প্রেম কুমার। বয়স ১৭। আর এই বয়সেই বিস্ময় তৈরি করেছেন এই ভারতীয় কিশোর। মেধার গুণে প্রায় তিন কোটি টাকার বৃত্তি পেয়েছে বিহারের এক দিনমজুরের এই ছেলে।

বিহারের রাজধানী পাটনা সংলগ্ন ফুলওয়ারি শরিফের গনপুরের মহাদলিত বসতির বাসিন্দা প্রেম। বাবা পেশায় দিনমজুর। মা হারিয়েছেন ছোটবেলাতেই। স্বপ্ন ছিলো প্রকৌশলী হবার।

সেই স্বপ্নের পেছনে ছুটতে গিয়ে পড়াশুনাকে নিজের বড় ধর্ম বানিয়েছে প্রেম। বস্তির অন্ধকার ঘরে আলো জ্বেলে পড়তে হতো তাকে। তারপরেও পড়ালেখা চালিয়ে গেছে প্রেম।

তরতর করে পেরিয়েছেন স্কুল জীবন। এরপর কলেজ অধ্যায় শেষ করে নিজেকে প্রস্তুত করে উচ্চ শিক্ষার জন্য। সরকারের কাছে আবেদনও করে সে।

আমেরিকার পেনসেলভানিয়ার বিখ্যাত লাফায়েত কলেজ থেকে ডাক আসে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য। ভীষণ কঠিন সেই পরীক্ষায় সারা বিশ্বে সে ষষ্ঠ স্থান অধিকার করে।

এই কৃতিত্বের জন্য প্রেম পেয়ে যান সেই কলেজের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশুনা করার। সেই সঙ্গে প্রায় তিন কোটি টাকার দারুণ এক বৃত্তি। লালিত স্বপ্ন ধরা দেয় হাতে।

প্রেমের বাবা একজন দিনমজুর। কোনোমতে দিন কাটে তাদের। রীতিমতো একটি ভাঙা বাড়িতেই পড়াশোনা করতে হয়েছে প্রেমকে।

১২ বছর আগে প্রেমের মা পক্ষাঘাতে মারা যান। বাবা অনেক কষ্টে প্রেমের পড়ালেখা চালিয়ে যান। এই প্রেমই এখন ভারতের একমাত্র শিক্ষার্থী, যে আড়াই কোটি টাকার বৃত্তি পেলো।

প্রেম বলেন, আমরা অনেক সংগ্রাম করেছি, সংগ্রাম না থাকলে এই জায়গায় আসতে পারতাম না। আমি সুযোগ পেলেই পড়াশোনায় সময় দিয়েছি।