কক্সবাজার: টানা ৪ দিন টেকনাফে পৌর সভাসহ ৫ ইউনিয়নের স্মরণকালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ৩০ হাজার পানি বন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। বন্যা কবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষেরা জানায়. যত্রতত্র অপরিকল্পিতভাবে সরকারি-বেসরকারি ভাবে স্থাপনা নির্মাণ, খাল ভরাট. খালে বাঁধ.ছোট ব্রিজ. নাফ নদীর উপকূলীয় বেড়িবাঁধে পর্যাপ্ত পরিমাণ স্লুইস গেট নির্মাণ না করা, ব্রিটিশ আমলে নির্মাণকৃত সুইচগেট সমূহ অকেজো ও পানি নিষ্কাশনের বাধাগ্রস্ত এবং সীমান্ত সড়ক নির্মাণের প্রেক্ষিতে উপকূলীয় নির্মাণ কৃত অপরিকল্পিত স্হাপনায় বন্যার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।

চলমান টানা ৪দিনে প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা গুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হোয়াইক্যং উলুবনিয়া. হারাইংগ্যা ঘোনা.মৌলভী পাড়া. .ঝিমংখালী. হ্নীলা ইউনিয়নের ওয়াবরাং. চৌধুরী পাড়া. সিকদার পাড়া.ফুলের ডেইল. রংগীখালী. লামার পাড়া. লেদা. দরগার ছড়া ও টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নতূন পল্লান পাড়া. ডেইল পাড়া. নাজির পাড়া ও টেকনাফ পৌর শহর কলেজ পাড়া. জালিয়া পাড়া.ইসলামাবাদ. সাইটং ও সাবরাং ইউনিয়নের নাফ নদীর নিম্নাঞ্চল এলাকাসহ হাজার হাজার বসত বাড়ি,প্রধান সড়ক ও আঞ্চলিক সড়ক সহ প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানি বন্দী অবস্থায় জীবন যাপন করছে। অপরদিকে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের মনির ঘোনায় পাহাড় ধসে এক ব্যক্তি মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এ দিকে হ্নীলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পানিবন্দি এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার পারভেজ চৌধুরী প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে মাইকিং প্রচার অব্যাহত রেখে এবং ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসরত মানুষকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার জোর তাগিদ দিচ্ছেন।

এ দিকে হ্নীলা ইউনিয়নের নাফ-নদী উপকূলীয় এলাকা সংলগ্ন ওয়াব্রাং এ গৃহহীনও ভুমিহীন পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রয়ন প্রকল্পের ২৮ টি ঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল এবং নাফ নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে নিম্নাঞ্চলে এলাকার ঘরবাড়ি ও মানুষ পানিবন্দির শিকার হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সচেতন মহলের অভিযোগ উঠেছে নাফ নদীর প্রায় স্লুইচ গেইট অকেজো এবং বন্ধ থাকায় বর্ষণ কবলিত জলাবদ্ধতার কারণ বলে জানা গেছে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড ( পাউবো) উপ-সহকারী মিজানুর রহমান জানান. নাম নদীর উপকূলীয় বেড়িবাঁধ বনাম সীমান্ত সড়ক নির্মাণ কাজ এবং মানসম্মত সুইচগেট নির্মাণ হলে উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল এলাকার জলাবদ্ধতা থেকে নিরসন পাবে। হ্নীলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী বন্যা কবলিত এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং সান্ত্বনা দিয়ে বলেন. সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রান সামগ্রী বিতরনের কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নের মধ্যে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাড়িয়ে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বক্তব্য চেয়ারম্যানের ভূমিকা প্রশংসনীয়।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার পারভেজ চৌধুরী জানান. বন্যা কবলিত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং এতে কেউ বঞ্চিত হবে না। তিনি প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বন্যা কবলিত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে স্থানীয় বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

প্রবাল/মইম