পেঁয়াজের দরের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে মধ্যবিত্ত মানুষের কথা চিন্তা করে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত বিপনন প্রতিষ্ঠান টিসিবির আমদানি করা পেঁয়াজ ৩৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি শুরু হয়েছে।

রোববার এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে ‘ঘরে বসে স্বস্তির পেঁয়াজ’ নামে অনলাইনে পেঁয়াজ বিক্রির এ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

প্রাথমিকভাবে রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বাসিন্দারা আটটি অনলাইন প্রতিষ্ঠনের মাধ্যমে টিসিবির সাশ্রয়ী মূল্যের পেঁয়াজ কিনতে পারবেন।

তবে একজন ক্রেতা সপ্তাহে একবারই সর্বোচ্চ তিন কেজি পেঁয়াজের অর্ডার দিতে পারবেন, প্রতিটি অর্ডারের ডেলিভারি মূল্য ধরা হয়েছে সর্বোচ্চ ৩০ টাকা।

সে হিসেবে তিন কেজি পেঁয়াজ বাসা পর্যন্ত আসতে ক্রেতার খরচ দাঁড়াবে ১৩৮ টাকা।

এর মধ্যে রোববার বিকাল থেকে চালডাল, স্বপ্ন, সিন্দাবাদ, সবজিবাজার ও যাচাই- নামে পাঁচটি ই-কমার্স সাইটের অনলাইনে অর্ডার নেওয়ার কথা।

পরদিন বিডিসোল ও একশপ ও আরও একটি যুক্ত হতে পারে।

ভারত রপ্তানি বন্ধ করায় গত বছরের মতো এবারও লাগামহীন হয়ে উঠেছে দেশে পেঁয়াজের বাজার। প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। গত শুক্রবার নাগাদ খুচরায় ভারতীয় পেঁয়াজ ৬০ টাকা থেকে ৭০ টাকা আর দেশি ক্রস জাতীয় পেঁয়াজ ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পেঁয়াজের দামবৃদ্ধি ঠেকাতে টিসিবি গত ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে খোলা বাজারে ৩০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করছে। সেখানে একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ ২ কেজি করে পেঁয়াজ কিনতে পারছেন। টিসিবি পেঁয়াজ কিনতে ভীড় থাকায় রাস্তায় দাড়িয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষাও করতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

এমন প্রেক্ষাপটে মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের অনলাইনে পেঁয়াজ পেতে এই কর্মসূচি নিয়েছে সরকার। শুরুতে সীমিত ও নির্বাচিত কিছু অনলাইন শপের মাধ্যমে পেঁয়াজ কিনতে পারবে ক্রেতারা।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “টিসিবি ৩০০ থেকে ৫০০ ট্রাক দিয়ে বিক্রি করতে পারে কিন্তু বড় পরিসরে সাশ্রয়ী মূল্যে পেঁয়াজ সরবরাহের জন্য অনলাইনে ই-ক্যাবের মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

প্রথমে হয়ত কিছু কিছু সমস্যা হতে পারে তবে সামনের দিনগুলোতে আরো সহজ হবে। ধীরে ধীরে আরো বড় পরিসরে করা হবে।”

ই-ক্যাবের জেনারেল ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম শোভন জানান, রোববার বিকেল থেকে ৫টি প্রতিষ্ঠান পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করবে যা ঢাকা ও চট্টগ্রামে সীমাবদ্ধ থাকছে। আপাতত এক অর্ডারে সর্বোচ্চ তিন কেজি পেঁয়াজ দেওয়া হলেও ভবিষ্যতে তা বাড়িয়ে ৫ কেজি করা হবে।

তিনি বলেন, একজন ক্রেতা এক সপ্তাহে একবার অর্ডার দিতে পারবে, মোবাইল নম্বর ও ঠিকানা দিয়ে যাচাই করা হবে, যেন একই ক্রেতা একাধিকবার অর্ডার দিতে না পারে।

গুদামঘর, ডেলিভারি ক্যাপাসিটি, ই-কমার্স ওয়েবসাইট ও ই-ক্যাবের সুপারিশ বিবেচনায় টিসিবির ডিলারশিপ দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিটি পরিবেশক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আপাতত দৈনিক আধা টন হিসাবে তিনদিন পর পর টিসিবি থেকে পেঁয়াজ সংগ্রহ করতে পারবে।

অনলাইনে ১০ হাজার টন পেঁয়াজ বিক্রি প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, যা বাড়তে পারে।

পুরো প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, টিসিবি ও ই-ক্যাব একটি অভিন্ন বিধিমালা বা এসওপি প্রণয়ন করেছে, যা মেনে চলতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান বাধ্য থাকবে।

বাণিজ্য সচিব মো. জাফর উদ্দীন, টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আরিফুল হাসান, ই-ক্যাব সভাপতি শমী কায়সার, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ তমালসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বক্তব্য অনুষ্ঠানে দেন।