টেকনাফ স্থলবন্দরের বরিশাল্ল্যা আজগর মাঝি রাম রাজত্ব কায়েম করেছে! তার কাছে বন্দরের সকল ব্যবসায়ী জিম্মি হয়ে পড়েছে। তার কথা ছাড়া বন্দরে কোন মালামাল লোড-আনলোড হয় না। যে ব্যবসায়ী মোটা অংকের বকসিস প্রদান করে তার মালামাল গুলো পূর্বে লোড-আনলোড হয়। কে এ আজগর মাঝি? তিনি হচ্ছেন বরিশাল জেলার আজগর, সে শ্রমিক হিসাবে টেকনাফ স্থল বন্দরে ২০০২ সালের দিকে বন্দরে যোগদান করেন। তখন থেকে হাটি হাটি পা পা করে ২০০৭ -২০০৮ সালে ইয়াবার রমরমা ব্যবসা চলাকালীন সময় তার ছোট ভাইয়ের মাধ্যমে বন্দরের মাঝি নাম দিয়ে হয়ে যায় কোটি কোটি টাকার মালিক। তার রয়েছে তিনটি বিলাস বহুল বাড়ি, বরিশাল নিজ জেলার একটি, কক্সবাজারে একটি ও টেকনাফ সদরের কেরুনতলী গ্রামে একটি। বর্তমানে সে তার ছোট ভাই ও তার স্ত্রী কেরুনতলীর ভোটার।

তার রয়েছে একটি বিলাসবহুল আলিশান গাড়ী ও নিজস্ব ড্রাইভার। রয়েছে দুই জন দেহরক্ষী ও ২ জন কেরানি। এ কেরানিরদের মধ্যে একজন হচ্ছে মোঃ আলম সে পুরাতন রোহিঙ্গা। তার বাড়ি হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা ৮ নং ওয়ার্ডে রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় বলে জানা যায়, তার মাধ্যমে টেকনাফ ও উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে শ্রমিক সংগ্রহ করে বন্দরে নিয়ে আসে। তার কথা মতে বর্তমানে টেকনাফ স্থল বন্দরে ৯৬০ জন রোহিঙ্গা শ্রমিক রয়েছে। টেকনাফ স্থল বন্দরে ব্যবসায়ী ও সিএন্ডএফ এজেন্ট দের কোন বরাদ্দ কৃত অফিস বা কক্ষ না থাকলেও কিন্তু আজগর মাঝি’র জন্য বন্দরে রয়েছে বরাদ্দ কৃত একটি আলিশান অফিস। যে অফিসে টেলিভিশন, ওয়াইফাই সহ নানা উপকরণে ভরপুর। অফিস টি সারাক্ষণ বন্ধ তাকে। সে ভিতরে বসে রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে মোবাইল ফোনে অপরাধ জগতের হোতাদের সাথে বিভিন্ন অপকর্ম পরিচালনা করে বলে শ্রমিক সূত্রে জানা যায়! সেই সকালে আলিশান গাড়ী দিনে কক্সবাজার থেকে টেকনাফ স্থল বন্দরে আসে আবার গভীর রাতে ঐ গাড়ী দিয়ে কক্সবাজার চলে যায় বলে সংশ্লিষ্ট মাঝিরা জানাই। চলমান লগডাউন ও অতীতের লগডাউনে টেকনাফ -কক্সবাজার সড়ক ও টেকনাফ টু কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়কের তল্লাশি চৌকিতে যানবাহন চলাচল উপর কঠোর নজরদারি থাকলেও কিন্তু তার গাড়ি টি টেকনাফ স্থল বন্দরের শ্রমিকের মাঝি পরিচয় দিয়ে অনায়াসে চলে য়ায় বলে স্হানীয় সূত্রে জানা যায়। কিন্তু টেকনাফ বন্দর সংলগ্ন নিজস্ব বাড়ি থাকার সত্বেও কক্সবাজার জেলা শহরে আরেকটি বাড়ি নেওয়ার কারণ কি? এতে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি কি এই নিয়ে জনমনে ঘোরপাক খাচ্ছে। এর হেতু টি কি? এলাকাবাসী জানতে চাই।

উল্লেখ্য যে, টেকনাফ স্থল বন্দর ১৯৯৫ সালে চালু হলেও মূল বন্দর হিসেবে ২০০২ সাথে টেকনাফ পৌর সভা থেকে কেরুনতলীতে স্থানান্তর হয়। ঐ সময় ছিল বিএনপি সরকারের আলম।সে সময় বন্দরের সকল কার্যক্রম বিএনপি নেতাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল আজগর মাঝি বিএনপি’র কর্মী বিদায় ঐ বিএনপি নেতারা তাকে বন্দরে স্তান দিয়েছিল বলে জানা যায়। বর্তমানে সে আওয়ামী লীগের টেকনাফ স্থল বন্দরের শ্রমিকলীগ বিষয়ক নেতা হিসেবে পরিচয় দেয়। তার এত শক্তির খুটির জোর কোথায়। এ বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থা ও দূনিতি দমন দমন কমিশন আজগর মাঝি ও সম্পত্তি বিষয়ে তল্লাশি চালাতে মূল রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে এলাকাবাসীর ধারণা।

এ বিষয়ে টেকনাফ স্থল বন্দরের আজগর মাঝি সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার সাথে সাথে রেগে যায়, এবং সে তার সাথে টেকনাফ স্থল বন্দরে গিয়ে দেখা করতে বলে মোবাইল ফোন কেটে দেয়। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ বিষয়টি মিথ্যা বলে জানান।

উল্লেখ্য যে, গত (০১ জুলাই) টেকনাফ স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী সি আই পি আব্দুর শুক্কুর তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে টেকনাফ স্থল বন্দরের নানা অনিয়ম ও দূর্নীতি নিয়ে অভিযোগ করতেছি যে, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও লেবার মাঝিদের সীমাহীন দূর্নীতি করতেছে। যেখানে বন্দর কর্তৃপক্ষ সরকার থেকে লীজ নেয়, সেখানে বন্দর কর্তৃপক্ষ মালামাল লোডিং আনলোডিং করা হয়। ব্যবসায়ীরা মালামালের লোডিং আনলোডিং এর সম্পূর্ণ খরচ সি.এন্ড.এফ কে দিয়ে দেন। লেবারের অতিরিক্ত টাকা চার্জ করার কারণে, ব্যবসায়ীদের সি.এন্ড.এফ খরচ ও বেশী হয়। এ সপ্তাহে আমার ব্যক্তিগত ১৫টি পিয়াজের গাড়ী হয়। প্রতি গাড়ীতে ৮৫০০ টাকা করে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়। মালামাল লোডিং আনলোডিং এর সম্পূর্ণ দায়িত্ব বন্দর কর্তৃপক্ষের।

আমি যখন বন্দর ম্যানেজারকে জিজ্ঞাস করলাম, আমাকে বলে বন্দর কর্তৃপক্ষ লেবারের সম্পূর্ণ টাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে। তারপরে বন্দরের লেবারের মাঝিকে জানাইলে, মাঝি আমাকে বলে বন্দর লেবারের যেই টাকা দেয়, তা আমাদের লেবারের চা খাওয়ার পয়সাও হয়না। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করার পরে বন্দর কর্তৃপক্ষ মজুরি হিসাবে জনপ্রতি ২৬০ টাকা করে দেয়। প্রতি গাড়ীতে ৮৫০০/- থেকে ৯০০০/- টাকা করে নেয়। সেখানে প্রতি গাড়ীতে লেবারদেরকে দেওয়া হয় মাত্র ৩০০০/- টাকা। বন্দরে দৈনিক ১২০ থেকে ১৫০টি গাড়ী হলে, এখন চিন্তা করেন কি পরিমাণ দূর্নীতি করতেছে আপনারা দেখেন। এই অভিযোগ গুলো বন্দরের সি.এন্ড.এফ এর সভাপতি ও সেক্রেটারিকে জানানোর পরেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বন্দরে দুটি গেইট থাকার পরেও একটি গেইট ব্যবহার করার কারণে প্রচুর যানযট হচ্ছে। সকালে গাড়ী লোড করার পরেও সন্ধ্যার সময় গাড়ী বাহির হতে পারে না, তাই ব্যবসায়ীদের মালামালের প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। বন্দরে এ অবস্থা চলমান থাকলে আমরা ব্যবসায়ীরা কিভাবে ব্যবসা করব। তাই আমরা জেলা প্রশাসক মহোদয় ও দূর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করি।