মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম বলেছেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরবর্তী সরকারগুলো বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। ওই সময় জিয়াউর রহমান সরকার বাংলাদেশকে পাকিস্তানি ভাবধারায় ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরবর্তী সময়ে এরশাদ ও খালেদা জিয়ার সরকারও এই দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নানাভাবে হয়রানিসহ দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করেছিল।

শনিবার পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মালম্বীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সকালে স্বরূপকাঠি পূজা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিভিন্ন মন্দিরে অনুদান বিতরণ করেন মন্ত্রী।

মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী বলেন, ‘২০০১ সনে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি- জামায়াত জোট সরকারের আমলে নিষ্পাপ পূর্ণিমার মতো অসংখ্য সংখ্যালঘু নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। তখন বিএনপি-জামায়াত ক্যাডারদের হাতে অব্যাহত নির্যাতনের শিকার হয় সনাতন ধর্মালম্বীরা।’

রেজাউল করিম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল বলেই আজকে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সরকারের আমলে সব ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে তাদের ধর্মকর্ম পালন করতে পারছেন।’

আওয়ামী লীগ সরকার আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন মসজিদ, মন্দিরসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নে কাজ করছে বলে জানান মন্ত্রী।

উপজেলা পূজা পরিষদের সভাপতি শশাংক রঞ্জন সমদ্দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন পিরোজপুর জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাত হোসেন, পুলিশ সুপার মো. সাউদুর রহমান, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা রেবেকা খান, হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি সুরঞ্জিত দত্ত লিটু, উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হামিদ, সম্পাদক এস এম ফুয়াদ, পৌর মেয়র গোলাম কবির, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম মুইদুল ইসলাম, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (নেছারাবাদ সার্কেল) মো. রিয়াজ হোসেন, ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সম্পাদক সাজ্জাত সাকিব বাদশা প্রমুখ।