ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের আঘাত থেকে মানুষের জানমাল ও প্রাণিসম্পদ রক্ষায় সাগরে বুকে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে প্রস্তুত রয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। পাশাপাশি লোকজনকে নিরাপদে থাকতে মাইকিং করে সর্তক থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া টেকনাফের উপকূল শাহপরীর দ্বীপে বিশেষ নজরদারি রয়েছে। এই দুর্যোগে উপজেলায় আশ্রয়কেন্দ্রসহ প্রায় শতাধিক হোটেল-মোটেল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সোমবার (২৪ মে) সন্ধ্যায় সেন্টমার্টিনের বিষয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ আইনশৃঙ্খলাবাহিনীসহ প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি জুম মিটিং করেছেন বলে জানিয়েছেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ পারভেজ চৌধুরী।

মিটিংয়ে দ্বীপকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে ইউএনও পারভেজ চৌধুরী বলেন, ‘সাগরের বুকে জেগে উঠা বিচ্ছিন্ন দ্বীপ সেন্টমার্টিনকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যেহেতু দ্বীপের দশ হাজারের বেশি বাসিন্দা রয়েছে। তাছাড়া আমাদের থেকে সেটি বিচ্ছিন্ন। তাই দুর্যোগ মোকাবিলায় দ্বীপের জন্য আমাদের নৌবাহিনীও প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি দ্বীপে বিজিবি, পুলিশ, কোস্টগার্ড সদস্যরা সর্তক অবস্থানে রয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে সেন্টমার্টিন ও শাহপরীর দ্বীপে হোটেল-মোটেলসহ অর্ধশতাধিক আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিশেষ করে দুই দ্বীপের (সেন্টমার্টিন-শাহপরীর দ্বীপে) বাসিন্দাদের মাইকিং করে সর্তক থাকতে বলা হয়েছে। অবস্থা অবনতি হলে প্রয়োজনে তাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্বেচ্ছাসেবী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় সংস্থার আশ্রয়কেন্দ্র নিয়ে যাওয়া হবে। বিশেষ করে দ্বীপের লোকজন যাতে আশ্রয় নিতে পারে সেজন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী ও স্কুল, আবহাওয়া অফিস, ডাকঘর, হোটেলগুলো খোলা রাখতে বলা হয়েছে।’

এদিকে আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়, পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগরে এবং এর আশপাশের এলাকায় সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ইয়াস দুপুর পর্যন্ত প্রায় একই এলাকায় অবস্থান করছিল। এটি দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৬৮৫ কিলোমিটার থেকে কিছুটা এগিয়ে ৬৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছে। কক্সবাজার থেকে ৬৯৫ কিলোমিটার থেকে ৬০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে এগিয়েছে। কিন্তু মোংলা ও পায়রা থেকে একই দূরত্বে আছে এখনও। মোংলা বন্দর থেকে ৬৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রাবন্দর থেকে ৬০৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছে।

দ্বীপের বাসিন্দা আবদুল মালেক বলেন, বিকাল থেকে দ্বীপে বাতাসের বেগ বেড়েছে। ঘূর্ণিঝড় আসলে দ্বীপের বাসিন্দাদের নির্ঘুম রাত কাটে। কেননা সাগরের মাঝে আমাদের বসতি। এছাড়া আগের তুলনায় দ্বীপের অবস্থা ভালো না। সাগরে সামান্য পানি বাড়লে দ্বীপের চারদিক ডুবে যায়। শুনেছি ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ শক্তিশালী। তাই আমার মতো দ্বীপের সব বাসিন্দাই ভয়ে আছেন।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদ বলেন, ‘দ্বীপের লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার সেই পরিস্থিতি এখনও হয়নি। তবে অন্যদিনের তুলনায় সাগরের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্বীপবাসীদের সর্তক থাকতে বিকাল থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। তাছাড়া দ্বীপের দ্বিতীয় তলা হোটেল-মোটেল সব প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদের একটি টিম, রেডক্রিসেন্টের লোকজন ও দ্বীপে দায়িত্ব থাকা বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সর্তক অবস্থানে রয়েছে। অবস্থা খারাপ হলে প্রয়োজনে দ্বীপের সবাইকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হবে।’ অন্যদিকে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে জানান তিনি।

সূত্র: বাংলাট্রিবিউন