করোনা মহামারির কারণে প্রায় দেড় বছর ধরে বন্ধ থাকা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আপাতত না খোলার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জানিয়েছেন, দেশে করোনার টিকাদান কার্যক্রম চলছে। টিকাদান শেষ হলে খুলে দেয়া হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এছাড়া এই করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হোক এটা শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাই চাচ্ছেন না বলে জানান সরকারপ্রধান।

শনিবার দুপুরে জাতীয় সংসদের সমাপনী অধিবেশনে দেয়া এক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘টিকা দেয়ার পর স্কুল-কলেজ খুলে দেয়া হবে। শিশুদেরও তো করোনা হচ্ছে। জেনেশুনে শিশুদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেবো কিনা বিরোধী দলের উপনেতা ও সংসদ সদস্যদের বলতে চাই। আমরা জেনেশুনে শিশুদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারি না। শুরু বাংলাদেশেই এই অবস্থা না সারা বিশ্বেই এই অবস্থা। বাবা-মায়েরা চায় না তাদের সন্তানরা এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাক। আর যাদের ছেলে-মেয়ে নেই তারা শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কথা বলেন।’

টিকা নিয়ে সংকট কেটে গেছে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমরা ভারত থেকে করোনা টিকা কেনার ব্যবস্থা করেছিলাম। কিন্তু ভারতে যেভাবে করোনা আক্রান্ত সংখ্যা বেড়েছে ফলে তারা রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এতে কিছুদিন আমাদের সমস্যা হয়েছিল। এখন আর সমস্যা নেই। চীন এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে টিকা এসে গেছে আরও আসবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যেখানে টিকা পাওয়া যাচ্ছে সেখানে আমরা যোগাযোগ করছি। আরও কিনে আনবো। চীন, রাশিয়া, জাপানা, যুক্তরাষ্ট্র সব জায়গায় আমরা যোগাযোগ রেখেছি। আমি আগেই বলেছি আমরা ৮০ শতাংশ মানুষের টিকার আওতায় আনবো। বিনামূল্যে টিকা দেয়া হচ্ছে। আমরা অনেক টাকা দিয়ে টিকা কিনে এনেছি। কিন্তু জনগণের স্বার্থে বিনামূল্যে টিকা দিচ্ছি। আমরা সব কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার দিই গ্রামের ও খেটে খাওয়া মানুষের।’

চলমান কঠোর বিধিনিষেধ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে কঠোর বিধিনিষেধ দেয়া হয়েছে। আপনাদের প্রতি আহ্বান অন্তত নির্দেশনাগুলো মেনে চলুন। নিজে সুরক্ষিত থাকুন, অন্যকে সুরক্ষিত রাখুন। সবাই এটা মেনে চললে আমরা করোনা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবো।’

বাজেট অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে সংসদ নেতা জানান, এবারের বাজেটে করোনা পরিস্থিতি থেকে কীভাবে উত্তরণ হওয়া যায় সেই বিষয়টি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না। গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণ প্রকল্পের অনুকূলে আরও এক হাজার কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। আমরা আরও এক লাখ ঘর তৈরি করে দিচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২০ সালে মুজিববর্ষ থেকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আমরা সময় নিয়েছি। এই সময়ের মধ্যে আমরা চাই, বাংলাদেশের প্রতিটি গৃহহীন-ভূমিহীন মানুষ ঘর পাবে, ঠিকানা পাবে। বাংলাদেশে শতভাগ বিদ্যুতায়ন হবে।’

সাংসদদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘এলাকায় দেখবেন, কোনো লোক গৃহহীন আছে কি না? আপনারা সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ নেবেন, আমরা ঘর করে দেব। একটি মানুষও যাতে গৃহহীন না থাকে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’

দেশের বিচারব্যবস্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিচারব্যবস্থায় যত উন্নয়ন হয়েছে, তার সবটাই আওয়ামী লীগের সময় হয়েছে। বিএনপির আমলে ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়েও বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাদের সময় এক ছাত্রদল নেতার ঘাড়ে হাত রেখে আলোচনা করে বিচারপতির রায় দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়াও ভোট চুরির সুযোগ তৈরির জন্য প্রধান বিচারপতির মেয়াদ বাড়িয়ে তাকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার বিষয়টিও করেছিল বিএনপি।’