ব্যবহৃত মাস্ক পরিষ্কার না করে বারবার পরলে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শারফুদ্দিন আহমেদ। ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা মিউকরমাইকোসিস নিয়ে সবাইকে সচেতন ও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বিএসএমএমইউর উপাচার্য এই কথা জানান।

উপাচার্য শারফুদ্দিন বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলার সংখ্যা ৩৫টি। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, যশোর, সাতক্ষীরা, পঞ্চগড়সহ বেশ কয়েকটি জেলার মানুষ তাদের জন্য নিকটবর্তী হওয়ায় ভারতে বেশি পরিমাণে যাওয়া-আসা করে থাকে। ফলে এই মানুষদের ভারতের ডাবল মিউট্যান্ট ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেশি। ভারতের ভ্যারিয়েন্টটি এক থেকে বিশজন, বিশজন থেকে চারশজন পর্যন্ত আক্রান্ত করে থাকে। এই অবস্থায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ভয়াবহতা রোধ করতে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে কঠোর লকডাউন বাস্তবায়ন করতে হবে- যাতে করে সীমান্তবর্তী জেলার মানুষ পার্শ্ববর্তী জেলাসহ ঢাকা শহর ও অনান্য শহরে না যেতে পারে এবং ওইসব জেলায় যাতে অন্য জেলার মানুষ প্রবেশ করতে না পারে।’

বিএসএমএমইউর উপাচার্য বলেন, ‘ভারত থেকে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে বৈধ বা অবৈধভাবে বাংলাদেশে যারাই আসুক না কেন তাদেরকে অবশ্যই কোয়ারেন্টাইনে রাখতে হবে। যেহেতু সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই চিকিৎসাব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, কঠোর লকডাউন বাস্তবায়ন করা এবং যারা ভারত থেকে বাংলাদেশে আসছে তাদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই।’

অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বর্তমানে ভারতে এই ফাঙ্গাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এই জীবাণু বা ফাঙ্গাস বা ছত্রাক প্রাণীদের বিষ্ঠায়, বাসি খাবার, বাসি ফল, ফ্রিজে দীর্ঘদিন ধরে রাখা সংরক্ষিত খাদ্য সামগ্রী, অপরিষ্কার মাস্ক, অক্সিজেন ও আইসিইউর হিউমিডিফায়ারের মাধ্যমে সংক্রমিত হতে পারে। যারা অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে ভুগছেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদির ধরে ভুগছেন, ক্যানসারে আক্রান্ত রোগী, অতিরিক্ত ব্রড-স্পেকট্রাম অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার, অন্তসত্ত্বা মহিলা, অত্যাধিক স্টেরয়েড নেয়া রোগী, কিডনি বা অন্য অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা রোগী এবং চরম অপুষ্টিজনিত রোগীদের ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।’

উপাচার্য বলেন, ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের রাইনো-অরবিটাল-সেরিব্রাল ধরনটি নাক দিয়ে ঢুকে চোখ ও মস্তিষ্কে প্রবেশ করতে পারে। তাই এই জীবাণুটি আমাদেরকে যাতে আক্রান্ত না করে সেজন্য এখনই আমাদের সবাইকে অধিকতর সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।’

অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা মিউকরমাইকোসিসে আক্রান্ত রোগীদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য বিএসএমএমইউয়ে চক্ষু বিজ্ঞান বিভাগ, কমিউনিটি অফথালমোলজি বিভাগ, নাক কান ও গলা বিভাগ, ভাইরোলজি বিভাগ, অ্যানেসথেসিয়া (আইসিইউ) বিভাগসহ বেশ কয়েকটি বিভাগের সমন্বয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। যে বোর্ডের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেবেন।’ তিনি ব্ল্যাক ফাঙ্গাস নিয়ে জনগণকে কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে বা আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে শনিবার উপাচার্য তার কার্যালয়ে বিএসএমএমইউর ডিনদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় মিলিত হন। সভায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সাথে সাথে নন কোভিড রোগী এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রয়োজন এমন রোগীদের চিকিৎসাসেবা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।