দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে মূলধারার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। করোনা পরিস্থিতির মাঝে বেশ কয়েকবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পদক্ষপের কথা শোনা গেলেও মহামারির প্রকোপে শেষপর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি কোনো পদক্ষেপ। ফলশ্রুতিতে টানা ৫১০ ধরে বন্ধ রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো, যা টানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সময়কাল বিবেচনায় অন্যতম সর্বোচ্চ। সম্প্রতি চলমান কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করার বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হলে আবারও প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হচ্ছে কিনা!

তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। সোমবার (৯ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না সিদ্ধান্ত হয়নি। সেটা শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানাবে। ওনারা এটা নিয়ে আলোচনা করছে কীভাবে এটা করা যায়। আগে তো ভ্যাকসিনেশন তারা জোরদার করছে। যাতে ছাত্রদেরও ভ্যাকসিন দিয়ে দেয়া যায়। তারপর দেখা যাক। সেটা ওনারা আপনাদের ব্রিফ করবে।’

ভ্যাকসিনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী সেদিন বৈঠক শেষে এ বিষয়ে কথা বলেছেন। হেলথ মিনিস্ট্রি এ বিষয়ে আপনাদের ব্রিফ করবে। এটা আজকের মিটিংয়ে আলোচনা হয়নি।’

বিধিনিষেধের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিনোদনকেন্দ্র এবং গ্যাদারিংয়ের পারমিশন দেয়া হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত দেয়নি।’

অর্ধেক গণপরিবহন চলাচলের বিষয়ে জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে সাজেশন দেয়া হয়েছে অন্তত কিছুদিন আপনারা এটা করে দেন। আমরা জেলা পর্যায়ে ডিসি, এসপি, পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে বসে নিজেরা ঠিক করে দেব যতগুলো বাস আছে তার অর্ধেক আজ চলবে, পরদিন বাকি অর্ধেক চলবে।’

তিনি বলেন, ‘এটা মূলত আন্তঃজেলা বাসের জন্য। যাতে বাইরে থেকে কম সংখ্যক বাস আসে। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, শ্রমিক ইউনিয়নের মালিক-শ্রমিক যারা আছেন তারা বসে সিদ্ধান্ত নেবেন। তারা একটা পদ্ধতি বের করবে। বেইজিংয়ে আমি দেখেছি এমন।’

অর্ধেক বাস চলার ফলে আরও বেশি সমস্যা তৈরি হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একসঙ্গে বেশি গাড়ি ঢাকা বা চট্টগ্রামের দিকে যেন না ঢোকে। এটা স্থানীয় প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেবে। সিটির ক্ষেত্রেও মেট্রোপলিটন পুলিশ ও মালিক সমিতি সিদ্ধান্ত নেবে। কোনো কিছু ভায়োলেশন হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে। সবকিছু আমরা স্থানীয় প্রশাসনের ওপর ছেড়ে দিয়েছি।’