দেশের উপকূলীয় ১০ জেলায় নিরাপদ পানির ট্যাংক স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জেলাগুলোর চারটি উপজেলার ২২২টি ইউনিয়নে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে তা প্রকল্পধীন এলাকাবাসীকে সরবরাহ করা হবে।

‘বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে পানি সরবরাহ’ প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই) এ তথ্য জানায়।

ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রস্তাবনা পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পের মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৬২ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

অক্টোবর ২০২১ সাল থেকে জুন ২০২৪ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত করবে ডিপিএইচই।

ডিপিএইচই’র প্রধান প্রকৌশলী মো. সাইফুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, উপকূলীয় এলাকায় ইউনিয়ন পর্যায়ে পানির ট্যাংক বসিয়ে নিরাপদ পানি সরবরাহ করা হবে।

ওই সব এলাকার পানিতে লবণাক্ততা, আর্সেনিক প্রবণতাসহ বিভিন্ন সমস্যা আছে। এ কারণে সেখানে বসবাসরত নারীদের গর্ভকালীন বিভিন্ন জটিলতা, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি সমস্যা, চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে হয়। মূলত এসব কারণেই প্রকল্পের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া বসবাসরতদের স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রকল্পটি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

জানা গেছে, গোপালগঞ্জ, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের চারটি উপজেলার ২২২টি ইউনিয়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পের আওতায় ২ লাখ ৬ হাজার ৮৭২টি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ইউনিট স্থাপনে ব্যয় হবে ৯৩০ কোটি ৯২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। প্রতিটি ইউনিটে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার টাকা। আবার ক্যাচমেন্ট সংস্কার বা ফিল্টার প্রতিটিতে ৭ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ফলে প্রতিটি ইউনিটের জন্য ব্যয় হবে ৫২ হাজার টাকা।

অন্যদিকে, পরিবহনসেবা ক্রয়ের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এখানে প্রতি মাসে ব্যয় হবে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এ ব্যয় নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের প্রশ্ন রয়েছে। এত টাকা দিয়ে কী ধরনের পরিবহনসেবা ক্রয় করা হবে, তা প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা উচিত বলে জানিয়েছে বিভাগটি।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, প্রকল্পের উদ্যোগটি অবশ্যই ভালো। তবে প্রকল্পে ব্যয়ের ব্যাখ্যা হিসেবে সমীক্ষা প্রতিবেদন সংযোজন করতে বলা হয়েছে। কারণ প্রথমে যখন প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হয় তখন ব্যয় ধরা হয় ৪০২ কোটি ৮২ লাখ টাকা। জানুয়ারি ২০২০ থেকে জুন ২০২২ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয়েছিল। পরে প্রথমবার পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে গৃহীত সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পটি পুনরায় উপস্থাপনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগকে অনুরোধ করা হয়।

পরিকল্পনা কমিশনের মতামতে প্রকল্প ব্যয় ও প্রকল্প এলাকা বাড়ানোর বিষয়ে কোনো নির্দেশনা নেই। তবে প্রকল্প ব্যয় বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে এলাকা যুক্ত করে ব্যয় প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্প প্রস্তাবনা থেকে জানা গেছে, ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডর এবং ২০০৯ সালে আইলার কারণে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়। ফলে এখানে শুধু ভূ-উপরিস্থ নয় বরং ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তরেও লবণাক্ততা ছড়িয়ে পড়েছে। তাই দেশের ১৯ উপকূলীয় জেলার মধ্যে ১০ জেলার সমন্বয়ে প্রকল্পটি নেওয়া হয়। উপকূলীয় কিছু কিছু এলাকায় পানিতে লবণাক্ততার মাত্রা সর্বোচ্চ প্রায় তিনগুণ। তবু এলাকার মানুষ ওই পানিই ব্যবহার ও পান করতে বাধ্য হচ্ছেন। কারণ অনেক এলাকায় মিঠা পানির উৎস নেই। আবার কোথাও কোথাও মিঠা পানির উৎস অনেক দূরবর্তী স্থানে।

প্রকল্পের অধীনে জেলাগুলোর ইউনিয়ন পর্যায়ে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং স্থাপন করা হবে। এই পানি নিয়মিত কাজ, এমনকি পানও করা যাবে। লবণাক্ততাপ্রবণ এসব এলাকায় বৃষ্টির পানির ব্যবহার কিছুটা হলেও সুপেয় পানির অভাব মেটাতে পারবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।