কাউন্সিলরা শিগগির জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সনদ প্রদানের দায়িত্ব পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম। বর্তমানে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন প্রক্রিয়া অনলাইন মাধ্যমে করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে নাগরিকদের যেতে হচ্ছে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে।

বুধবার রাজধানীর কাকরাইলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অডিটরিয়ামে ‘জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস-২০২১’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় মেয়র একথা বলেন।

মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘এসডিজির টার্গেট অনুযায়ী নগরবাসীকে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের আওতায় আনার লক্ষ্যে সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরদের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সনদ প্রদানের দায়িত্ব অর্পণ করা প্রয়োজন। আর সেটা দ্রুততম সময়ের মধ্যে করা হবে।’

বর্তমানে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নাগরিকদের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করতে হচ্ছে ভার্চুয়াল মাধ্যমে। নতুন এই পদ্ধতি ও এর ব্যবহার সম্পর্কে অনেক নাগরিকই জানেন না। ফলে তাদের যেতে হচ্ছে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে। ভার্চুয়াল পদ্ধতির আগে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কার্যালয় থেকেই দেওয়া হতো জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সনদ।

‘সবার জন্য প্রয়োজন, জন্ম ও মৃত্যুর পরপরই নিবন্ধন’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবারের দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

জন্ম ও মৃত্যু সনদের খরচ সম্পর্কে জানিয়ে আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘জন্ম বা মৃত্যুর ৪৫ দিন পর্যন্ত বিনামূল্যে, ৪৫ দিনের পর থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত ২৫ টাকা, পাঁচ বছরের পর থেকে ১০ বছর পর্যন্ত ৫০ টাকা এবং ১০ বছরের পর থেকে ১০০ টাকায় নিবন্ধন সনদ প্রদান করা হয়।’

মেয়র বলেন, ‘ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে শূন্য থেকে দুই বছর বয়সী সব শিশুকে জন্মসনদের সঙ্গে একটি করে গাছের চারা উপহার দেওয়া হয়।’

আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে বস্তিবাসীদের মাঝে কোভিড-১৯ এর টিকা, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়কে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলা বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। দেশের নিজস্ব অর্থায়নে এখন পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেলসহ মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে।’

‘সবার ঢাকা’ মোবাইল অ্যাপস ব্যবহার করে নগরবাসী সহজেই জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সনদ সম্পর্কে জানতে পারে বলেও জানান উত্তর সিটি মেয়র।

আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘অপরিকল্পিত ঢাকাকে সবাই মিলে সবার বাসযোগ্য সুস্থ, সচল ও আধুনিক ঢাকা গড়ে তুলতে হবে।’

স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে প্রধান অতিথি হিসেবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে ডিএসসিসির মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বক্তৃতা করেন।