টেস্ট, ওয়ানডেতে হারের পর প্রথমবার জয়ের মুখ দেখলো স্বাগতিকরা। সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে সফরকারী বাংলাদেশকে ২৩ রানে হারিয়ে সিরিজে সমতা আনলো জিম্বাবুয়ে। এর আগে প্রথমে ব্যাট করে ছয় উইকেট হারিয়ে ১৬৬ রান তোলো স্বাগতিকরা। জবাবে ১৯ দশমিক ৫ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তোলো ১৪৩ রান।

যেমন গোছানো ব্যাটিং করা দরকার ছিল, শুরু থেকেই সেটা পারেনি বাংলাদেশ। বরং ব্যাটসম্যানদের মধ্যে দেখা গেছে বারবার উড়িয়ে মারার চেষ্টা। যে চেষ্টাগুলোর বেশিরভাগই হয়েছে ক্যাচ।

দলের খাতায় ১৭ রান উঠতেই সাজঘরে ফিরে যান আগের ম্যাচের দুই হাফসেঞ্চুরিয়ান নাইম শেখ (৮ বলে ৫) আর সৌম্য সরকার (৭ বলে ৮)। ইনিংসের তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে ব্লেসিং মুজারাবানি বোল্ড করেন নাইমকে, তিন বল পর সৌম্য কভারে ক্যাচ দেন সিকান্দার রাজাকে।

অভিজ্ঞ সাকিব আল হাসানও সুবিধা করতে পারেননি। ১০ বলে ১২ করে ওয়েলিংটন মাসাকাদজাকে ডাউন দ্য উইকেটে তুলে মারতে গিয়ে কভারেই রাজার তালুবন্দী হন তিনি।

সেই ধাক্কা সামলানো তো পরে, নবম ওভারে এসে ফের জোড়া উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এবারও সেই মাসাকাদজা। ওভারের প্রথম বলেই লংঅনে তুলে দিয়ে মাহমুদউল্লাহ ফেরেন ৬ বলে ৪ রানে। দুই বল পর মাহেদি হাসান (১৯ বলে ১৫) তুলে দেন লং অফে।

বাংলাদেশের হারের ম্যাচে আলো ছড়ালেন অভিষেকের স্বাদ পাওয়া শামীম পাটোয়ারী। কেন তাকে নিয়ে এতো আলোচনা, কিছুটা হলেও বুঝিয়ে দিয়ে গেলেন ১৩ বলে ২৯ রানের ক্যামিওতে। ২২২ স্ট্রাইক রেটের ইনিংসে চার মারেন ৩টি, ছক্কা ২টি। যার সবগুলোই ছিল দর্শনীয়। যখন ক্রিজে এলেন, তখন জয়ের জন্য ৫২ বলে প্রয়োজন ৯৯ রান। যখন আউট হলেন, তখন দলের প্রয়োজন ২৯ বলে ৫৮ রান। হারতে বসা ম্যাচেও প্রাণ ফিরিয়েছিলেন শামীম। শেষপর্যন্ত বাকিদের ব্যর্থতায় হার নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

জিম্বাবুয়ে: ২০ ওভারে ১৬৬/৬ (মারুমানি ৩, মাধেভেরে ৭৩, চাকাভা ১৪, মায়ার্স ২৬, রাজা ৪, বার্ল ৩৪*, জঙ্গুয়ে ২; তাসকিন ৪-০-২৮-০, মেহেদি ১-০-১১-১, শরিফুল ৪-০-৩৩-৩, সাইফ ৪-০-৩৬-০, সাকিব ৪-০-৩২-১, সৌম্য ২-০-১৬-০, শামীম ১-০-৭-০)

বাংলাদেশ: ১৯.৫ ওভারে ১৪৩ (নাঈম ৫, সৌম্য ৮, মেহেদি ১৫, সাকিব ১২, মাহমুদউল্লাহ ৪, আফিফ ২৪, সোহান ৯, শামীম ২৯, সাইফ, তাসকিন ৫, শরিফুল ০*; রাজা ৩-০-২২-০, চাতারা ৪-০-২৪-২, মুজারাবানি ৪-০-২১-২, জঙ্গুয়ে ৩.৫-০-৩১-৩, মাসাকাদজা ৪-০-২০-৩, মাধেভেরে ১-০-১৬-০)