বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও রোববার যথাযোগ্য মর্যাদায় ঐতিহাসিক মে দিবস পালিত হবে।

শ্রমঘণ্টা কমিয়ে দৈনিক আট ঘণ্টা করার দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে রাস্তায় নেমে আসা শ্রমিকদের ঐতিহাসিক আন্দোলনের স্মরণে প্রতি বছর মে দিবস বা আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস পালন করা হয়।

দিনটি বাংলাদেশে সরকারি ছুটির দিন।

এ বছর মে দিবসের প্রতিপাদ্য হলো ‘শ্রমিক-মালিক একতা, উন্নয়নের নিশ্চয়তা’।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি হামিদ দেশের শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘আজকের প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকার জন্য, উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সরকারের সাথে শ্রমিক ও নিয়োগকর্তাদের ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে আরও নিবেদিত হতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে শ্রমজীবী​মানুষের কল্যাণ ও দেশের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সুখী, সমৃদ্ধ ও সোনার বাংলা গড়তে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

দিনটির গুরুত্ব তুলে ধরে টেলিভিশন ও রেডিও স্টেশনগুলোতে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার এবং পত্রিকাগুলোতে বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ১৮৮৬ সালের ১ মে দৈনিক ১২ ঘণ্টার পরিবর্তে আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে। বিক্ষোভে পুলিশ গুলিবর্ষণ করলে ১০ শ্রমিক নিহত হন। উত্তাল সেই আন্দোলনের মুখে কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের দাবি মেনে দিতে বাধ্য হয় এবং বিশ্বব্যাপী কর্মঘণ্টা দৈনিক আট ঘণ্টা চালু করা হয়।

১৮৮৯ সালের ১৪ জুলাই প্যারিসে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শ্রমিক সমাবেশে ১ মে’কে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরের বছর থেকে বিশ্বব্যাপী এ দিনটি পালিত হচ্ছে।
সূত্র : ইউএনবি