টেকনাফ স্থল বন্দর কাস্টম হাউসে ২০২০-২১ অর্থবছরের ১২ মাসের (জুলাই-জুন) লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮৩ কোটি ৮৮ হাজার টাকা (৪০ শতাংশ) কম রাজস্ব আদায় হয়েছে। এ সময়ে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিলে ১৬৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হলেও আদায় হয়েছে মাত্র ৮৫ কোটি ৪৬ লাখ ১২ হাজার টাকা। এ বন্দরে ১২ মাসের মধ্যে ১১ মাসই রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি ছিল।

তবে কাস্টমস কর্মকর্তারা বলেছে, গত দেড় বছর করোনার প্রাদুর্ভাব এবং মিয়ানমারে জাতীয় নির্বাচন, সেনাবাহিনীর ক্ষমতা গ্রহণের কারণে উচ্চ শুল্কহারের পণ্য আমদানি কমে গেছে। যার কারণে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় সম্ভব হয়নি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বেঁধে দেওয়া লক্ষ্যমাত্রা গত কয়েক বছর ধরেই অর্জন করতে পারছে না টেকনাফ কাস্টম হাউস। প্রতি অর্থবছরেই রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি থাকছে। কাস্টমস হাউস থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে,টেকনাফ স্থল বন্দর দিয়ে মিয়ানমার হতে কাঠ, হিমায়িত মাছ, শুটকি, আচার, মসলা, গবাদি পশু সহ নানা পণ্য আমদানী হয়ে থাকে।অপরদিকে গার্মেন্টস পণ্য, প্লাস্টিক সামগ্রী, ঔষধ,সিমেন্ট মিয়ানমারে রপ্তানী হয়ে থাকে। সূত্র জানায়, করোনার প্রাদর্ভাবের আগে রাজস্ব আদায়ে সবসময় এগিয়ে থাকে টেকনাফ বন্দরের কাস্টমস হাউজ। ১৯৯৫ সাল থেকে বন্দরটি চালুর পর মায়ানমারের সঙ্গে এ পথেই বাংলাদেশের বেশিরভাগ বাণিজ্য হয়েছে।মায়ানমার থেকে গাছ, চাল, পেঁয়াজ, মাছসহ আমদানি করা পণ্যের পরিমাণ ৯০ শতাংশ হলেও বাংলাদেশ থেকে যায় মাত্র ১০ শতাংশ। যা কারণে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েই চলেছে। প্রতিবছর এ বন্দর দিয়ে এক হাজার কোটি টাকার অধিক পণ্য আমদানি হওয়ায় সরকার প্রায় শত কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে। বন্দরের ধারণ ক্ষমতা ৫০ হাজার টন হলেও সেখানে সব সময় পণ্য মজুূদ থাকে প্রায় ৫০০মেট্রিক টনের মতো। বর্তমানে বন্দরে ২টি পণ্যাগার, ১টি ওপেন ইয়ার্ড,১টি কোল স্পেস, ১টি ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ড রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

টেকনাফ কাস্টমস হাউস থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, ২০২০-২১ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।আর ২ হাজার ৪৬৪টি বিল অব এন্ট্রির বিপরীতে মিয়ানমার থেকে পণ্য আমদানি হয়েছে ৪২৪ কোটি ৯ লক্ষ ৪০ হাজার টাকার। এর থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৮৫ কোটি ৪৬ লাখ ১২ হাজার টাকা। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮৩ কোটি ৮৮ হাজার টাকা কম। ২০১৯-২০ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৫০ কোটি ৯ লাখ টাকা। আর ৪ হাজার ৮০৫টি বিল অব এন্ট্রির বিপরীতে মিয়ানমার থেকে পণ্য আমদানি হয় ১ হাজার ১১১ কোটি ৬১ লক্ষ ৭৭ হাজার টাকার। এর থেকে রাজস্ব আদায় হয় ১২৯ কোটি ৫২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। ঘাটতি ছিল ২০ কোটি ৫৬ লাখ ৪৬ হাজার টাকা (২০ শতাংশ)।

সূত্র মতে, গত দুই বছরে মিয়ানমার থেকে আমদানি হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮৯৭.৮৪৯ মেট্রেক টন পণ্য। বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ৭ হাজার ৫১০ মেট্রিক টন পণ্য।যার মূল্য ৩৬ কোটি ৭৩ লক্ষ ২০ হাজার টাকা।এর মধ্যে ২০১৯-২০ অর্থবছরে রপ্তানী হয়েছে ৩৬ কোটি ৬৯ লক্ষ ৬ হাজার টাকা এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে রপ্তানী হয়েছে মাত্র ৪ লক্ষ ১৪ হাজার টাকার পণ্য। সদ্য সমাপ্ত ২০২০-২১ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের পরিসংখ্যানে দেখা যায়-২০২০ সালের জুলাই মাসে ২১৪টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে পণ্য আমদানি হয়েছে ৪৮ কোটি ৩৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। আর ১১ কোটি ১৯ লাখ টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৫ কোটি ৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্ব ঘাটতি ছিল ৬ কোটি ১০ লাখ ৪৬ হাজার টাকা।

আগস্ট মাসে মাত্র ২৪টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে পণ্য আমদানি হয়েছে ৮ কোটি ১৭ লাখ ১৩ হাজার টাকা।আর ১৩ কোটি ৯ লাখ টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে মাত্র ৫৩ লাখ টাকা। রাজস্ব ঘাটতি ছিল ১২ কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। সেপ্টেম্বর মাসে ৪৯টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে পণ্য আমদানি হয়েছে ৮ কোটি ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা।আর ৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ কোটি ২৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা। রাজস্ব ঘাটতি ছিল ৬ কোটি ১৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা। অক্টোবর মাসে ৮১টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে পণ্য আমদানি হয়েছে ১৭ কোটি ৩০ লাখ ১৩ হাজার টাকা।আর ১২ কোটি ১০ লাখ টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। রাজস্ব ঘাটতি ছিল ১০ কোটি ৮৯ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। নভেম্বর মাসে মাত্র ২৫টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে পণ্য আমদানি হয়েছে ২ কোটি ৭৩ লাখ ২৪ হাজার টাকা।আর ১২ কোটি ১১ লাখ টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩৪ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। রাজস্ব ঘাটতি ছিল ১২ কোটি ৩১ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। ডিসেম্বর মাসে ৬১টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে পণ্য আমদানি হয়েছে ৫ কোটি ৬২ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। আর ১৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ কোটি ১২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। রাজস্ব ঘাটতি ছিল ১৩ কোটি ৯৮ লাখ ২৪ হাজার টাকা।

২০২১ সালের জানুয়ারী মাসে ১৬১টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে পণ্য আমদানি হয়েছে ১৭ কোটি ৭৪ লাখ ৩৪ হাজার টাকা।আর ১৯ কোটি ৮ লাখ টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৭ কোটি ১২ লাখ ৩০ হাজার টাকা। রাজস্ব ঘাটতি ছিল ১১ কোটি ৯৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা। ফেব্রুয়ারী মাসে ১৭১টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে পণ্য আমদানি হয়েছে ২১ কোটি ৬৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকা।আর ১৭ কোটি ৬২ লাখ টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৯ কোটি ৪০ হাজার টাকা। রাজস্ব ঘাটতি ছিল ৮ কোটি ৬১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। মার্চ মাসে ৩৫৯টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে পণ্য আমদানি হয়েছে ৪৯ কোটি ২১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।আর ২০ কোটি ২৪ লাখ টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১১ কোটি ৭৯ লাখ ১৬ হাজার টাকা। রাজস্ব ঘাটতি ছিল ৮ কোটি ৪৪ লাখ ৮৪ হাজার টাকা।

এপ্রিল মাসে ৩১৪টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে পণ্য আমদানি হয়েছে ৪২ কোটি ৯৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।আর ১৩ কোটি ৭০ লাখ টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১১ কোটি ৪৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। রাজস্ব ঘাটতি ছিল ২ কোটি ২৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকা।

মে. মাসে ৪৩৪টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে পণ্য আমদানি হয়েছে ৭২ কোটি ৪৭ লাখ ৩৪ হাজার টাকা।আর ১৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৫ কোটি ৯৬ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। রাজস্ব ঘাটতি ছিল মাত্র ৭৬ লাখ ৪২ হাজার টাকা।

সর্বশেষ জুন মাসে ৫৭১টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে পণ্য আমদানি হয়েছে ১২৯ কোটি ৮৪ লাখ ৩১ হাজার টাকা।আর ৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২০ কোটি ৫৮ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। রাজস্ব আয় বাড়ে ১১ কোটি ২ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। এ ছাড়া অন্যান্য খাতে টেকনাফ শুল্ক স্টেশন গেল অর্থ বছরে ২০ কোটি ৫০ লাখ ৯৬ হাজার টাকা,টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ ক্যাবল করিডোর খাতে গরু, মহিষ ও ছাগল আমদানি বাবদ ৩৮ কোটি ৬২ লাখ ১৩শ টাকা রাজস্ব আদায় করে।

এদিকে টেকনাফ বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনাভাইরাস মহামারির প্রভাব ও মিয়ানমারে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এবারে রাজস্ব আদায়ে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। টেকনাফ স্থল বন্দরের বিশিষ্ট আমদানি-রফতানি কারক ব্যবসায়ী মোঃ হাশেম বলেন,করোনা মহামারিতে গত বছর ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এর মধ্যে মিয়ানমারে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করায় আমদানিতে বিরূপ প্রভাব পড়েছে।তিনি আরও বলেন,‘যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়াতে টেকনাফ স্থল বন্দর দিয়ে সবাই ব্যবসা করতে চান। কিন্তু এখানকার অবকাঠামোগত ,জেটি ,ক্রেন. লেবার. ব্যবসায়ীদের বসার স্থান. শ্রমিকদের বসার স্থান. একাধিক গেইট ও ব্যাংক শাখা না থাকার কারণে এ সমস্যাগুলো বাণিজ্যে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বর্ষাকালে পণ্য লোড-অনালোড বন্ধ থাকা সপ্তাহে সাত দিন ২৪ ঘণ্টা বাণিজ্য সেবা চালু থাকলেও ব্যবসায়ীরা তার সুফল পাচ্ছেন না।যেমন বর্ষাকালে বৈরী আবহাওয়ায় পণ্য লোড-অনালোড বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা ব্যপক ক্ষতির সম্মুক্ণি হন।তাই বন্দরে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে বৈধ সুবিধা দেওয়া ও অবকাঠামো উন্নয়নের বিকল্প নেই। টেকনাফ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এহতেশামুল হক বাহাদুর বলেন, ‘করোনার কারণে আমদানি কমে যাওয়ায় রাজস্ব আয়ও কমে গেছে। ফলে রাজস্ব ঘাটতি হচ্ছে। পাশাপাশি চাহিদা অনুপাতে টেকনাফ বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন না হওয়া এবং উচ্চ শুল্কহারের পণ্য আমদানি কমে যাওয়ায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন,এ বন্দরে ৫০ থেকে ৬০ জন ব্যবসায়ী মিয়ানমারের সাথে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে জড়িত। সীমিত কয়েকটি পণ্যের পিয়াজ.আদা,মাছ আমদানীর জন্য ৫০ হাজার ডলার এবং অন্যান্য পণ্যের জন্য মাত্র ৩০ হাজার ডলার এলসি করা যায়। কিন্তু মুক্ত বাণিজ্যের যোগে এলসি আরও বৃদ্ধি না করলে বন্দরে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে ধীরে ধীরে হৃাস পায়। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ থেকে কিছু পণ্য রপ্তানি হলেও মিয়ানমার থেকে বেশি পণ্য আমদানী করা হয়।কিন্ত অধিক পন্য রপ্তানি না করতে পারলে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিবে।বাংলাদেশের অনেক পন্য আছে যেগুলো মিয়ানমার চীন ও থাইল্যান্ড থেকে আমদানী করে। তাই সরকারের উচিত মিয়ানমারে রফতানি বৃদ্ধিতে কাযকরী পদক্ষেপ গ্রহন করা।

টেকনাফ কাস্টমস হাউজের শুল্ক কর্মকর্তা মো: আব্দুন নুর জানান, পণ্য চালান ও খালাসে কাস্টমসে অতীতের চেয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বেড়েছে। শুল্ক ফাঁকি বন্ধে কড়াকড়ি আরোপ করায় রাজস্ব আদায় হচ্ছে। শুল্ক ফাঁকির সঙ্গেও কেউ কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।এছাড়া বন্দরের ব্যবসায়ীদের বৈধ সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে কাস্টমস আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরও জানান,প্রতি সপ্তাহে মাছ ও কাঠভর্তি দু-তিনটি কার্গো মিয়ানমারের আকিয়াব বন্দর থেকে টেকনাফ আসছে।২০২০-২১ অর্থবছরে প্রতি মাসে আমদানি পণ্যের বিপরীতে সরকারের রাজস্ব আয় গড়ে ৭ কোটি টাকার উপরে হলেও গড়ে ১৪ কোটি টাকা কম রাজস্ব আদায় হয়েছে। তবে করোনা মহামারির কারণে আগস্ট থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত রাজস্ব ঘাটতি না হলে রাজস্ব আয় আরও বাড়তো।তাই করোনার প্রভাব ও মিয়ানমারে রাজনৈতিক অস্থিরতা কেটে না যাওয়া পর্যন্ত বন্দরে পণ্য আমদানি ও রফতানি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে সময় লাগতে পারে।আর এর প্রভাব পড়বে রাজস্ব আদায়েও। উল্লেখ থাকে যে. টেকনাফ স্থল বন্দর স্বত্বাধিকারী ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট ২৫ বছরের জন্য নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে লীজ নেয়। নিজের শর্তানুযায়ী স্থলবন্দরে অবকাঠামো সহ বিভিন্ন উন্নয়নের কথা থাকলেও স্থলবন্দরে দায়িত্বে নিয়োজিত জেনারেল ম্যানেজার এর অর্পিত দায়িত্ব অবহেলা এবং দূরদর্শিতার অভাবে এ পর্যন্ত দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটেনি। ফলে সীমান্তবানিজ্যের ব্যবসায়ীরা পদে পদে হয়রানি এবং নানা সমস্যায় জর্জরিত।