বীর মুক্তিযোদ্ধা, উখিয়া-টেকনাফের সাবেক এমপি, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, কক্সবাজার সরকারী কলেজের একসময়ের শিক্ষক, আলহাজ্ব অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী এখন আর নেই। বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর ২০২০ ইং) রাতে কক্সবাজার হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত ৩ ঘটিকার সময় তিনি ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওইন্না ইলাইহি রাজিউন।

(১৩ নভেম্বর) শুক্রবার আছরের নামাজের পর হ্নীলা দরগাহ ময়দানে মরহুমের নামাজে জানাযা শেষে দরগাহমুরা কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

আমি মরহুমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। আল্লাহপাক তাঁকে রহম করুন। তাঁর ভালো কাজ গুলো কবুল করুন। তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসীব করুন।শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি জানাচ্ছি সমবেদনা। মহান আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে শোক কাটিয়ে উঠার তাওফিক দিন।

মরহুম অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী ছিলেন, একাধারে একজন আদর্শ শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা, পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ, সংগঠক ও মর্যাদাবান পার্লামেন্ট সদস্য। করোনাকালীন এই দুর্দিনেও তাঁর নামাজে জানাযায় জনতার বিশাল উপস্থিতি তাঁর মর্যাদার পরিচায়ক। তাঁকে নিয়ে আমার কিছু স্মৃতির কথা মনে পড়ছে।

২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ অক্টোবর উখিয়া পালংখালী এলাকার সমাজ সেবক মাষ্টার আব্দুল হাকিম ইন্তেকাল করেন। তিনি আমার ফুফাত ভাই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নেতা সৈয়দ হোছাইন চৌধুরীর শ্বশুর। অত্যন্ত ভদ্র অমায়িক এবং পরিচ্ছন্ন মানুষ ছিলেন তিনি। তাঁদের বাড়িতে অনেকবার গেছি আমি। বাবার সাথে ছিল তাঁর খুব ঘনিষ্টতা। তিনি খুবই স্নেহ করতেন আমাকে। তাঁর ইন্তেকালটা ছিল তাদের পরিবারে বজ্রাঘাতের মত। অসুস্থ ছিলেন সৈয়দ হোসাইনের শ্বাশুড়ি। সপ্তাহ দশ দিন আগে তাঁর চিকিৎসা করতে কক্সবাজার এসে ধরা পড়ে মরহুম আব্দুল হাকিম মাষ্টারের নানা রোগ।

ইন্তেকালের ২/৩দিন আগে হোটেল প্যানোয়াতে অবস্থান কালে তাঁর সাথে সর্বশেষ দেখা হয় আমার। তখন আমার অফিসের পাশের রুমেই ছিলেন তিনি। তখনো তিনি আমার কাছে জানতে চান ‘ওবা কেন আছ, তোঁয়ার বাপ কেন আছে’ বলে। চিকিৎসার জন্য তাঁকে চট্টগ্রাম নেয়া হয়েছিল ইন্তেকালের আগের দিন। সেখানেই তিনি ইন্তেকাল করেছেন। আমি তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।

১৯ অক্টোবর সকাল সাড়ে দশটায় স্থানীয় ফারির বিল আলিম মাদ্রাসা ময়দানে মরহুমের নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। আত্মীয় স্বজন ছাড়াও দল-মত নির্বশেষে প্রচুর শোকার্ত মানুষ জানাযায় অংশ গ্রহণ করেন।

ওই দিন জানাযার মাঠেই আমার দেখা হয় উখিয়া টেনাফের সাবেক এমপি অধ্যাপক মুহাম্মদ আলীর সাথে। মুসাপাহা করার জন্য হাত বাড়িয়ে দিতেই তিনি আমার হাত ধরে টেনে নিয়ে গেলেন পাশের মাদ্রাসা অফিসে। সেখানে একে একে আরো উপস্থিত হলেন উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উখিয়া বঙ্গমাতা মহিলা ডিগ্রী কলেজের তৎকালীন প্রিন্সিপ্যাল বর্তমান উখিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান, আমার বন্ধু হামিদুল হক চৌধুরী, প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন মাওলানা হামিদুল হক, পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (আমার তালত ভাই) গফুর উদ্দিন চৌধুরী, কক্সবাজার জেলা ছাত্র লীগের সাবেক সভাপতি আলী আহমদ, মেম্বার ফজলকাদের ভুট্টো, ওয়াকফ ষ্টেটের বর্তমান পরিচালক আনোয়ার চৌধুরীসহ এলাকার অনেক মুরুব্বি। মাদ্রাসার সভাপতি মঞ্জুর আলম ও সুপার মাওলানা জমির উদ্দিন (তাঁরা দু’জনই আমার আত্মীয়) সবাইকে স্বাগত জানিয়ে আপ্যায়িত করলেন আমাদেরকে।

অধ্যাপক মুহাম্মদ আলী এমপি থাকার সময় ওই মাদ্রাসায় সহযোগিতার কথা স্মরণ করে মাদ্রাসার পক্ষ থেকে তাঁকে ধন্যবাদ জানানো হয়। তখন মাদ্রাসার নানা অভাবের কথা জানতে চাইলেন তিনি। পর্যাপ্ত সহযোগিতা না পাওয়ায় অসন্তুষ্টিও প্রকাশ করলেন তিনি। এসময় অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য ৩০ জোড়া টোল করে দেবার ঘোষণা দিয়ে শিক্ষার প্রতি তাঁর অনুরাগের পরিচয় দিলেন।

সেখানে আলোচনা হয় আরো অনেক কথা। মুহাম্মদ আলী সাহেব বললেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের জনগনের জন্য অনেক কিছু করছেন। কিন্তু করাপশন ও লুটপাটের কারণে জনগণ সুবিধা পাচ্ছেন কম। আমলাদের সাথে কিছু রাজনৈতিক লুটেরা যুক্ত হয়ে দেশটারে ছারখার করে দিচ্ছে। মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নে নেত্রী শেখ হাসিনা অনেক কাজ করেছেন। কিন্তু আলেম ওলামাদের বিভক্তির কারণে তার সুফল আওয়ামী লীগ কতটুকু পাবে তা নিশ্চিত নয়।

অতীতে স্থাপিত বিভিন্ন প্রকল্পের নাম ফলক ভেঙ্গেফেলার ব্যাপারে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এতে করে সম্মানিত লোক গুলোকে অসম্মানিত করা হয়। এটি ভাল কাজ নয়। কারো নামফলক ভেঙ্গে ফেলা হলেকি তার কৃতি মুছে ফেলা সম্ভব? এসময় হামিদুল হক চৌধুরী বললেন, সমাজে যে যা অবদান রাখে তার স্বীকৃতি থাকা দরকার। কারো নাম ফলক ভেঙ্গেফেলা গর্হিত কাজ। তিনি আরো বলেন, তাঁর বাড়ির পাশেই উখিয়া ডিগ্রী কলেজ। সেখানে কলেজ গেইটেই সাবেক এমপি বর্তমান কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরীর নামে বিরাট নাম ফলক আছে। ইশারা করলেই গেইটশুদ্ধ ভেঙ্গে ফেলার কথা। কিন্তু না, তাতো আমরা করিনি এবং কাউকে তা করতেও দিইনি। সমাজের গুণীদের কৃতি মুছে দেয়া যায়না।

সেদিন পালংখালীতে পারিবারিক আত্মীয় ছাড়াও দেখা হয়ে যায় প্রচুর পুরানো বন্ধু-বান্ধব ও সহকর্মীদের। তাদের আন্তরিকতার কোন ঘাটতি দেখিনি আমি। দীর্ঘক্ষণ ধরে হামিদুল হক চৌধুরী তাঁর সাথেই ধরে রাখলেন আমাকে। ফারির বিল থেকে পালংখালী ষ্টেশনে এসে বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে জমলো আরেক দফা আড্ডা। সেখানে কথা হয় এমপি আব্দুর রহমান বদির মানুষ পেটানোর বিষয় নিয়ে। অনেকেই বললেন ‘এমপি বদি তো আসলে কোন মানুষ পেটান নি। তিনি তো আমলা পিটিয়েছেন। আমলারা আসলে মানুষের কামলা। তারা ঠিক মত মানুষের কাজ করেনি বলেই তাদের এই মার দরকার ছিল’। সংবাদ কর্মী হিসেবে আমাকে লক্ষ্য করে কয়েজন বললেন, আপনারা সংবাদ পত্রে এমপি বদি শুধু মানুষ পিটিয়েছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেন। কিন্তু তিনি যে মানুষের লাভের জন্য ‘অভদ্র কিছু মানুষকে পিটিয়েছেন’ সে কথা গুলো তো লেখেন নি।

অধ্যাপক মুহাম্মদ আলী সাহেব ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দের পার্লামেন্টে এমপি থাকার সময় একজন সংবাদ কর্মী এবং দৈনিক হিমছড়ির সম্পাদক হিসেবে আমার সাথে ছিল ভালো সম্পর্ক। তিনি খুবই মুল্যায়ন করতেন আমাকে। আর কাজ আদায় করার জন্য তিনি আমলাদের কিভাবে কাজে লাগিয়েছিলেন সেরকম কয়েকটি ঘটনার আমি সাক্ষী।

তিনি এমপি থাকাকালীন সময়ে রবিবারে পার্লামেন্টে যাওয়ার সময় আমাকেও ডাকা পাঠাতেন বিমানবন্দরে। অবশ্য অনেক দলীয় নেতা-কর্মী ও সেখানে থাকতেন। বিমানবন্দর পর্যন্ত আমরা তাঁকে সঙ্গ দিতাম। একইভাবে পার্লামেন্ট থেকে আসার সময়ও ডেকে পাঠাতেন আমাকে। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তিনি হিল ডাউন সার্কিট হাউজে গিয়ে রেষ্ট নিতেন। সবাইকে বিদায় দিয়ে আমাকে ছাড়তেন সবার শেষে। ওখানে তাঁর সাথে চা-বিস্কুটের পাশাপাশি মহেশখালীর কচ কচে মিষ্টি পান খাওয়াতেন। সেই থেকে আমারো পানের অভ্যাস গড়ে উঠেছিল। তবে এখন পান আর খাওয়া হয়না।

একদিন সার্কিট হাউজে বসেই এমপি সাহেব কল দিলেন সড়ক জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে। দুপুর বলেই সম্ভবত তখন তিনি রেষ্টে ছিলেন। ওদিকে ফোন ধরেছিলেন অন্য কেউ। এমপি সাহেবকে বলতে শুনলাম ‘এমপি মুহাম্মদ আলী ফোন করেছে বল’। ১০ মিনিটের মধ্যে এক্সিএন সাহেব চোখ মুছে মুছে সার্কিট হাউজে ঢুকলেন। তাকে দেখেই এমপি সাহেব বলেন ‘সরকারী চাকরী কর আর অফিস টাইমে ঘুমাও’? আমার পাশে একটি চেয়ার খালী থাকলেও তাকে বসতে না বলে নির্দেশ দিলেন ‘আমি রোববারে পার্লামেন্টে যাওয়ার আগেই টেকনাফ ডাক বাংলো থেকে শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত সড়কের নকশা এবং প্লান ষ্টিমিট তৈরী করে দেবেন’। তখন এক্সিএন সাহেব বলেন স্যার বাজেট তো নাই। এমপি সাহেব ধমক দিয়ে বললেন, ‘বেশি কথা বল না। বাজেট তোমার বাবা দেবেনা। বাজেট তো আমার সরকার দেবে।’ যাও বলে তাকে বিদায় দেন। বসতেও বলেননি।

অন্য একদিন আমরা তাঁকে রিসিভ করতে বিমান বন্দরে যাই। মাঝারী ধরণের বৃষ্টিপাত হচ্ছিল তখন। বিমান ল্যান্ড করলে আমরা মাইক্রো নিয়ে টার্মাকে ঢুকে পড়ি। এমপি সাহেব গাড়িতে উঠতে উঠতে একজন লোক বিমান থেকে নেমে মাথার উপর একটি পত্রিকা দিয়ে হেঁটে টার্মাক পার হচ্ছিলেন। এসময় তৎকালীন জিপি এড. নুরুল মোস্তফা মানিক এমপি সাহেবের কাছে জানতে চাইলেন তিনি ওই লোকটাকে চিনেন কি না? ওই সময় দেখা গেল গেইটের বাইরে দাড়াঁনো এসপির সাইন বোর্ড লাগানো গাড়িতে লোকটি উঠে চলে গেলেন। আমিও তখন লোকটি কে জানি না। মানিক সাহেব বললেন তিনি কক্সবাজারের এসপি। সম্ভবত তাঁর নাম ছিল লুৎফুর রহমান।

তখন এমপি সাহেব বললেন, মানিক! আমি কক্সবাজারে একমাত্র সরকারী দলের এমপি। সে আমাকে চিনবে, নাকি আমি তাকে চিনব? সেদিনও সার্কিট হাউজে এসে সবাইকে বিদায় দিয়ে আমাকে বসতে বলে কল দিলেন ডিসি (আলী ইমাম মজুমদার) কে। বললেন আপনার এসপি কক্সবাজারের একমাত্র সরকার দলের এমপিকে চিনে না। সে এখানে কাজ করবে কেমনে? দেখলাম ঠিক ১০/১৫ মিনিটে মাথায় ডিসি-এসপি দু’জনই সার্কিট হাউজে হাজির। তখনো এমপি সাহেবের সামনে দু’টি চেয়ারের একটিতে আমি বসা। খালি চেয়ারে ডিসি সাহেবকে বসতে বললেও এসপিকে বসতে বললেন না তিনি। এদিকে ডিসি আলী ইমাম মজুমদারের সাথে ছিল আমার ভাল সম্পর্ক। আমি তখন লজ্জায় পড়ে গেলাম। অগত্যা চেয়ার ছেড়ে দিয়ে আমি বের হয়ে গেলাম ওখান থেকে। অল্প দিনের মধ্যে কক্সবাজার ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন সেই এসপি সাহেব।

বর্তমানে কিছু কিছু এমপিকে অসহায়ের মত ডিসি-এসপিকে ফুল দেয়ার দৃশ্য দেখে লজ্জা এবং হাসি পায়। হায়রে! কোথায় একজন জনপ্রতিনিধি, এমপি, পার্লামেন্ট সদস্য, আইন প্রনেতার মর্যাদা! আর কোথায় চাকরিজীবী একজন ডিসি-এসপি? হয়ত ওই এমপি সাহেবরা জানেন না তার সম্মান-মর্যাদা, ক্ষমতা ও অবস্থান।

এভাবে একদিন বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে দেখা হয়ে যায় তৎকালীন জেলা বিএনপির সভাপতি, চকরিয়া আসনের এমপি (পরবর্তীতে ৪দলীয় জোট সরকারের যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমানে ভারতের শিলংএ নির্বাসিত) সালাহউদ্দিন আহমদ ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা (পরবর্তীতে যোদ্ধাপরাধ মামলায় ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত) মীর কাসেম আলীর সাথে। ওনারাও একই ফ্লাইটে ঢাকা যাচ্ছিলেন। সেদিন মোহাম্মদ আলী সাহেব ভিআইপি লাউঞ্জে ঢুকার সময় তাঁর হাতে ছিল এক কপি (তখন হ্যান্ড কম্পোজে বের করা) দৈনিক হিমছড়ি।

আমরা ভিআইপি লাউঞ্জে ঢুকার আগেই সালাহউদ্দিন সাহেব ও মীর কাসেম আলী সাহেব সেখানে বসা ছিলেন। মোহাম্মদ আলী সাহেব মীর কাসেম আলীর পাশের খালী সোফায় গিয়ে বসে তাঁদের সাথে কুশল বিনিময় করে দৈনিক হিমছড়িতে চোখ বুলাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি মীর কাসেম আলীকে বললেন, ‘এই পত্রিকাটা আপনি একটু দেখিয়েন। পারলে সহযোগিতা দিয়েন’। পরে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে হিমছড়ির জন্য ২০টি সাইকেল চেয়ে একটি চিঠি পাঠালে মীর কাসেম আলী সাহেব দৈনিক হিমছড়িকে দুই হাজার টাকার মহা! অনুদান দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে মিডিয়ার জন্য নাকি তিনি কোটি কোটি টাকা খরচ! করেছেন। অথচ ইসলামি ব্যাংকের কোটি কোটি টাকা নাচ-গানের জন্যও খরচ করা হয়েছে।

অন্য একদিন এভাবে তাঁকে বিদায় দেয়ার জন্য বিমানবন্দরে যাওয়ার সময় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক প্রধান শিক্ষক বদলী জনিত বিষয়ে জটিলতা নিয়ে একটি আবেদন নিয়ে আসেন। আবেদনটি একটি হলুদ খামে ভরে আমার হাতে দিয়ে বলেন, এখানে এমপি সাহেবের একটি স্বাক্ষর নিতে পারলে তাঁর উপকার হবে। লাউঞ্জে বসে আলাপ চারিতার সময় ওই খামটি আমার হাতেই ছিল। ওই ব্যাপারে কথা বলতে আমার মনেই ছিলনা। বিমান কর্মীরা বিমান ছাড়ার কথা জানালে তিনি উঠে চলে যাওয়ার সময় নিজের থেকেই বলে উঠলেন, শারেক! ওই খামে কি? কোন কাজ আছে কিনা? দাও দেখি বলে খামটি আমার হাত নিয়ে খোলে দেখলেন এবং সুপারিশ লেখে স্বাক্ষর দিয়ে আমাকে ফেরত দিলেন।

ওই সংসদের শেষ দিন যখন মুহাম্মদ আলী সাহেব পার্লামেন্টে যোগদিতে যাচ্ছিলেন সে দিনও তিনি আমাকে ডেকে পাঠিয়েছিনে বিমানবন্দরে। সেদিন বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে তাঁর সাথে আমি ছাড়াও ছিলেন তাঁর বড় ছেলে রাশেদ এবং তাঁর মেয়ের জামাই দেলোয়ার। তিনি সেদিন উখিয়া-টেকনাফের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি রাজনৈতিক বিষয়ে আমার মতামত নিয়ে ছিলেন।

আসলে আমাদের দেশে অনেক কিছুর প্রাচুর্য্য থাকলেও গুনীদের সম্মান ও কারো গুণের স্বীকৃতি দেয়ার ব্যাপারে রয়েছে আমাদের প্রচন্ড দৈন্যতা। অথচ এ কথাও আমাদের জানা আছে ‘যে সমাজে গুনীরা গুণের স্বীকৃতি পায় না সেখানে গুনী জন্মায় না। সাবেক এমপি অধ্যাপক মুহাম্মদ আলী সাহেব ও অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরীর পক্ষ থেকে অন্যের গুণের স্বীকৃতির বিষয়টি বর্তমান সমাজে অবশ্যই মহত্ত্বের এবং প্রশংসার দাবীদার। ১৪.১১.২০২০ খ্রিষ্টাব্দ।

লেখক, বিশিষ্ট সাংবাদিক, কলামিস্ট