উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের ৪ টি ওয়ার্ড যথাক্রমে ২, ৫, ৬ এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চলমান লকডাউন ৬ জুনের পর আরো ৭ দিন বর্ধিত করে ১৩ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে পুরো উখিয়া উপজেলায় চলমান কঠোর বিধিনিষেধ বহাল থাকবে।

উখিয়ার ইউএনও নিজাম উদ্দিন আহমেদ সিবিএন-কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের উল্লেখিত ৪ টি ওয়ার্ডকে ‘রেডজোন’ হিসাবে চিহ্নিত করে গত ১ জুন রাত ১২ টা থেকে ৬ জুন রাত ১২ টা পর্যন্ত লকডাউন ঘোষনা করা হয়েছিল।

ইউএনও নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, সম্প্রতি রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্প ও উখিয়ায় করোনা সংক্রামণ আশংকাজনক ভাবে বেড়ে যাওয়ায় জেলা করোনা সংক্রামণ প্রতিরোধ কমিটির সিদ্ধান্তের আলোকে লকডাউনের মেয়াদ বৃদ্ধি ও কঠোর বিধিনিষেধ বাড়ানোর এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিধিনিষেধ চলাকালে দূরপাল্লার বাসসমূহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৫০ ভাগ যাত্রী নিয়ে সোমবার ৭ জুন থেকে চলাচল করতে পারবে।অন্যান্য গণপরিবহন এর ক্ষেত্রে চলমান নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। কেবলমাত্র অত্যাবশ্যকীয় ক্ষেত্রে চলাচল করতে পারবে।

হোষ্ট কমিউনিটিতে কার্যক্রম চালানো এনজিওসমূহ শুধুমাত্র অত্যাবশকীয় জরুরী সেবা, উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে পরিচালনা করতে পারবেন। রোহিংগা ক্যাম্পে কার্যক্রম পরিচালনাকারী আইএনজিও/এনজিও সমূহ শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) এর কার্যালয় প্রদত্ত নির্দেশনা প্রতিপালন করবেন।

হাটবাজার ও দোকানপাট এর ক্ষেত্রে চলমান বিধিনিষেধ বহাল থাকবে। অতীব জরুরী প্রয়োজন ব্যাতীত ঘরের বাইরে বের হওয়া থেকে এবং হাটবাজার, চা এর দোকান, হোটেল রেস্তোরায় অহেতুক ঘোরাফেরা হতে বিরত থাকতে ইউএনও নিজাম উদ্দিন আহমেদ উখিয়ার নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরিধান করতে তিনি সবার প্রতি আহবান জানান।

উখিয়ার ইউএনও নিজাম উদ্দিন আহমেদ এক পরিসংখ্যান দিয়ে বলেন, গত ১ মাসে উখিয়া উপজেলায় প্রায় ৪০০ এর বেশি স্থানীয় জনগোষ্ঠী করোনা পজিটিভ হয়েছেন। এর মধ্যে ২ শত জনেরও বেশি রোগী পাওয়া গেছে রাজাপালং ইউনিয়নে। তারমধ্যে আবার শুধুমাত্র রাজাপালং এর ২, ৫, ৬ এবং ৯ নম্বর এই চার ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা ১০০ জনেরও বেশি।

এ অবস্থায় বিনা প্রয়োজনে হাটবাজার বা জনসমাগমস্থল এড়িয়ে চলতে তিনি নাগরিকদের প্রতি আহবান জানান।

এদিকে, ৫ জুন পর্যন্ত উখিয়া উপজেলায় কক্সবাজার জেলার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪৪৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। তারমধ্যে, স্থানীয় নাগরিক ১ হাজার ৩১৫ জন এবং রোহিঙ্গা শরনার্থী ১ হাজার ১২৮ জন। সিবিএন