মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে গত সাড়ে ৫ মাসে প্রায় দেড় লাখ শ্রমিক দেশে ফিরেছেন। যাদের বেশির ভাগ চাকরি হারিয়েছেন। এ দিকে নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকার কারণে অনেক শ্রমিক সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরতে পারছেন না।

 

এর আগে বেসামিরক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কাছে এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে আবেদনে উল্লেখ করা হয়, করোনায় নিয়মিত ফ্লাইট স্থগিত থাকার কারণে বিপুল বাংলাদেশী শ্রমিক দেশটিতে আটকে আছে। বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয় ওই আবেদনে।

গতকাল রোববার সন্ধ্যার পর একাধিকবার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের মোবাইলে যোগাযোগ করার পরও তিনি টেলিফোন ধরেননি। যার কারণে সৌদি এয়ারলাইন্সকে দু’টি ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেয়ার সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ রোধে চলতি বছর মার্চে চীন এবং লন্ডন ছাড়া সবগুলো দেশের সাথে শিডিউল ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ৩ মাস বন্ধ থাকার পর ১৬ জুলাই থেকে সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে বিমান ও কাতার এয়ারওয়েজকে ঢাকা থেকে সীমিত আকারে ফ্লাইট চালানোর অনুমতি প্রদান করেন।

বর্তমানে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ১১টি বিদেশী সংস্থাসহ ১৩টি এয়ারলাইন্স ৭ দেশে সপ্তাহে ৪৫টি ফ্লাইট অপারেট করছে।

এ দিকে করোনায় কাজ হারিয়ে গত সাড়ে ৫ মাসে সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, কাতার ও কুয়েতসহ বিভিন্ন দেশে মানবেতর জীবন কাটিয়ে প্রায় দেড় লাখ শ্রমিক দেশে ফেরত এসেছেন। তাদেরকে পুনর্বাসনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ত্রাণ দেয়ার জন্য তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে বলে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো সূত্রে জানা গেছে।

গতকাল রোববার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে করোনার মধ্যে বিদেশ থেকে কী পরিমাণ কর্মী দেশে ফেরত এসেছেন তার পরিসংখ্যান সংবাদমাধ্যমে পাঠানো হয়।

এতে উল্লেখ রয়েছে, সৌদি আরব থেকে মোট ৩৩ হাজার ২১৬ জন শ্রমিক দেশে ফেরত এসেছে। এর মধ্যে পুরুষ কর্মীর সংখ্যা ২৮ হাজার ৩১৫ জন। আর মহিলা শ্রমিক ৪ হাজার ৯০১ জন। তাদের মধ্যে পাসপোর্ট নিয়ে ২৫ হাজার ৬৫৪ জন আর আউট পাসে ৭ হাজার ৫৬২ জন শ্রমিক কাজ হারিয়ে, ছুটিতে দেশে ফেরত এসেছেন।

এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যসহ ২৯টি দেশ থেকে (১ এপ্রিল থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর) এখন পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৩৬ জন কর্মী ফেরত এসেছে। বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের তৈরি করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের বেশির ভাগই কাজ হারিয়ে ফিরেছেন।

এ দিকে বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে সৌদি আরবে ফ্লাইট পরিচালনা করার অনুমতি না দেয়ার কারণে সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সকেও ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি বাতিল করেছে।

গতকাল রোববার সকালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক যৌথ ভার্চুয়াল সভা শেষে বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

আগামী ১ অক্টোবর থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। এরই মধ্যে যদি সৌদি এয়ারলাইন্স টিকিট বিক্রি করে থাকে তাহলে আগামী সপ্তাহের মধ্যে তারা ওই যাত্রী নিয়ে যাওয়ার জন্য সময় পাবেন। এ জন্য তারা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ২-৩টি ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে। সেই অনুযায়ী আগামীকাল ২২ সেপ্টেম্বর সৌদিয়া ঢাকা থেকে একটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে।

গতকাল সন্ধ্যায় বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে নয়া দিগন্তকে বলেন, আমার জানা মতে মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে আজ এ সংক্রান্ত কোনো ভার্চুয়াল বৈঠক ছিল না। তবে সচিব স্যারের কয়েকটি মিটিং ছিল। সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট শিডিউল দিয়ে আবার বাতিল করা হয়েছে কি না সেই বিষয়টি সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটির চেয়ারম্যান স্যার ভালো বলতে পারবেন। রাতে আবার তাকে ফোন করা হলে তিনি