মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে ৫০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা ৫০টি জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে সারাদেশ ঘুরবেন। ৬৪ জেলা প্রদক্ষিণ শেষে তারা ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরে নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিদের কাছে পতাকা হস্তান্তর করবেন।’

রোববার (৩ জানুয়ারি) স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনে গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির প্রথম সভা শেষে মন্ত্রী এ কথা জানান। মুক্তিযু্দ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে নয়জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নিয়ে ১৪ ডিসেম্বর মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়।

সভা শেষে মন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমরা সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করব। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী করোনাভাইরাসের কারণে যথাযথভাবে পালন করতে পারিনি। সেজন্য সরকার মুজিববর্ষকে আগামী বছরের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সম্প্রসারিত করেছে। এ জন্য মুজিববর্ষের অনেকগুলো কর্মসূচি সুবর্ণ জয়ন্তীর সঙ্গে সমন্বয় করে পালন করব।’

তিনি আরও জানান, ‘সুবর্ণ জয়ন্তীর থিম সং নির্বাচনে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের নেতৃত্বে একটি উপ-কমিটি, লোগোর জন্য শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির নেতৃত্বে একটি এবং ওয়েবসাইট খুলতে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নেতৃত্বে একটিসহ মোট তিনটি উপ-কমিটি করা হয়েছে। ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ওয়েবসাইট, ফেব্রুয়ারির মধ্যে লোগো এবং জানুয়ারি মাসের মধ্যেই থিম সং নির্বাচন করা হবে।’

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তপন কান্তি ঘোষ সভায় সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে বছরব্যাপী নেয়া কর্মসূচির প্রস্তাবিত রূপরেখা উপস্থাপন করেন।

এ বিষয়ে মোজাম্মেল হক বলেন, ‘মন্ত্রিসভা কমিটির সদস্যরা নতুন নতুন অনেক পরামর্শ দিয়েছেন। সেসব কম্পাইল করে আগামী সভায় উপস্থাপন করা হবে। চূড়ান্ত কর্মসূচি প্রকাশের আগে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি ও তার নির্দেশনা নিয়ে তা চূড়ান্ত করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন কমিটি এবং সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন কমিটি যৌথভাবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। সুবর্ণ জয়ন্তীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সভাপতিত্ব করবেন, রাষ্ট্রপতি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকার প্রধানরা সেখানে থাকবেন।’

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক তিন ধরনের বই ছাপানোর চিন্তা করা হচ্ছে। প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য এক ধরনের, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য এক ধরনের এবং কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আরেক ধরনের বই ছাপিয়ে সেগুলো ছেলেমেয়েদের কাছে বিনামূল্যে পৌঁছানোর পরিকল্পনা আছে। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানীদের নির্যাতন নিপীড়ন নিয়ে শর্টফিল্ম করে তা গ্রামেগঞ্জে, হাট-বাজারে প্রচার করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, এগুলো আমাদের পরিকল্পনা, আরও কিছু সাজেশন পাব, সেগুলো কম্পাইল করে আমরা কমিটিতে সিদ্ধান্ত নেব। আমরা চূড়ান্ত করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠাব।

সুবর্ণজয়ন্তীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান কোথায় হবে, সে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বা প্যারেড স্কয়ারে করব। ফেব্রুয়ারিতে যদি করোনা পরিস্থিতির পরিবর্তন আসে আমরা যেটা প্রত্যাশা করছি তা হল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হবে, যদি ছোট আকারে করতে হয় তাহলে প্যারেড স্কয়ারে করব।’

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, ‘২৬ মার্চের জাতীয় কর্মসূচি চলবে। পাশাপাশি বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সুবর্ণ জয়ন্তীর বিশেষ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বছরব্যাপী কর্মসূচি থাকবে। এর লক্ষ্য হবে মানুষের মধ্যে, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ঘটনা, মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গণাদের যে অবদান, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের যে অবদান সে বিষয়গুলো স্থানীয় প্রশাসন ও স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছে দেয়া।’

এছাড়া স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে প্রত্যেক জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরিত চিঠি পাঠানো হবে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিশেষ উত্তরীয়, টি-শার্ট, ক্যাপ এবং বীরাঙ্গণাদের শাড়ি, শাল উপহার দেয়া হবে। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ভ্রাম্যমাণ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী হবে। উপজেলা পর্যায়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশ এবং কেন্দ্রীয়ভাবে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মহাসমাবেশ হবে।