কক্সবাজারের টেকনাফ মডেল থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ কর্তৃক উপজেলা জিয়া পরিষদের সভাপতির বিরুদ্ধে সাজানো অস্ত্র মামলা থেকে বাদ দেওয়ার দাবী জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার ও দলীয় নেতাকর্মীরা।

শুক্রবার বিকাল ৩টায় টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা পূর্ব সিকদার পাড়া মাষ্টার মরহুম জাকের হোছাইন চৌধুরীর বাড়িতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সাংসদ আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী, জেলা বিএনপির সদস্য জালাল উদ্দিন চৌধুরী, টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট হাসান ছিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসাইন, হ্নীলা উত্তর শাখা বিএনপির আহবায়ক আলী আহমদ মেম্বার, সদস্য সচিব রফিকুল আলম চৌধুরী, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি হোছাইন মুহাম্মদ আনিম, টেকনাফ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এইচএম ওসমান গণি, সদস্য সচিব এডভোকেট রশিদুল আলম চৌধুরী, বিএনপি নেতা আলহাজ দিলদার আহমদ মেম্বার ও মিথ্যা মামলার শিকার মুরাদ হোসেন চৌধুরী প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে মিথ্যা অস্ত্র মামলায় জামিনে আসা মুরাদ হোসেন চৌধুরী লিখিত বক্তব্যে জানান,আমি টেকনাফ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি,জেলা বিএনপির সাবেক সহপ্রচার সম্পাদক, তৎকালীন টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, মৃত্যুকালীন টেকনাফ উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির সদস্য মাষ্টার জাকের হোছাইন চৌধুরীর একমাত্র সন্তান। আমি বর্তমানে টেকনাফ উপজেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি দায়িত্ব অবস্থায় কেন্দ্রের নির্দেশে আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে দলীয় কর্মসূচী পালন করতে গিয়েই ক্ষমতাসীন দলের রোষানলে পরি।

এই কারণে টেকনাফ মডেল থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ টেকনাফে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে আমার মত একজন গরীব-অসহায় পরিবারের সন্তান এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মী হওয়ায় আমাকে গত ২০১৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর আমার মরহুম পিতার চেহেলাম অনুষ্ঠানে মেহেমানদারী শেষে রাত সাড়ে ১১টারদিকে আমিও খেতে বসি। এমতাবস্থায় একদল পুলিশ আমার বাড়িতে গিয়ে ভাংচুর চালায় এবং নারী-পুরুষ ও শিশুকে মারধর করে বোন জামাই ইসমাঈল, চাচাত ভাই জাহেদসহ আমাকে তুলে গাড়িতে করে থানায় নিয়ে যায় এবং বেধড়ক মারধর করে। এক পর্যায়ে আমাকে বলে প্রাণে বাঁচতে চাইলে একটি স্টাম্পে স্বাক্ষর করে হ্নীলা ছেড়ে চলে যেতে ; অন্যথায় তোমাকে মেরে ফেলা হবে। খোদ খালেদা জিয়া এসেছেও তোমাকে বাঁচাতে পারবে না। এতে আমি রাজি না হওয়ায় প্রদীপের এক সহযোগী আমাকে বুকের মধ্যে কামড় দিয়ে মাংস তুলে নেয় এবং সারারাত টর্চার করে। ভোরের দিকে চিকিৎসা দিতে নিয়ে যায়। আমার সাথে আটক অপর ২জনকে ৪ সেপ্টেম্বর ৫শ পিস ইয়াবা দিয়ে আদালতে প্রেরণ করে। পরদিকে আমাকে ডিবি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেওয়া হয় এবং দফায় দফায় অমানবিক নির্যাতন করে অজ্ঞান করে ফেলে। সেখানে ২২দিন রাখার পর টেকনাফ মডেল থানায় নিয়ে আসার পথে গভীর রাতে হ্নীলা সুফিয়া কমিউনিটি স্কুলের সামনে থামিয়ে ইচ্ছেমতো গণপিটুনি দেয়। থানার একটি অন্ধকার কক্ষে আরো দীর্ঘদিন আটকে রাখার পর ২৩অক্টোবর দুপুরে একটি সাজানো অস্ত্র মামলা টেকনাফ মডেল থানার মামলা নং-৮৪/৯২৪,তারিখ-২৩ অক্টোবর-২০১৯ইং আটক দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করে। ১৪মাস জেল খাটার পর ২০২০ইং সালের ২২ডিসেম্বর জামিনে বেরিয়ে বের হই। আমি এখন অসহায় এবং নিঃস্ব অবস্থায় মানবেতর দিনযাপন করছি। স্ত্রী, ছেলে, মাকে নিয়ে সংসার চালানো খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই সাবেক ওসি প্রদীপের দেওয়া মিথ্যা অস্ত্র মামলার ঘানি বহন করা আমার পক্ষে একেবারেই সম্ভব না। তাই আমি দলমতের উর্ধ্বে উঠে একটি মিথ্যা মামলা থেকে আমার মত একজন অসহায়-দরিদ্র পরিবারের ছেলেকে রেহাই দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, জেলা পুলিশ সুপার, আইন-শৃংখলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহায়তা কামনা করছি।