালো ফুটবল খেলে ওরা ওদের শক্তির জানান দিয়েছে। তবে, ফাইনালে যে কোনো কিছুই ঘটতে পারে। এখানে চাপ ধরে রাখার মতো বিষয় রয়েছে।

নেপালের বৃষ্টি, আর টানা ম্যাচের ক্লান্তি কাটাতে ম্যাচের আগের দিন অনুশীলন করেনি টিম বাংলাদেশ। চোট থাকায় শুরুর একাদশে না থাকার সম্ভাবনা সিরাত জাহান স্বপ্নার।