কক্সবাজার: ভারী বর্ষণে ও মাতামুহুরী নদী বেয়ে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার ৩৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে এসব গ্রামের লাখো মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। পানিতে ডুবে মারা গেছে এক শিশু। গতকাল বুধবার বিকেল থেকে পৌর এলাকার গ্রামগুলো প্লাবিত হতে শুরু করে। জোয়ারের সময় পানি আরও বেড়ে যাচ্ছে। এর বাইরে উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নের আরও ১৬০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা যায়, চকরিয়া পৌর শহরের সব কটি সড়ক ডুবে গেছে। ভ্যান ও ট্রাকে করে মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছে। পৌর এলাকার বাসাবাড়িতে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি ঢুকে পড়েছে। কারও চুলায় আগুন জ্বলছে না। অনেকের আসবাব ডুবে গেছে। সড়কের ওপর অনেকে জাল ফেলে মাছ ধরছেন। চকরিয়া থানা ও চকরিয়া উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে হাঁটুসমান পানি ঢুকেছে। পৌর শহরের অন্তত দেড় হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পানিতে ডুবে আছে।

চকরিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজাউল করিম বলেন, তাঁর ওয়ার্ডের মৌলভীর চর, জালিয়াপাড়া ও শমসের পাড়া এলাকা ডুবে গেছে। জালিয়াপাড়া এলাকার অন্তত ৪০০ বসতঘরের চালা ডুবে গেছে। কিছু মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির উঠানের পানিতে ডুবে মো. মারুফ (২) নামের এক শিশু মারা গেছে। সে মৌলভীরচর এলাকার নেজাম উদ্দিনের ছেলে।

৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম বলেন, হিন্দুপাড়া এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে মাতামুহুরী নদীর পানি ঢুকছে। তবে পৌরসভার পক্ষ থেকে বালুর বস্তা ও মাটি দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

বসতঘরে পানি ঢোকায় দুর্ভোগে পড়েছে পৌরসভার বাসিন্দারা। বাটাখালী এলাকার বাসিন্দা দিদারুল ইসলাম বলেন, বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে ঘরের ভেতরে পানি ঢুকেছে। পরে পরিবারের সদস্যদের এক আত্মীয়ের পাঁচতলা বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এখন সব জায়গায় খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। ফুলতলা এলাকার বাসিন্দা মাহমুদা খানম বলেন, ‘বসতঘরে পানি ঢুকেছে। বুধবার রাত থেকে শিশুসন্তানদের নিয়ে পানিতেই থাকছি। ঘর ছেড়ে কোথাও গেলে চুরি হওয়ার আশঙ্কা আছে। রাতে এক ব্যক্তি রান্না করা খাবার পাঠিয়েছিল। সকালে পাউরুটি খেয়েছি। দুপুরে কিছু খাওয়া হয়নি। দোকানপাটও বন্ধ।’

 

চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী বলেন, চকরিয়া পৌরসভার পূর্ব, উত্তর ও পশ্চিমে মাতামুহুরী নদী রয়েছে। সেখানকার ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধে মাটি ও বালুর বস্তা দেওয়া হচ্ছে। মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। যাঁরা রান্না করতে পারছেন না, তাঁদের ঘরে খাবার পাঠানো হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে ১০ টন চাল, ১৫ বস্তা করে চিড়া ও গুড় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

প্রবাল/মইম