বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে চিত্রনায়ক জায়েদ খানকেই বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। বুধবার এ পদ নিয়ে রুল শুনানির পর বিচারপতি মামনুন রহমান ও খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ জায়েদের পক্ষে রায় দিয়েছেন।

এখন কী করবেন নিপুণ আক্তার? নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে গত ৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনী আপিল বোর্ড জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল করে তাকে সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী ঘোষণা করেছিল। পরদিন বিকালে অভিনেত্রী শপথও নেন।

এরপর নিপুণ ও তার প্যানেলের জয়ী প্রার্থীদের চলচ্চিত্রের নানা সংগঠন ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। নায়িকা শিল্পী সমিতির চেয়ারে বসে হাসিমুখে ছবি তোলেন। এমনকি, টেবিলের ওপর নিজের নামের নেমপ্লেটও বসিয়ে নেন।

এতকিছু করার পর কি তবে নিপুণকে ছেড়ে দিতে হবে শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের চেয়ার? যেহেতু হাইকোর্ট আবারও জায়েদ খানের পক্ষেই রায় দিয়েছেন? এ ব্যাপারে নিপুণের পরবর্তী পদক্ষেপ কী?

অভিনেত্রীর আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে তারা আপিল করবেন।

একই কথা জানিয়েছেন নিপুণও। তিনি বলেছেন, ‘আমি ন্যায়বিচার পাইনি। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আমি সংক্ষুব্ধ। তাই আপিল দায়ের করব। বিষয়টি দেখছেন আমার আইনজীবী। এরইমধ্যে তিনি কাজ শুরু করে দিয়েছেন।’

অন্যদিকে, হাইকোর্টের রায়ের পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনবার ‘আলহামদুলিল্লাহ’ লিখে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা, শুকরিয়া ও নিজের সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন জায়েদ খান। পাশাপাশি গণমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, এ রায়ের ফলে সত্যের জয় হয়েছে।

গত ২৮ জানুয়ারি এফডিসিতে অনুষ্ঠিত হয় শিল্পী সমিতির নির্বাচন। সেখানে সাধারণ সম্পাদক পদে জায়েদ খানের কাছে হেরে তার বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ ‍তুলেছিলেন নিপুণ।

সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ৪ ফেব্রুয়ারি জায়েদের প্রার্থিতা বাতিল করে সাধারণ সম্পাদক পদে নিপুণকে জয়ী ঘোষণা করেছিল নির্বাচনের জন্য গঠিত আপিল বোর্ড।

এর বিপক্ষে গত ৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে আবেদন করেন জায়েদ খান। সেদিনই জায়েদের বিরুদ্ধে দেওয়া আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্তকে বাতিল করে তাকে সপদে বহাল থাকার আদেশ দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তার প্রার্থিতা বাতিল কেন অবৈধ নয়, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।

হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে গত ৮ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতে আবেদন করেন নিপুণ আক্তার। পরদিন শুনানি শেষে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে সাধারণ সম্পাদক পদের ওপর স্থিতিবস্থা জারি করেন।

এছাড়া এই পদে জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ হবে না- এ বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্ট বেঞ্চকে আদেশ দেন চেম্বার আাদালত।

তারপর থেকে নিয়ে গত ১৪, ১৫, ২২, ২৪ এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি- মোট পাঁচ দফায় ধার্য হয়েছে রুল শুনানির তারিখ। কিন্তু প্রতিবারই পিছিয়ে গেছে। নতুন দিন ধার্য হয় ২ মার্চ। এদিন আবারও জায়েদ খানের পক্ষে রায় দেন হাইকোর্ট।