চার অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান এনে দিলেন লড়াইয়ের পুঁজি। মিলিত চেষ্টায় বোলাররা সারলেন বাকিটা। প্রায় তিনশ রানের লক্ষ্যকে সেভাবে চ্যালেঞ্জই জানাতে না পারা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দ্বিতীয়বারের মতো হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ।

প্রত্যাশিত জয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ। নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বার। ২০০৯ সালে ক্যারিবিয়ান সফরে প্রথম এই স্বাদ পেয়েছিল তারা।

ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টানা আট ম্যাচে জিতল বাংলাদেশ। দেশটির এর চেয়ে বেশি জয় আছে কেবল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।

দেশের মাটিতে সবশেষ ১০ ওয়ানডে সিরিজের নয়টিতেই জিতল বাংলাদেশ। এই জয়ে আইসিসি ওয়ানডে সুপার লিগে পেল আরও ১০ পয়েন্ট। এর সঙ্গে পয়েন্ট তালিকায় উঠে এলো দুই নম্বরে।

ফেরার ম্যাচে উইকেট পেলেন তাসকিন আহমেদ। রেমন রিফারের ফিরতি ক্যাচ নিয়ে ক্যারিবিয়ানদের ১৭৭ রানে থামিয়ে দিলেন এই পেসার। বাংলাদেশ পেল ১২০ রানের জয়।

সিরিজে তৃতীয়বারের মতো অলআউট হলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথমবারের মতো দেড়শ ছাড়ানো দলটি গুটিয়ে যায় ৪৪.১ ওভারে।

আগের ওভারে সৌম্য সরকারকে ছক্কায় ওড়ানো আলজারি জোসেফ ফিরে গেলেন রান আউট হয়ে। দ্বিতীয় রান নিতে চেয়েছিলেন দুই ব্যাটসম্যান। নাজমুল হোসেন শান্তর থ্রো ধরে বোলার মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন বেলস ফেলে দেওয়ার সময় বেশ দূরে ছিলেন জোসেফ।

তৃতীয় আম্পায়ারে দেননি আম্পায়ার। নিজেই জানান আউট জোসেফ। ৭ বলে এক ছক্কায় তিনি করেন ১১।

চতুর্থ বলে কট বিহাইন্ড হয়ে যান আকিল হোসেইন। ঝাঁপিয়ে চমৎকার ক্যাচ মুঠোয় নেন মুশফিকুর রহিম। রেকর্ড গড়ার ম্যাচে এটি তার চতুর্থ ডিসমিসাল।

৪৪ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর ১৭৭/৯। ক্রিজে রেমন রিফারের সঙ্গী কিওন হার্ডিং।

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টানছিলেন রভম্যান পাওয়েল। সুযোগ পেলেই খেলছিলেন শট। সৌম্য সরকার থামালেন বিপজ্জনক এই ব্যাটসম্যানকে।

অফ স্টাম্পের একটু বাইরে পড়ে ভেতরে ঢোকা বলে ব্যাট ছোঁয়াতে পারেননি পাওয়েল। আম্পায়ার এলবিডব্লিউ দেওয়ার পর রিভিউ নেন তিনি। সিদ্ধান্ত পাল্টায়নি। রিভিউ নষ্ট করে ফিরেন পাওয়েল।

৪৯ বলে দুটি করে ছক্কা ও চারে তিনি করেন ৪৭। ৪১ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর ১৫৭/৭। ক্রিজে রেমন রিফারের সঙ্গী আলজারি জোসেফ।

শেষ ১০ ওভারে বাংলাদেশ তুলেছিল ১০০ রান। হোয়াইটওয়াশ এড়াতে ক্যারিবিয়ানদের চাই ১৪৪ রান।

৪০ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর ১৫৪/৬। সিরিজে প্রথমবার দেড়শ ছাড়িয়েছে সফরকারীরা। এতে সবচেয়ে বড় অবদান রভম্যান পাওয়েলের। ৪৮ বলে ৪৭ রানে খেলছেন এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। ৩১ বলে ১৬ রান নিয়ে খেলছেন রেমন রিফার।

বোলিংয়ে ফিরেই উইকেট পেলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। কট বিহাইন্ড করে দিলেন অভিষিক্ত কিপার-ব্যাটসম্যান জামার হ্যামিল্টনকে।

অফ স্টাম্পের বাইরের বল থার্ড ম্যানের দিকে পাঠাতে চেয়েছিলেন হ্যামিল্টন। তার প্রত্যাশার চেয়ে কম স্পিন করা বল খেলতে পারেননি ঠিক মতো। ব্যাটের কানা ছুঁয়ে জমা পড়ে মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসে।

১৬ বলে ৫ রান করেন হ্যামিল্টন। ৩১ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর ১১৮/৬। ক্রিজে রভম্যান পাওয়েলের সঙ্গী রেমন রিফার।

সিরিজ জুড়ে দারুণ বোলিং করা সাকিব আল হাসান মাঠ ছাড়লেন ওভার অসমাপ্ত রেখে।

৩০তম ওভারে সাকিবকে আক্রমণে ফেরান তামিম ইকবাল। চতুর্থ বলে প্রথম বোঝা যায় কুঁচকিতে কোনো সমস্যা অনুভব করছেন বাঁহাতি স্পিনার। লং অনের দিকে যাওয়া বল তাড়া করতে গিয়ে থেমে যান মাঝ পথে। পরের বলটি করার পর ব্যথায় বসে পড়েন তিনি।

ফিজিও এসে দেখার পর একটু চেষ্টা করে দেখেন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব কি না। কিন্তু ব্যথার জন্য শেষ বলটি না করেই মাঠ ছাড়েন সাকিব। সেই ওভার শেষ করেন সৌম্য সরকার।

৩০ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর ১১৬/৫। শেষ ২০ ওভারে ১৮২ রান চাই ক্যারিবিয়ানদের।

দারুণ এক ডেলিভারিতে মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন পেলেন দ্বিতীয় উইকেট। বোল্ড করে দিলেন এনক্রুমা বনারকে।

অফ স্টাম্পের বাইরে পড়ে ভেতরে ঢোকা বলের কাছে যেতে পারেননি বনার। শরীরের বেশ দূরে থেকে খেলতে গিয়ে ব্যাটে ছোঁয়াতে পারেননি। এলোমেলো হয়ে যায় স্টাম্প।

৬৬ বলে দুই চারে ৩১ রান করেন বনার। ২৬ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর ৯৪/৫। ক্রিজে রভম্যান পাওয়েলের সঙ্গী অভিষিক্ত কিপার-ব্যাটসম্যান জামার হ্যামিল্টন।

ফেরার ম্যাচে প্রথম স্পেলে লাইন-লেংথ নিয়ে কিছুটা ভুগছেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে দিয়েছেন নিজেকে ফিরে পাওয়ার আভাস। জেসন মোহাম্মেদকে ফিরিয়ে ভেঙেছেন ক্যারিবিয়ানদের প্রতিরোধ।

আক্রমণে ফেরার পর প্রথম ওভারটি ভালোই করেন সাইফ। পরের ওভারের প্রথম বলে মেলে উইকেট। ব্যাক ফুটে খেলার চেষ্টায় মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসে ধরা পড়েন জেসন। ভাঙে ৬৭ বল স্থায়ী ৩২ রানের জুটি।

আগের ওভারে মাহমুদউল্লাহকে বাউন্ডারি হাঁকান জেসন। ক্যারিবিয়ান অধিনায়কের ইনিংসের একমাত্র ও ১৫ ওভার পর সফরকারীদের প্রথম।

৩৬ বলে ১৭ রান করে জেসনের বিদায়ের পর প্রমোশন দিয়ে রভম্যান পাওয়েলকে ছয়ে পাঠিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তৃতীয় বলেই সাইফকে ছক্কায় উড়িয়েছেন ছন্দে থাকা মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান।

২৪ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর ৮৯/৪। এনক্রুমা বনার ২৯ ও পাওয়েল ৯ রানে ব্যাট করছেন। ক্যারিবিয়ানদের শেষ ২৬ ওভারে চাই আরও ২০৯ রান।

আম্পায়ার এলবিডব্লিউ দেওয়ার পর রিভিউ নিয়ে বাঁচলেন এনক্রুমা বনার। এক বল পর সাকিব আল হাসানকে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে গেলেন জেসন মোহাম্মেদ।

সাকিবের অফ স্টাম্পের বাইরে পড়ে স্পিন করে ভেতরে ঢোকা বল পা বাড়িয়ে খেলেন বনার। ব্যাটের স্পর্শ বুঝতে পারেননি আম্পায়ার। সাড়া দেন এলবিডব্লিউর আবেদনে। রিভিউ নেন ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যান।

আল্ট্রাএজে মেলে ব্যাট বলের স্পর্শের প্রমাণ। পাল্টায় আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত।

এক বল পর জেসনের উইকেট পেয়েই যাচ্ছিলেন সাকিব। মাথার উপর দিয়ে যাওয়া ক্যাচ মুঠোয় জমাতে পারেননি তিনি।

১৬ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর ৫৪/৩। বনার ২১ ও জেসন ২ রানে খেলছেন। জয়ের জন্য শেষ ৩৪ ওভারে ২৪৪ রান চাই সফরকারীদের।

দারুণ বোলিংয়ের পুরস্কার পেলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এলবিডব্লিউ করে ফেরালেন কাইল মেয়ার্সকে।

অফ স্পিনারের লেগ স্টাম্পে পিচ করা বল পিছিয়ে গিয়ে ডিফেন্স করতে চেয়েছিলেন মেয়ার্স। স্পিন করে মিডল স্টাম্পের দিকে যাওয়া বলে ব্যাট ছোঁয়াতে পারেননি। আম্পায়ার এলবিডব্লিউ দিলে রিভিউ নেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। বল ট্র্যাকিংয়ে দেখা গেছে মিডল স্টাম্পে লাগত বল। নষ্ট হয় একটি রিভিউ।

১৩ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর ৪৭/৩। ক্রিজে এনক্রুমা বনারের সঙ্গী জেসন মোহাম্মেদ।

মুস্তাফিজুর রহমানের জোড়া আঘাত সামলে পাওয়ার প্লেতে খুব একটা রান তুলতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তিনশ ছুঁইছুঁই রান তাড়া করা দলটি পাওয়ার প্লেতে মারতে পেরেছে কেবল ছয়টি বাউন্ডারি।

১০ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর ৪৪/২। এনক্রুমা বনার ১৪ ও কাইল মেয়ার্স ১০ রানে খেলছেন।

পাওয়ার প্লেতে চার বোলার ব্যবহার করেন তামিম ইকবাল। লম্বা সময় পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন ছিলেন একটু খরুচে। ৩ ওভারে দেন ২১ রান। মুস্তাফিজ ৪ ওভারে ১৬ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট।

নিজের একমাত্র ওভারে কোনো রান দেননি মেহেদী হাসান মিরাজ। তাসকিন আহমেদের ২ ওভার থেকে আসে কেবল ৭ রান।

সিরিজে সুনিল আমিব্রসকে টিকতেই দিলেন না মুস্তাফিজুর রহমান। ক্যারিবিয়ান ওপেনারকে তিন ম্যাচেই দ্রুত ফেরালেন বাঁহাতি এই পেসার।

মিডল স্টাম্পে পড়ে অফ স্টাম্পের দিকে যাওয়া বল ব্যাটে খেলতে পারেননি আমব্রিস। এলবিডব্লিউর জোরালো আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ার। রিভিউ না নিয়ে ফিরে যান ক্যারিবিয়ান সহ-অধিনায়ক।

১৪ বলে দুই চারে ১৩ রান করেন আমব্রিস। ৬ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর ৩০/২। ক্রিজে এনক্রুমা বনারের সঙ্গী কাইল মেয়ার্স।

প্রথম আঘাত মুস্তাফিজের

আগের দুই ম্যাচের মতো এবারও প্রথম সাফল্য এলো মুস্তাফিজুর রহমানের হাত ধরে। কিওর্ন ওটলিতে কটবিহাইন্ড করলেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান।

বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে অফ স্টাম্পের বাইরে বল করছিলেন মুস্তাফিজ। সুইং করে বেরিয়ে যাচ্ছিল বল। কিন্তু লাইন ধীরে ধীরে ব্যাটসম্যানের কাছে নিয়ে আসছিলেন। ওভারের শেষ বলটা ছিল সবচেয়ে কাছে, উইকেট আসে সেটাতেই। খোঁচা মেরে মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসে ধরা পড়েন ওটলি।

৮ বলে এই ওপেনার করেন ১। ২ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর ৭/১। ক্রিজে সুনিল আমব্রিসের সঙ্গী এনক্রুমা বনার।

লম্বা একটা সময় বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের বড় শট খেলা থেকে বিরত রাখতে পেরেছিলেন ক্যারিবিয়ান বোলাররা। কিন্তু শেষটায় ঠিক উঠলো ঝড়। এলো একের পর এক বাউন্ডারি। শেষ ১০ ওভারে ১০০ রান নিয়ে তিনশ রানে পৌঁছে গেল বাংলাদেশ।

এতে সবচেয়ে বড় অবদান মাহমুদউল্লাহর। সবচেয়ে বড় দায় কিওন হার্ডিংয়ের। অভিষেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সবচেয়ে খরুচে বোলিং ফিগার এখন এই পেসারের।

১০ ওভারে ৮৮ রান দিয়ে পাননি কোনো উইকেট। এর আগে ক্যারিবিয়ানদের হয়ে এই সংস্করণে অভিষেকে সবচেয়ে বেশি রান দিয়েছিলেন সার ওশান টমাস। ২০১৮ সালে ভারতের বিপক্ষে ৯ ওভারে ওভারে দিয়েছিলেন ৮৩ রান। অভিষেকে হার্ডিংয়ের চেয়ে বেশি রান দিয়েছেন কেবল নেদারল্যান্ডসের পিটার বরেন (১০ ওভারে ১/৯৪) ও আয়ারল্যান্ডের পিটার কনেল (৯ ওভারে ৯৫/০)।

বাংলাদেশের বিপক্ষে অভিষেকে আগে সবচেয়ে বেশি খরুচে বোলিং ছিল ড্যান প্যাটারসনের। ২০১৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার এই পেসার ৯ ওভারে দিয়েছিলেন ৬৯ রান।

শুরুতে পথ দেখালেন তামিম ইকবাল। মাঝে টানলেন সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম। শেষটায় ঝড় তুললেন মাহমুদউল্লাহ। অভিজ্ঞ চার ব্যাটসম্যানের ফিফটিতে লড়াইয়ের পুঁজি গড়েছে বাংলাদেশ।

সবার শেষে ফিফটি পাওয়া মাহমুদউল্লাহর লেগেছে সবচেয়ে কম, ৪০ বল। ইনিংসের শেষ ওভারের প্রথম বলে কিওন হার্ডিংকে ছক্কায় উড়িয়ে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান।

সিরিজে প্রথমবার ব্যাটিংয়ে নামা সৌম্যর ব্যাট থেকে আসেনি কোনো বাউন্ডারি। ৮ বলে ৭ রান করে ফিরেন রান আউট হয়ে।

৪৩ বলে তিনটি করে ছক্কা ও চারে ৬৪ রানে অপরাজিত থাকেন মাহমুদউল্লাহ।

বাংলাদেশ ৬ উইকেটে তুলেছে ২৯৭ রান। হোয়াইটওয়াশ এড়াতে কঠিন লক্ষ্য পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

আগের বলে ছক্কা হাঁকালেন রেমন রিফারকে। পরের বলে খেলতে চাইলেন ইনসাইড আউট। কিন্তু পার করতে পারলেন না কাভার। আলজারি জোসেফের হাতে ধরা পড়ে থামলেন মুশফিকুর রহিম।

ভাঙল ৬১ বলে ৭২ রানের জুটি। পরের দুই বলে বাউন্ডারি হাঁকান মাহমুদউল্লাহ।

৪৭ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ২৬২/৭। ৩৩ বলে ৪৪ রানে ব্যাট করছেন মাহমুদউল্লাহ। সিরিজে প্রথমবারে ব্যাটিংয়ে নামলেন সৌম্য সরকার।

দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় থাকা মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিকুর রহিমের জুটি স্পর্শ করেছে পঞ্চাশ। কিওন হার্ডিংয়ে ছক্কায় ওড়িয়ে নিজের প্রথম বাউন্ডারি পান। সঙ্গে ৪৬ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করে জুটির রান। পরের বলে মারেন চার।

৪৫ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ২৪০/৪। ৪৯ বলে ৫৪ রানে খেলছেন মুশফিক। ২৭ বলে মাহমুদউল্লাহর রান ৩২।

অন্যদের যেখানে রানের জন্য সংগ্রাম করতে হচ্ছে সেখানে মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে রান আসছে অনায়াসে। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ওয়ানডে খেলার রেকর্ড গড়ার দিনে ৪৭ বলে ফিফটি স্পর্শ করেছেন তিনি।

ষষ্ঠবারের মতো একই ম্যাচে ফিফটি পেলেন সাকিব, তামিম ও মুশফিক।

আগের ওভারে রেমন রিফারের বলে মুশফিকের ছক্কায় ৪৫ বল পর বাউন্ডারি পায় বাংলাদেশ।

৪৪ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ২২৬/৪।

ধীরে ধীরে রানের গতি বাড়াতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। ২৩তম ওভারে একশ রান স্পর্শ করা স্বাগতিকরা দুইশ রানে গেছে ৪১.৩ ওভারে।

শুরু থেকেই রানের গতি বাড়ানোর দিকে মনোযোগী মুশফিকুর রহিম। মাহমুদউল্লাহও রান করছেন বলে-বলে।

৪১ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ২০৪/৪। ৩৮ বলে ৩৯ রান নিয়ে খেলছেন মুশফিক। ১৪ বলে ১৪ মাহমুদউল্লাহ।

পঞ্চাশ ছোঁয়ার পরপরই ফিরে গেলেন সাকিব আল হাসান। রেমন রিফারের স্লোয়ার বলে থামলেন বোল্ড হয়ে।

আগে থেকেই যেন ঠিক করে রেখেছিলেন কি শট খেলবেন। মিডিয়াম পেসারের বল লেগে ঘুরিয়ে নিতে চেয়েছিলেন সিঙ্গেল। কিন্তু অফ স্টাম্পের বাইরে পড়ে ভেতরে ঢোকা বল ব্যাটেই খেলতে পারেননি। আঘাত হানে মিডল স্টাম্পে। ভাঙে ৫৬ বল স্থায়ী ৪৮ রানের জুটি।

৮১ বলে খেলা সাকিবের ৫১ রানের ইনিংসে চার তিনটি।

৩৭ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ১৮১/৪। ক্রিজে মুশফিকের সঙ্গী মাহমুদউল্লাহ।

সাবধানী ব্যাটিংয়ে দলকে এগিয়ে নেওয়া সাকিব আল হাসান পেলেন ফিফটি। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরার পর প্রথম, ওয়ানডেতে ৪৮তম।

প্রথম বলেই ফিরতে পারতেন সাকিব। জীবন পাওয়ার পর থেকে খেলছেন আস্থার সঙ্গে। ৭৮ বলে ছুঁয়েছেন পঞ্চাশ।

৩৬ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ১৭৭/৩। সাকিব ৫০ ও মুশফিকুর রহিম ২৭ রানে ব্যাট করছেন।

আলজারি জোসেফের ওভারের শুরুতে একটা সুযোগ দিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। সেটা কাজে লাগাতে পারেননি আকিল হোসেইন। পরের সুযোগ ছিল আরও সহজ, সেটা কাজে লাগাতে কোনো ভুল করেন তিনি।

জোসেফের শর্ট বল লেগে ঘুরিয়েছিলেন তামিম। ঠিক মতো খেলতে পারেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। ধরা পড়েন মিডউইকেটে। ভাঙে ১২১ বল স্থায়ী ৯৩ রানের জুটি।

৮০ বলে তিন চার ও এক ছক্কায় তামিম করেন ৬৪। ২৮ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ১৩১/৩। ক্রিজে সাকিব আল হাসানের সঙ্গী মুশফিকুর রহিম।

জেসন মোহাম্মেদের বলে সিঙ্গেল নিয়ে পঞ্চাশ স্পর্শ করলেন তামিম ইকবাল। ওয়ানডেতে বাঁহাতি এই ওপেনারের ৪৯তম ফিফটি।

প্রথম ২৯ বলে ২৮ রান করা তামিম কিছুটা গুটিয়ে নেন নিজেকে। পরের ২২ রান আসে ৪১ বলে। ৭০ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করার পর মোহাম্মেদকে ছক্কায় ওড়ান বাংলাদেশ অধিনায়ক। ইনিংসে স্বাগতিকদের প্রথম ছক্কা।

এর আগের ওভারের শেষ বলে সাকিবের ব্যাট থেকে আসে বাউন্ডারি। ১৫ ওভারের মধ্যে যা বাংলাদেশের প্রথম।

২৬ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ১২০/২। তামিম ৭৩ বলে ৫৭ ও সাকিব ৫০ বলে ৩৩ রানে ব্যাট করছেন।

দশম ওভারে পঞ্চাশ ছোঁয়া বাংলাদেশের রান তিন অঙ্কে গেছে ২২.২ ওভারে। প্রথম পঞ্চাশে দুটি উইকেট হারানো স্বাগতিকরা পরের পঞ্চাশে হারায়নি কোনো উইকেট।

আপাতত একটু সাবধানী তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান। এক-দুই নিয়ে সচল রেখেছেন রানের চাকা। ২৩ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ১০২/২। তামিম ৪৭ ও সাকিব ২৫ রানে ব্যাট করছেন।

বাংলাদেশের সফলতম জুটির একটির স্রষ্টা তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান। তৃতীয় উইকেটে ৬৪ বলে গড়েছেন ৫০ রানের জুটি। ওয়ানডেতে এটি তাদের পঞ্চদশ ফিফটি জুটি।

বাংলাদেশের তৃতীয় জুটি হিসেবে ওয়ানডেতে দুই হাজার রানের মাইলফক স্পর্শ করেছেন তামিম ও সাকিব। এর আগে এই কীর্তি আছে কেবল মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিকুর রহিম (২১৪৪) এবং মুশফিক ও সাকিব (৩১৫৬) জুটির।

২০ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ৯১/২। তামিম ৫৩ বলে ৪৩ ও সাকিব ৩৪ বলে ২০ রানে খেলছেন।

রানের জন্য তামিম-সাকিবের সংগ্রাম

জুটির শুরুতে দ্রুত রান তুলছিলেন তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান। হঠাৎ করেই যেন ভাটা পড়েছে রানের গতিতে।

১২ ওভার শেষে স্কোর ছিল ৬৫/২। পরের ৭ ওভারে এসেছে কেবল ২১ রান। ১৯ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৮৬/২। নিজেদের একদম গুটিয়ে নিয়েছেন দুই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

আস্থার সঙ্গে খেলছেন তামিম ইকবাল। কিন্তু অন্য প্রান্তে ভুগছে বাংলাদেশ। লিটন দাসের পর ফিরে গেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ফিরে যেতে পারতেন সাকিব আল হাসানও।

পাওয়ার প্লেতে অর্থাৎ প্রথম ১০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৫৩ রান তুলেছে বাংলাদেশ। তামিম ২৩ বলে ২২ ও সাকিব ৪ বলে ৮ রান নিয়ে খেলছেন।

কোনো ঝুঁকি নিচ্ছেন না তামিম। খেলছেন এক-দুই নিয়ে, বল অনুযায়ী। থিতু হয়েও ইনিংস বড় করার সুযোগ হাতছাড়া করেছেন শান্ত।

নাজমুল হোসেন শান্তর বিদায়ের পরপরই সাকিব আল হাসানকে হারাতে বসেছিল বাংলাদেশ। গোল্ডেন ডাকের তেতো স্বাদ পেতে পেতে কাইল মেয়ার্সের ব্যর্থতায় বেঁচে গেলেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান।

অফ স্টাম্পের বাইরের লেংথ বল লেগে ঘুরাতে চেয়েছিলেন সাকিব। ব্যাটের কানায় লেগে ক্যাচ যায় মেয়ার্সের কাছে। মাথার উপর দিয়ে যাওয়া বল লাফিয়ে হাত ছোঁয়ালেও মুঠোয় জমাতে পারেননি এই অলরাউন্ডার।

পরের বলে ব্যাটের কানায় লেগে পাওয়া চারে রানের খাতা খোলেন সাকিব।

৯ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ৪২/২।

দারুণ সফল সাকিব আল হাসানকে সরিয়ে তিনে নাজমুল হোসেন শান্তকে সুযোগ দিয়েছিল বাংলাদেশ। প্রথম সিরিজে সম্পূর্ণ ব্যর্থ এই তরুণ।

কাইল মেয়ার্সের ভেতরে ঢোকা বল ব্যাটে খেলতে পারেননি শান্ত। আম্পায়ার এলবিডিব্লউর আবেদনে সাড়া দিলে রিভিউ নেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। পাল্টায়নি সিদ্ধান্ত।

তিন চারে ৩০ বলে শান্ত করেন ২০। আগের দুই ম্যাচে করেছিলেন ১ ও ১৭।

বাংলাদেশ ৮.৪ ওভারে ৩৮/২।

অভিষেকে নিজের তৃতীয় ওভারে উইকেট পেয়ে যাচ্ছিলেন কিওন হার্ডিং। হলো না একটুর জন্য, নাজমুল হোসেন শান্তর দেওয়া দুরূহ সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি জেসন মোহাম্মেদ।

কাভারের উপর দিয়ে উঠিয়ে মারতে চেয়েছিলেন শান্ত। ঠিক মতো পারেননি বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। মিড অফে দারুণ চেষ্টায় আঙুল ছোঁয়ালেও ক্যাচ মুঠোয় নিতে পারেননি ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক। সে সময় ১২ রানে ছিলেন শান্ত।

৬ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ২৬/১। শান্ত ১৫ ও তামিম ইকবাল ৯ রানে ব্যাট করছেন।

প্রথম ম্যাচ খেলে একটি রেকর্ডে মাশরাফি বিন মুর্তজাকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। তৃতীয় ম্যাচে অভিজ্ঞ পেসারের আরেকটি রেকর্ড নিজের করে নিলেন এই কিপার-ব্যাটসম্যান।

বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ওয়ানডে খেলার কীর্তি এখন মুশফিকের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডে তার ক্যারিয়ারের ২২১তম। বাংলাদেশের হয়ে ২১৮ ম্যাচ খেলা মাশরাফি ২০০৭ সালে আফ্রো-এশিয়া কাপে খেলেন দুটি ওয়ানডে।

প্রথম ওয়ানডেতে দেশের হয়ে মাশরাফির ২১৮ ম্যাচের রেকর্ড ছাড়িয়ে যান মুশফিক। এবার ওয়ানডেতে তার ২২০ ম্যাচের রেকর্ডও নিজের করে নিলেন তিনি।

প্রথম ওভারেই ভাঙল বাংলাদেশের শুরুর জুটি। শূন্য রানে ফিরে গেলেন লিটন দাস।

আলজারি জোসেফেকে লেগে খেলতে চেয়েছিলেন লিটন। কিন্তু লেগ স্টাম্পে থাকা বলে ব্যাট ছোঁয়াতে পারেননি ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। একটু সময় নিয়ে এলবিডব্লিউর আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ার। অন্য প্রান্তে তামিম ইকবালের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন লিটন, ততক্ষণে রিভিউ নেওয়ার সময় শেষ হয়ে যায়।

১ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ১/১। ক্রিজে তামিমের সঙ্গী নাজমুল হোসেন শান্ত।

ঢাকার দুই ম্যাচের মতো মতো চট্টগ্রামে এই ম্যাচের আগেও মাঠে হাঁটু গেড়ে বসে ও হাত উঁচিয়ে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলনে সমর্থন জানায় দুই দল।

নতুন কাউকে খেলানোর ধারাবাহিকতা তৃতীয় ম্যাচেও ধরে রাখল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। চট্টগ্রামে অভিষেক হচ্ছে কিপার-ব্যাটসম্যান জামার হ্যামিল্টন ও পেসার কিওন হার্ডিংয়ের।

প্রথম ম্যাচে অভিষেক হয়েছিল ৬ ক্রিকেটারের। পরেরটিতে এক জন। দ্বিতীয় ওয়ানডের দল থেকে বাদ পড়েছেন জশুয়া দা সিলভা ও আন্দ্রে ম্যাককার্থি।

অল্প কিছু পরিবর্তনের আভাস দেওয়া বাংলাদেশ এনেছে দুটি পরিবর্তন। দলে ফিরেছেন অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন ও পেসার তাসকিন আহমেদ।

এই সিরিজেই অভিষিক্ত হাসান মাহমুদ নেই দলে। তার সঙ্গী হয়েছেন দুই ম্যাচে উইকেট না পাওয়া আরেক পেসার রুবেল হোসেন।

তামিম ইকবাল, লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, মেহেদী হাসান মিরাজ, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ।

টানা দুই ম্যাচে টস জিতলেন জেসন মোহাম্মেদ। আগের ম্যাচে ব্যাটিং নেওয়া ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক এবার পাল্টালেন সিদ্ধান্ত। নিলেন বোলিং। সিরিজে প্রথমবার আগে ব্যাটিং করবে বাংলাদেশ।

প্রথম দুই ম্যাচে সহজেই জিতে সিরিজ নিশ্চিত করলেও পুরোপুরি খুশি নয় বাংলাদেশ। বোলাররা ভালো করেছেন দুই ম্যাচেই, কিন্তু ব্যাটিং হয়নি মনমতো। শেষ ম্যাচে সতীর্থদের পরিপূর্ণ এক ম্যাচ খেলার তাগিদ দিলেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে সোমবার তৃতীয় ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচ জিতে ওয়ানডেতে ক্যারিবিয়ানদের দ্বিতীয়বারের মতো হোয়াইটওয়াশ করার সুযোগ সাকিব আল হাসান-মুশফিকুর রহিমদের সামনে।

শেষ ম্যাচের আগে তামিম জানিয়েছেন তার চাওয়া। তার মতে, বোলিং, ফিল্ডিংয়ে আরেকটু ভালো করা সম্ভব। ব্যাটিংয়ে কেউ থিতু হলে তার কাছ থেকে অধিনায়ক চান বড় ইনিংস।

ঢাকায় খুব একটা লড়াই করতে না পারা ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাকিয়ে আছে চট্টগ্রামের ম্যাচের দিকে। প্রথম দেখায় এই ভেন্যুর উইকেট আশা দেখাচ্ছে তাদের। ঢাকার চেয়ে ব্যাটিংয়ে জন্য ভালো পিচ ও কন্ডিশন দেখছে সফরকারীরা।

প্রথম ওয়ানডেতে ১২২ ও পরেরটিতে ১৪৮ রানে গুটিয়ে যাওয়ায় ব্যাটিং নিয়েই দুর্ভাবনা বেশি ওয়েস্ট ইন্ডিজের। হোয়াইটওয়াশ এড়াতে কোচ ফিল সিমন্স ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে চেয়েছেন লড়াইয়ের রান।

তারা রান পেলে বোলারদের মাঝে বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জের সামর্থ্য দেখছেন সহকারি কোচ রডি ইস্টউইক। আইসিসি ওয়ানডে সুপার লিগে পয়েন্টের খাতা খুলতে তার বাজি আকিল হোসেইন, আলজারি জোসেফরা।