চট্টগ্রামে প্রতিদিনই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। গত রবিবার একদিনেই আক্রান্ত হয় ৫৫৯ জন। কিন্তু বিপরীতে কঠোর লকডাউন চলাকালেও বেড়েছে মানুষের যাতায়াত। লকডাউনের পঞ্চম দিনে নগরে ক্রমেই মানুষের চলাচল দেখা যাচ্ছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে এক হাজার ৬৩৮টি নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয় ৫৫৯ জনের।   আক্রান্তদের মধ্যে নগরে ৪১৪ জন এবং উপজেলায় ১৪৫ জন। এইদিন করোনায় মারা যান পাঁচজন। এর মধ্যে নগরে ১ জন এবং উপজেলায় ৪ জন। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় সংক্রমণের হার ৩৪ দশমিক ১২ শতাংশ। এ নিয়ে চট্টগ্রামে মোট আক্রান্ত হন ৬০ হাজার ৯২৭ জন।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, চট্টগ্রামে করোনা সংক্রমণ হার ক্রমশই বাড়ছে। গত রবিবার একদিনেই আক্রান্ত হয় ৫৫৯ জন। এটি চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ রেকর্ড। সুতারাং মানুষকে সতর্ক থাকতেই হবে এবং কোনো মতোই অপ্রয়োজনীয় ঘর থেকে বের হওয়া যাবে না।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয় করোনা প্রতিরোধে কঠোর লকডাউন। প্রথম চারদিন সড়কে কড়াকড়ি থাকলেও গতকাল সোমবার অনেকটা শিথিল ও ঢিলেঢালা দৃশ্য দেখা যায়। সড়কে গণপরিবহন না থাকলেও মূল সড়কে রিকশা, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা অনেক বেশি। কাঁচা বাজারগুলোতে আছে ভিড়। পাড়া, গলি উপগলিতে ঘুরাফেরা করছেন সাধারণ মানুষ। নেই স্বাস্থ্যবিধি, মুখে নেই মাস্ক।

খোলাবাজারে চলছে টিসিবি’র পণ্য বিক্রি, আছে দীর্ঘ লাইন। খোলা আছে ব্যাংক। চলছে লেনদেন।  অন্যদিকে, নগরে প্রবেশপথ সমুহেও কমছে কড়াকড়ি। তবে সড়কে বের হওয়া মানুষদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি পড়তে হচ্ছে। একই সঙ্গে সড়কে সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও বিজিবির টহলও রয়েছে। দায়িত্ব পালন করছেন জেলা প্রশাসনের ১২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারুক বলেন, গত পাঁচদিন ধরে ১২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সকাল বিকাল দুই শিফটে ভাগ হয়ে লকডাউন বাস্তবায়নে অভিযান পরিচালনা করছেন। প্রতিদিনই সরকারি নির্দেশনা না মানার অপারাধে জরিমানা এবং সতর্ক করা হচ্ছে। শিথিল হওয়ার সুযোগ নেই। জেলা প্রশাসন এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক আছে। তবে মানুষকেও নিজ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সতর্ক থাকতে হবে।