অতিথি প্রতিবেদক : কক্সবাজার সদরে এক কিশোরীকে অপহরণ করে ‘দেড় মাস ধরে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগে’ মূল অভিযুক্তসহ চারজনকে গ্রেপ্তার এবং ওই কিশোরীকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব।

বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজার শহরের কস্তুরাঘাট এবং খুরুশকূল এলাকায় এ অভিযান চালানো হয় বলে জানান র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের সহকারি পরিচালক ( গণমাধ্যম ) এএসপি মো. মাহমুদুল হাসান মামুন।

গ্রেপ্তার মূল অভিযুক্ত মো. শাহাব উদ্দিন (২৮) কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের খরুলিয়া চেয়ারম্যান পাড়ার মো. আব্দুল গনির ছেলে।

এছাড়া গ্রেপ্তার অন্য ৩ আসামী হল, পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম উজানটিয়া পাড়ার নুর আহম্মদের ছেলে আরমান হোসেন (২৭), কক্সবাজার সদরের খুরুশকূল ইউনিয়নের হাটখোলা পাড়ার মৃত আব্দুল হোছাইনের ছেলে মো. নুরুল আলম (৩৮) এবং একই ইউনিয়নের দক্ষিণ পেঁচারঘোনা এলাকার জাফর আলমের ছেলে লোকমান হাকিম (৩৪)।

ভূক্তভোগী কিশোরী (১৫) কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা।

র‌্যাব জানিয়েছে, ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।

এএসপি মাহমুদুল বলেন, গত ১৩ অক্টোবর উদ্ধার হওয়া কিশোরীর মা র‌্যাবের কাছে অভিযোগ করেন তার মেয়েকে মো. শাহাব উদ্দিন সহ আরো ৩ সহযোগী মিলে অপহরণ করেছে এবং অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে ধর্ষণ করছে। এ খবরের ভিত্তিতে র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের একটি দল বৃহস্পতিবার রাত ৮ টায় কক্সবাজার শহরের কস্তুরাঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. শাহাব উদ্দিনকে আটক করে।

“ পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে, কক্সবাজার সদরের খুরুশকূল ইউনিয়নের হাটখোলা পাড়া থেকে অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। এসময় ঘটনাস্থল থেকে ঘটনায় জড়িত আরো ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ”

র‌্যাবের এ সহকারি পরিচালক বলেন, “ জিজ্ঞাসাবাদে মূল অভিযুক্ত শাহাব উদ্দিন সহ অপর ৩ সহযোগী স্বীকার করেছে, তারা ওই কিশোরীকে অপহরণ এবং ধর্ষণ করেছে। ”

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে কক্সবাজার সদর থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানান এএসপি মাহমুদুল হাসান মামুন।

এদিকে ঘটনায় শুক্রবার সকালে গ্রেপ্তার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা নথিভূক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মুনীর-উল-গীয়াস।

ওসি বলেন, ওই কিশোরীকে চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।

পরে ওই কিশোরীর চিকিৎসা শেষে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণের পর আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান শেখ মুনীর-উল-গীয়াস।