প্রায় এক যুগ পর জিম্বাবুয়েতে ওয়ানডে সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিকদের তিন উইকেটে হারিয়েছে টাইগাররা, আর ৯৬ রান করে সাকিব আল হাসান ম্যাচ সেরা।

প্রথমে ব্যাট করে ২৪০ রান তোলে জিম্বাবুয়ে। বাঁহাতি পেসার শরীফ নেন চার উইকেট। জবাব দিতে নেমে নিয়মিত উইকেট হারালেও এক প্রান্ত আগলে রেখে দলের জয় নিশ্চিত করেন সাকিব।

২৪১ টার্গেটটা ছোট বলেই কি তামিম লিটনের ধীরগতির অ্যাপ্রোচ। গোড়াতেই গলদ। টানা ১১ ম্যাচে ওপেনিংয়ে নেই ফিফটি পার্টনারশিপ। তামিম, লিটন, মিঠুন বাইশ গজে যেন ফিল্ডিং কোচ রায়ান কুকের ভূমিকা। ক্যাচিং প্র্যাকটিস। পঞ্চাশ রানেই তিনজনের বিদায়, টাইগাররা দিকহারা।

নাম্বার ফাইভ ক্রিজে নড়বড়ে মোসাদ্দেক, অমন পরিস্থিতিতে অপরিণত কলে সুইসাইড ব্যাটিং অর্ডারে মাহমুদুল্লার আগে সৈকত, কোন বিবেচনায়? প্রশ্নটা জোরালো হচ্ছে আরো।

চেজিংয়ে আবারো কি হার্টফেল, ভক্তদের মনের জোর বাড়ানোর চেষ্টায় সাকিব-রিয়াদ। কার্ডিফের সুখের স্মৃতি ফিরে আসছে কি হারারেতে? দুই অভিজ্ঞের ৫৫ রানের জুটি আশা দেখিয়ে নিরাশায় ডুবিয়েছে রিয়াদের দৃষ্টিকটু শট।

প্রমোশন পেয়েও মিরাজের আত্মাহুতি, ওমন আউটে আফিফের ব্যাখ্যা কি? রঙ্গিন পোশাকে বছরের দ্বিতীয় ফিফটি পেয়েও তখন শঙ্কার কালো মেঘ সাকিবের আকাশে।

টেল এন্ডারদের নিয়ে লড়াই চালিয়ে গেলেন সাকিব। অভিজ্ঞতার মূল্য অমূল্য বোঝালেন। বড় ক্রিকেটারের গুণ হয় এমনি, দুই বছর পর ওয়ানডে সেঞ্চুরি, বিপদে দলকে বাঁচিয়ে ম্যাচ জিতিয়ে সাকিবের স্বস্তির হাসি।

ব্যাটসম্যানদের হতাশার দিনে, বোলিং ইউনিট ছুটেছে দুর্বার গতিতে। রোদ্রজ্বল সকালে, ফ্ল্যাট উইকেটে তাসকিন অন সং, ঢাকা এক্সপ্রেসে টিনাশে গন। মিরাজ, সাকিবও রেখেছেন কাপ্তানের আস্থার প্রতিদান, দেড়শ’র আগেই স্বাগতিকদের টপ, মিডেল ভেঙ্গে চুরমার।

মাঝে অভিজ্ঞ টেইলরের কাউন্টার পাঞ্চ, শেষে মাধেভেরের হেভি চার্জ, গোটা দলকে গর্জে তোলার রেসিপি তামিমের জানা, হাঁটুর ব্যথাও দমাতে পারেনি।

হারারে স্পোর্টস ক্লাবে, তরুণ শরিফুলের চার উইকেট, ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগার, শেষে ব্যাটসম্যান সাকিবের জ্বলে ওঠা। এক ম্যাচ আগেই সিরিজ জয় বাংলাদেশের।