আদালতে জবানবন্দি শেষে আলোচিত ধর্মীয় বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান ও তার দুই সঙ্গীকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। আট দিন নিখোঁজ থাকার পর শুক্রবার সন্ধান মিলে তাদের।

শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আবু ত্ব-হা এবং তার দুই সঙ্গী আবু মুহিত আনছারী ও গাড়িচালক আমির উদ্দিনকে রংপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কে এম হাফিজুর রহমানের আদালতে তোলা হয়। তারা সেখানে জবানবন্দি দেন। পরে আদালতের নির্দেশে রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

ত্ব-হা নিখোঁজের ঘটনায় করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) আলোকে তিনজনকে আদালতে তুলে পুলিশ। সেখানে ১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। তবে জবানবন্দিতে তারা কী বলেছেন সেটা নিশ্চিত করে জানাতে পারেনি পুলিশ।

এর আগে শুক্রবার ভোরে অজ্ঞাত স্থান থেকে বাড়ি ফেরেন ধর্মীয় বক্তা আবু ত্ব-হা। পুলিশ বলছে, ব্যক্তিগত কারণে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। তবে ব্যক্তিগত কারণটা কী তা জানায়নি পুলিশ। তবে জানা গেছে, পারিবারিক কারণে গাইবান্ধায় বন্ধুর বাড়িতে আত্মগোপন করেছিলেন তিনি।

গত ১০ জুন রংপুর একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে ঢাকার উদ্দেশে আসার পথে নিরুদ্দেশ হন আবু ত্ব-হা। তখন তার সঙ্গে ছিলেন আব্দুল মুহিত, মোহাম্মদ ফিরোজ ও গাড়িচালক আমির উদ্দিন ফয়েজ। গাড়িটিসহ তাদের চারজনেরই কোনো খোঁজ মিলছিল না বলে ত্ব-হার পরিবার জানায়।

ছেলেকে ফিরে পেতে ১১ জুন বিকালে রংপুর কোতোয়ালি থানায় জিডি করেন ত্ব-হার মা আজেদা বেগম। সেখানে তিন সঙ্গীসহ ঢাকা যাওয়ার পথে ত্ব-হা নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানান তিনি।

তার খোঁজে স্থানীয় থানা থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পুলিশ সদর দপ্তর, র‌্যাব সদরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ঘুরছিলেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিকুন্নাহার, যা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে খবরও প্রকাশিত হয়।

তরুণ এই ইসলামি বক্তার নিখোঁজ হওয়ার পরপরই তোলপাড় শুরু হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। ত্ব-হার নিখোঁজের বিষয়টি শোনার পর সরকারও গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি দেখছে বলে বৃহস্পতিবার জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এর মধ্যে রংপুরে শ্বশুরবাড়িতে ফেরেন আলোচিত এই ধর্মীয় বক্তা।

বাসায় ফেরার পর ত্ব-হাকে রংপুর কোতোয়ালি থানায় নেয়া হয়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেয়া হয় জেলা ডিবি অফিসে। সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে ব্যক্তিগত কারণে ত্ব-হার নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে।

ত্ব-হার বিষয় জানাতে গিয়ে রংপুর মহানগর পুলিশের এডিসি (মিডিয়া ও ডিবি) ফারুক আহমেদ বলেন, নিখোঁজ হওয়ার পর তারা চারজন একসঙ্গে একই বাড়িতে ছিলেন। তাদের আপাতত পুলিশি হেফাজতে রাখা হবে। সেখানে যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রয়োজন হলে আদালতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। মামলায় যাওয়ার মতো কোনো প্রমাণ এখনো আমাদের কাছে আসেনি। স্বেচ্ছায় ও ব্যক্তিগত কারণে আত্মগোপনে যেতে তিনি (ত্ব-হা) তার দুজন সফরসঙ্গীর কাছে সহযোগিতা চেয়েছিলেন।’

তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘একটা অপরাধের পেছনে দেখতে হয় তাদের খারাপ উদ্দেশ্য আছে কি না। এখন পর্যন্ত দেশকে বিব্রত বা এ সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় আমাদের কাছে আসেনি। এখন আমরা প্রাথমিক তথ্যগুলো জানাতে পারছি।’

রংপুর থেকে ঢাকা ফেরার পথে নিখোঁজ ধর্মীয় বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান ব্যক্তিগত কারণে আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানান রংপুর ডিবি পুলিশ। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ফারুক আহমেদ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত তার (ত্ব-হা) বক্তব্য অনুযায়ী তিনি ব্যক্তিগত কারণে আত্মগোপন করেছিলেন। তার ব্যক্তিগত বিষয়টি আমি বলতে চাই না।’