কক্সবাজার শহরের পাঁচটি মার্কেটের বেশ কয়েকটি মোবাইল ফোনের দোকান শুল্কফাঁকিতে আনা মোবাইলের দখলে। বৈধভাবে আমদানিতে উচ্চ শুল্কের কারণে অসাধু মোবাইল ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফার লোভে এ পথ বেছে নিয়েছেন। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে নিরাপত্তা ঝুঁকি। শহরে বেশ কয়েকটি দোকানে জমজমাটভাবে অবৈধ (টানা) মোবাইল ফোন বিক্রির তথ্যও রয়েছে একটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে। ইতিমধ্যে সংস্থার লোকজন কীভাবে, কখন মোবাইল ফোনগুলো কক্সবাজার ঢুকে, তার তথ্যও পেয়েছে। কারা কোথায় এসব ফোন বিক্রি করে, তার সঠিক প্রমাণ নিয়ে অভিযান চালানোর কথাও রয়েছে।

জানা যায়, কক্সবাজারের বাজারে অবৈধ আইফোনের তুলনায় অন্যান্য ব্র্যান্ডের অবৈধ স্মার্টফোন বেশি। কিন্তু এসব অবৈধ ফোনের দিকে নজর নেই কারো। এতে বাজারে অবৈধ স্মার্টফোনের ছড়াছড়ি। এছাড়া এসব অবৈধ ফোন এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে অনলাইনের বিভিন্ন সাইটেও বিক্রি করছেন। এতে করে বৈধপথে যেসব ব্যবসায়ীরা ফোন আমদানি করছেন, তারা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

সূত্রে জানা যায়, সব থেকে বেশি স্যামসাংয়ের স্মার্টফোন আমদানি করা হয়। আর স্যামসাংয়ের ৮০ শতাংশ ফোন আসে অবৈধভাবে। এই তালিকায় নাম রয়েছে এইচটিসি, ভিভো, শাওমি ও অপ্পোরও।

অনুসন্ধানে জানা যায়, শহরের সবচেয়ে বেশি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে মোবাইল বিক্রি হয় বিলকিস মার্কেট, এবি মার্কেট, কোরাল রিফ প্লাজা, জিলানী মার্কেট, আছাদ কমপ্লেক্সসহ ৮ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে। অনেকেই শো-রুম খুলে বিক্রি করছে লাগেজ মোবাইল।

শহরের সবচেয়ে বড় মোবাইল বিক্রির বাজার বিলকিস মার্কেট ও কোরাল রিফ প্লাজা। এখানে প্রতি মাসে বিক্রি হয় প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার মোবাইল ফোন। তার মধ্যে অধিকাংশ শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা লাগেজ ফোন। চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও ঢাকার অসাধু ব্যবসায়ীদের সাথে সিন্ডিকেট করে কক্সবাজারে এসব মোবাইল আনা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ এসব মোবাইল বিক্রির সিন্ডিকেটের মধ্যে বিলকিস মার্কেটের আলিফ টেলিকম’র মালিক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, মোবাইল ভিলেইজ-এর আলমগীর হোসাইন, জুলি মোবাইল জোন’র মোহাম্মদ সোহেল, নিহাল কম্পিউটারের কর্ণধার নিহাল, এশা টেলিকমের মালিক নাসির উদ্দিন অন্যতম।

ক্রেতা সেজে প্রতিবেদক লাগেজ মোবাইল কেনার জন্য তাদের কল দিলে তারা বিক্রি করতে সম্মতি জানান। তাদের লাগেজ মোবাইল বর্ডার ক্রস করে সরাসরি কক্সবাজার এনে দিয়ে থাকেন ইমরান ও ফয়সাল নামের দুই ব্যক্তি। শামসু নামের এক ব্যবসায়ী লাগেজ মোবাইল এনে সরাসরি কোরাল রিফের ব্যবসায়ী ইমরান ও ফয়সালের হাতে তুলে দেন। তারপর ইমরান ও ফয়সালই জেলাজুড়ে অন্য ব্যবসায়ীদের কাছে হাতবদল করেন। ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে লাগেজ মোবাইলগুলো আসে। শামসুর সাথে ভারতের চোরাকারবারিদের রয়েছে গভীর সখ্যতা। তার হাত ধরেই বেশ জমজমাট জেলার চোরাই মোবাইল মার্কেট। সম্প্রতি কক্সবাজার গোয়েন্দা পুলিশ বিপুল পরিমাণ চোরাই মোবাইলসহ পেকুয়া থেকে দুই সহোদরকে আটক করে। এই অভিযানের পর বেশ সাবধানে পা ফেলছে অন্য অসাধু ব্যবসায়ীরা। ২৪ নভেম্বর (মঙ্গলবার) সকালে কক্সবাজারের ঈদগাঁও এলাকার একটি দোকান থেকেও বিপুল পরিমাণ অবৈধ মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে ডিবি পুলিশ।

বিলকিস মার্কেটের এক ব্যবসায়ী বলেন, আমরা যারা বৈধপথে স্মার্টফোন আনছি, তাদের এখন পথে বসতে হবে। কারণ বাজারে ৫০ শতাংশ স্মার্টফোন শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আসছে। তাই তারা আমাদের থেকে অনেক কম দামে স্মার্টফোন বিক্রি করছেন। ক্রেতাদের উপস্থিতি তাই তাদের কাছেই বেশি।

বিলকিস মার্কেটে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা স্মার্টফোনের নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বিক্রেতা বলেন, ভারত বাংলাদেশের সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে স্যামসাং, এইচটিসি, শাওমি ও অপ্পোর অবৈধ স্মার্টফোন আসে বেশি। এছাড়া চট্টগ্রামের রিয়াজ উদ্দিন বাজার ও লাগেজ পার্টির মাধ্যমেও অনেক ফোন আসছে। এই ফোন আনা চক্রের সঙ্গে অনেকেই জড়িত ।

কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অফিসার ইনচার্জ শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, জেলাজুড়ে অবৈধ মোবাইল ফোনের রয়েছে সক্রিয় সিন্ডিকেট। তাদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। শিগগিরই অভিযান চালিয়ে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।