পূর্ণিমার জোয়ার ও ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সেন্টমার্টিনে ব্যাপকভাবে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দ্বীপের চারিদিকে ভাঙন, ঘরবাড়ি ও গাছপালার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রশাসনের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত ২৭ ঘরবাড়ি ও ট্রলার বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত লোকজনের ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। মানুষ আতঙ্কে থাকলেও নিরাপদে রয়েছে বলে জানা যায়।

বুধবার (২৬ মে) দুপুরের দিকে থেকে দ্বীপ এলাকার লোকজন ও প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পূর্ণিমার জোয়ার ও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সাগর উত্তাল রয়েছে। পানির উচ্চতা ৪ থেকে ৫ ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। সাগরের উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়ার কারণে দ্বীপের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপকভাবে ভেঙেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কিছু জায়গা। সেন্টমার্টিন প্রবেশের একমাত্র জেটিঘাট ভেঙে খানাখন্দে পরিণত হয়।

ওসাগরের পানি ও জেটি একাকার হয়ে গেছে। মাঝে মধ্যে ঢেউয়ের বুকে ঢুকে যায় এই জেটি। হয়ে উঠে নড়বড়ে। ভেঙে গেছে জেটির উপর ও নীচে। বলতে গেলেই ঝুঁকিপ্রবণ এই ঘাট। সেই সঙ্গে দ্বীপের চারিদিকে ভয়ানকভাবে ভেঙেছে। গত ৫০ বছরে দ্বীপের এমন ক্ষতি হয়নি।

গেল তিন থেকে ৪ দিন ধরে পূর্ণিমার জোয়ার ও ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের কারণে সাগরের পানি ও ঢেউয়ের আছড় বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান স্থানীয় জসিম উদ্দিন শুভ।

তিনি জানান, মঙ্গলবার থেকে পানির উচ্চতা ও ঢেউয়ের তীব্রতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। সাগরের তাণ্ডবে কবরস্থানের পশ্চিম দিকে ভেঙে গেছে। পূর্ব দিকেও ভেঙেছে। বেশ কিছু নারকেল গাছ উপড়ে গেছে। পুলিশ ফাঁড়ির দেয়াল ও প্রিন্স সেভেন নামের এক হোটেলের বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় সেন্টমার্টিনের একমাত্র প্রবেশ পথ ভাঙন ধরেছে। পথের বিভিন্ন জায়গায় ঢালায় উঠে খানাখন্দে পরিণত হচ্ছে। সেন্টমার্টিন রক্ষা করতে হলে চারপাশে বেড়িবাঁধ দিতে হবে বলে জানান এই পর্যটক ব্যবসায়ী ও সেন্টমার্টিন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক শুভ।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদ জানান, পূর্ণিমার জোয়ার ও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে দ্বীপের চারিদিকে ব্যাপকভাবে ভেঙে গেছে। প্রায় দ্বীপের ১০টির বেশি অংশে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এমন ক্ষতি গত ৫০ বছরেও হয়নি। দ্বীপের দক্ষিণ পাশের একটি জামে মসজিদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। সেই সঙ্গে জেলেদের বেশ কিছু বোট/ট্রলার ঢেউয়ের আঘাতে নষ্ট হয়েছে। বিধ্বস্ত হয় বেশ কিছু বাড়ি ঘর।

তিনি জানান, মানুষ নিরাপদে বাড়িতে রয়েছেন। হোটেল-মোটেল প্রস্তুত রয়েছে। সংকেত বাড়লেই সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হতো।

এছাড়া টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপের বেড়িবাঁধের কাজ শেষ হতে না হতেই ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের কবলে পড়েছে। সাগরের জোয়ারের পানির তীব্র ধাক্কা পড়ছে ব্লকের। ইতোমধ্যে দ্বীপের পশ্চিম পাশের বেশ কিছু ব্লক সরে পড়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে পানির ধাক্কায় বেড়িবাঁধ যেকোনো সময় ছিঁড়ে যাওয়ার আশঙ্কা এলাকাবাসীর। দ্বীপরক্ষার একমাত্র ভরসা এই বেড়িবাঁধ ধসে পড়লে জীবন ঝুঁকিতে পড়বে সেখানকার হাজারো মানুষ। সেই সাথে ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে শাহপরী দ্বীপের জালিয়াপাড়া প্রায় ২০টি বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. পারভেজ চৌধুরী জানান, সেন্টমার্টিনে বেশ কিছু অংশ ভেঙেছে। সেই সাথে শাহপরীর দ্বীপ ২০টি ও সেন্টমার্টিনে প্রায় ৭টি ঘর বিধ্বস্ত হয়। পাশাপাশি মাছ শিকারের ট্রলারও ভেঙে যায়। সব কিছুর তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।