এ বছর জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট- জেএসসি পরীক্ষা হবার সম্ভাবনা নেই। কারণ হিসেবে আন্তঃ বোর্ড সমন্বয়ক বলছেন, অক্টোবরে এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হলে, মাত্র দেড় মাসের মধ্যে ৩০ লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব নয়।

এদিকে প্রাথমিক সমাপনী-পিইসি পরীক্ষার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে শিগগিরই এনিয়ে সিদ্ধান্ত আসছে বলে জানা গেছে।

করোনার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় গত দুই বছর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি), জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা হয়নি।

তবে এ বছর পুরোদমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকায় এই দুই শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাড়তি যত্ন নিচ্ছেন অভিভাবকরা। পুরোদমে ক্লাস চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরাও।

এই দুই পরীক্ষার আগে, ১৯ জুন থেকে শুরু হবে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষা, আর আগস্টে শুরু হয়ে অক্টোবরে শেষ হবে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা।

এই দুই পরীক্ষা নিয়ে যখন চলছে ব্যস্ততা তখন প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থী অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষার কী হবে, বোর্ডের বিভিন্ন মাধ্যমের খবর-পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে না।

তবে ঢাকা বোর্ড চেয়ারম্যান তপন কুমার সরকার বলছেন, পরীক্ষার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। এখনও কোন কিছু চূড়ান্ত হয়নি। তিনি মনে করেন, জেএসসি আয়োজন কঠিন হবে।

অস্পষ্টতা আছে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার বিষয়েও। পরীক্ষা না নেয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত আছে মন্ত্রণালয়ের। কিন্তু তা স্পষ্ট করলেন না প্রাথমিক সচিব।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আমিনুল ইসলাম খান বললেন, আপাতত শিক্ষার্থীদের শিখনের ঘাটতি মেটাতে মনোযোগ দেয়া হচ্ছে।

এদিকে, ২০২৩ সাল থেকে চালু হতে যাওয়া পাঠ্যক্রমে দুই সমাপনী পরীক্ষা নেই। করোনায় পরীক্ষা হয়নি গেলো দুই বছরের।

তাই চলতি বছর সমাপনী পরীক্ষার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্নও তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।

তার পরামর্শ, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে পরীক্ষা নির্ভরতা কমিয়ে শিক্ষার্থীদের বছরব্যাপী বড় পরিসরে মূল্যায়নে করা হলে উপকার বেশি হবে।