স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে কলেজে পড়াশুনা শুরুর পর বড় ধাক্কার মুখোমুখি হতে হয় শিক্ষার্থীদের। বিশাল সিলেবাস আর দুই বর্ষ মিলিয়ে উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষা। এতে করে বাড়তি চাপ নিতে হতো শিক্ষার্থীদের। কোচিং সেন্টার নির্ভর হয়ে পড়তো পড়ালেখা।

প্রস্তাবিত নতুন শিক্ষা ব্যবস্থায় নেই চাপ থেকে অবশেষে মুক্তি পেতে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এতে বলা হয়েছে, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার ফল মিলে হবে এইচএসসির ফল।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সোমবার জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা উপস্থাপনের পর সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি এসব কথা জানান।

তিনি জানান, পরিমার্জিত কারিকুলামের খসড়ায় প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন। শ্রেণিকক্ষেই পাঠদান সম্পন্ন করার ব্যবস্থা রেখে পরিমার্জিত কারিকুলাম প্রণয়ন করা হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বই ও শিক্ষা কার্যক্রম পাল্টে যাবে। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলে তা কার্যকর হবে। ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোকেও তা মানতে হবে।

এসএসসি পরীক্ষার আগে কোনও পাবলিক পরীক্ষা থাকবে না। অর্থাৎ পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা থাকছে না।

২০২৩ সাল থেকে শুরু করা কারিকুলামে শুধু দশম শ্রেণির পাঠ্যক্রমের ওপর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

আর, এইচএসসি বা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল নির্ধারণ হবে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার ফলের ওপর। সেভাবেই পাঠ্যক্রম সাজানো হবে।

মন্ত্রী জানান, তৃতীয় শ্রেণির আগ পর্যন্ত কোন ফাইনাল পরীক্ষা নেই। এতে করে পরীক্ষা নামের আতংক ও বোঝা থেকে মুক্তি পাচ্ছে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা।

মাধ্যমিক পর্যন্ত সবাইকে সব বিষয়ে পড়াশুনা করতে হবে। মাধ্যমিকের আগে কোন পাবলিক পরীক্ষা থাকছে না। আর শুধুমাত্র দশম শ্রেণির পাঠ্যক্রম দিয়েই হবে মাধ্যমিক পরীক্ষা।

অন্যদিকে, উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষা দুই ভাগে চূড়ান্ত হচ্ছে। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর পাঠ্যক্রমের উপর আলাদা ফাইনাল পরীক্ষা হবে। দুইয়ের যোগে চূড়ান্ত হবে ফল।

এতে করে দুই বর্ষের চাপ এক সঙ্গে নিতে হচ্ছে না শিক্ষার্থীদের। কলেজের প্রথম বর্ষ শেষে হবে একটি ফাইনাল পরীক্ষা। একই ভাবে দ্বিতীয় বর্ষ শেষ হবে আরেকটি পরীক্ষা।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, নতুন কারিকুলামে কারিগরি শিক্ষাকে উৎসাহিত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শেষ করে সেটি আদায়ের জন্যও নির্দেশনা থাকবে নতুন পাঠ্যক্রম।