কক্সবাজার জেলা পুলিশকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর চিন্তাভাবনা চলছে। এজন্য ক্লিন ইমেজের পুলিশ সদস্যদের বাছাই করা হচ্ছে। প্রথম ধাপে কক্সবাজারের পাঁচটিসহ চট্টগ্রাম জেলার একটি থানায় বাছাই করা সদস্যদের ওসি হিসেবে পদায়ন করা হবে।

কক্সবাজার তথা চট্টগ্রাম জেলায় এতদিন যে ধারার পুলিশিং ব্যবস্থা চালু ছিল গতানুগতিক এ ধারার বাইরে গিয়ে নতুন ধারার পুলিশিং ব্যবস্থা প্রণয়নের অংশ হিসেবেই নতুন করে ওসি নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সেবার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মন জয়ের পাশাপাশি পুলিশ সম্পর্কে অত্র এলাকার মানুষের নেতিবাচক ধারণা দূর করবেন নতুন ওসিরা।

৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজারের টেকনাফ থানার শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সিনহা হত্যার বিচার দাবির পাশাপাশি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধের জন্য সোচ্চার হয়েছেন দেশের সর্বস্তরের মানুষ। ইতোমধ্যে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে পুলিশের বিরুদ্ধে একাধিক ভুক্তভোগী মামলা করেছেন। মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান খুনের ঘটনায় ৫ আগস্ট তার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় টেকনাফ থানার (বরখাস্ত) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাশ এবং ১০ পুলিশসহ ১৩ জন কারাগারে আছেন। মামলার তদন্ত করছে র‌্যাব। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে ইমেজ সংকটে পড়েছে পুলিশ।

জানা যায়, কক্সবাজারে ৮টি থানা রয়েছে। এরমধ্যে প্রথমপর্যায়ে কক্সবাজারের পাঁচটি এবং চট্টগ্রাম জেলার একটি থানায় বাছাইকৃত ক্লিন ইমেজের পুলিশ সদস্যদের ওসি হিসেবে পদায়ন করা হবে। থানাগুলো হল- টেকনাফ থানা, কক্সবাজার সদর থানা, উখিয়া থানা, চকরিয়া থানা ও পেকুয়া থানা। চট্টগ্রাম জেলার মধ্যে রয়েছে পটিয়া থানা। এসব থানার মধ্যে বর্তমানে টেকনাফ ও কক্সবাজার সদর থানায় ওসি পদটি শূন্য রয়েছে। উখিয়া থানার ওসি মর্জিনা আক্তারের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে নানা অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। চকরিয়া এবং পেকুয়া থানার ওসির বিরুদ্ধেও রয়েছে অভিযোগ। এ কারণে এ দুটি থানার ওসি পদেও পরিবর্তন আসতে পারে। এসব থানায় ক্লিন ইমেজের পুলিশ সদস্যদের ওসি হিসেবে পদায়ন করার চিন্তা করছেন কক্সবাজার পুলিশ সুপার। তবে প্রথম পর্যায়ে ওইসব থানায় ওসি হিসেবে পদায়নের জন্য বাছাই করা হয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) চৌকস ছয়জন পুলিশ সদস্যকে। যারা সিএমপিতে ক্লিন ইমেজের পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক যুগান্তরকে বলেন, ‘কক্সবাজারের টেকনাফ ও কক্সবাজার সদর থানায় ওসি পদ শূন্য রয়েছে। ওইসব থানায় দক্ষ এবং ভালো ইমেজের পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।’ সিএমপি সূত্র জানায়, পুলিশ সদর দফতরের প্রথমধাপে বাছাই করা ছয় পুলিশ কর্মকর্তার মধ্যে-ডবলমুরিং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জহির হোসেন, চকবাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রিয়াজ চৌধুরী, সিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক রাজেশ বড়ুয়া ও আফতাব, বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি প্রিটন সরকার, সিএমপির গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক শাহেদুজ্জামানের নাম রয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব পুলিশ সদস্যকে ওসি হিসেবে বিভিন্ন থানায় পদায়ন করা হতে পারে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-কমিশনার (সদর) আমীর জাফর যুগান্তরকে বলেন, ‘পুলিশ সদর দফতর অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে এ তালিকা করছে। তবে সিএমপি থেকে কার কার নাম উঠে এসেছে তা আমার জানা নেই।’ কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, ‘বর্তমানে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ ও কক্সবাজার সদর থানার ওসি পদ শূন্য রয়েছে। এ দুটি থানায় ওসি নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।