টেকনাফে পৃথক অভিযান চালিয়ে সাড়ে ১০ কোটি টাকার ২ কেজি ১১৯ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস এবং ১১৮ বোতল বিদেশী মদ উদ্ধার করেছে বিজিবি।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল শেখ খালিদ মোহাম্মদ ইফতেখার অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের দমদমিয়া বিওপি’র বিআরএম-১০ থেকে আনুমানিক ৬০০ গজ দক্ষিণ-পূর্ব দিকে কামালের ঝোড়া নামক এলাকা দিয়ে মাদকের একটি বড় চালান মিয়ানমার হতে বাংলাদেশে পাচার হতে পারে এমন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদর এবং দমদমিয়া বিওপি হতে দুইটি চোরাচালান প্রতিরোধ টহলদল আনুমানিক রাত সাড়ে ৩টার দিকে আরও ২০০ গজ দক্ষিণ-পূর্ব দিকে মানুষের পায়ের আওয়াজ বুঝতে পেরে পূর্ব থেকেই কৌশলগত অবস্থানে থাকা বিজিবি টহলদল তাদেরকে চ্যালেঞ্জ ও ধাওয়া করে।
এসময় পাচারকারী দুইজন ব্যক্তি বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে কেওড়া বাগানের গহীনে কিছু গোপনে লুকিয়ে রেখে অন্ধকারের সুযোগে পালিয়ে যায়। বিজিবি টহলদল তাদের পিছু ধাওয়া করেও আটক করতে ব্যর্থ হয়।
পরে টহলদল ওই কেওড়া বাগানের সম্ভাব্য স্থানে ব্যাপক তল্লাশী অভিযান পরিচালনাকালে চোরাকারবারী কর্তৃক কৌশলগতভাবে গাছের ঝোপে লুকানো অবস্থায় কয়েকটি স্থানে কালো পলিথিনের প্যাকেট দেখতে পায়। এর মধ্যে একটিতে মোড়ানো ৫ কোটি ২৮ লাখ টাকার ১ কেজি ৫৬ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস জব্দ করতে সক্ষম হয় ।

তিনি জানান, একইদিন ভোরে অপর একটি অভিযানে শাহপরীরদ্বীপ বিওপি’র বিআরএম-৪ হতে আনুমানিক ১ কিলোমিটার দক্ষিণ দিকে ওবিএম পোষ্টের সামনে নাফ নদীর কিনারা দিয়ে মাদকদ্রব্যের একটি বড় চালান মিয়ানমার হতে বাংলাদেশে পাচারের সংবাদে শাহপরীরদ্বীপ বিওপি’র একটি চোরাচালান প্রতিরোধ টহলদল বেড়ী বাঁধের আঁড় নিয়ে কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে। আনুমানিক তিনটার দিকে টহলদল উক্ত স্থান হতে আনুমানিক ৩০০ গজ পূর্ব দিকে ২-৩ জন ব্যক্তিকে কয়েকটি বস্তা মাথায় করে নাফনদী হতে বেড়ী বাঁধের উপরে উঠতে দেখে।

টহলদল তাদের চ্যালেঞ্জ ও ধাওয়া করলে পাচারকারীরা বহনকৃত বস্তাগুলো ফেলে দিয়ে রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে দ্রুত পার্শ্ববর্তী গ্রামের দিকে পালিয়ে যায়।   পরে বিজিবি টহলদল চোরাকারবারীদের ফেলে যাওয়া বস্তার ভিতর হতে ৫ কোটি ৩৩ লাখ ২৭ হাজার টাকার ১ কেজি ৬৩ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস এবং ১১৮ বোতল মিয়ানমারের মদ উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত মালিকবিহীন ক্রিস্টাল মেথ আইস এবং মদ ব্যাটালিয়ন সদরের জমা রাখা হয়েছে। পরে আইনী কার্যক্রম শেষে তা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা , চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট , মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি , স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও মিডিয়া কর্মীদের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হবে।