দিলীপ কুমার ছিলেন নায়কদের নায়ক। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে লাখো মানুষের মন যেমন জয় করেছেন, তেমনই পুরস্কার পেয়েছেন অগুণিত। হিন্দি চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সর্বকালের অন্যতম সেরা এই অভিনেতা ‘ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা পুরস্কার’ পেয়েছেন আট বার। ১৯৯৩ সালে সম্মানিত হয়েছেন ‘ফিল্মফেয়ার আজীবন সম্মাননা’-য়।

১৯৯৪ সালে পেয়েছেন ‘দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার’। ভারত সরকার তাকে ১৯৯১ সালে ‘পদ্মভূষণ’ এবং ২০১৫ সালে ‘পদ্মবিভূষণ’ সম্মানে সম্মানিত করে।

বলিউডে দিলীপ কুমারের পরের প্রজন্মের মহাতারকা অমিতাভ বচ্চন একটি স্মৃতিচারণায় জানান, দিলীপ কুমারের অটোগ্রাফ পেতে তার ৪৬ বছর লেগেছে। প্রথম বার মা-বাবার সঙ্গে গিয়েছিলেন দক্ষিণ মুম্বাইয়ের একটি হোটেলে, যেখানে দিলীপ কুমার সবান্ধবে উপস্থিত। নায়ককে ঘিরে ভিড়ের কারণে তিনি সফল হননি সে দিন। কিছুকাল পরে আরেকটি সুযোগ আসে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু একটা পার্টি দিয়েছিলেন। দিলীপ কুমার, দেব আনন্দ, রাজ কাপুর হাজির।

কিন্তু সেই পার্টিতেও অমিতাভ প্রিয় তারকার অটোগ্রাফ নিতে পারেননি। এমনকী ১৯৮২ সালে ‘শক্তি’ ছবিতে দিলীপ কুমারের সঙ্গে কাজ করলেও অমিতাভ তার অটোগ্রাফ সংগ্রহে ব্যর্থ হন। অবশেষে তার স্বপ্ন সত্যি হয় ২০০৫ সালে। রানি মুখার্জির সঙ্গে ‘ব্ল্যাক’ সিনেমায় ছিলেন অমিতাভ। রানির আমন্ত্রণে স্ত্রী সায়রা বানুকে নিয়ে ছবি দেখতে এসেছিলেন দিলীপ কুমার।

ছবি দেখে আপ্লুত দিলীপ কুমার অমিতাভকে একটা দীর্ঘ চিঠি লেখেন। তাতে অনেক প্রশংসাবাক্য থাকলেও চিঠির শেষে দিলীপ কুমারের সই দেখেই খুশিতে আত্মহারা হয়ে যান অমিতাভ বচ্চন।

দিলীপ কুমারের অসংখ্য গুণগ্রাহীদের মধ্যে বিশেষ একজন হলেন বলিউডের বাদশা শাহরুখ খান। শাহরুখের সঙ্গে দিলীপ কুমার এবং সায়রা বানুর সুন্দর সম্পর্কের কথা সকলেই জানেন। শাহরুখ তার স্মৃতিচারণায় জানিয়েছেন, “ছোটবেলা থেকেই আমি দিলীপ সাহেবকে জানতাম। কারণ, বাবা তাকে চিনতেন। পরে কেতন মেহতার সঙ্গে কাজের সময় তার অফিসে আমি দিলীপ কুমারের ছবি দেখে অবাক হয়ে যাই। আরে! এ তো আমি! আমার মতনই লাগছে। সত্যিই দিলীপ সাহেব আর সায়রাজি আমাকে তাদের ছেলের মতন ভালবেসেছেন। ‘

অভিনেতা দিলীপ কুমার সম্পর্কে শাহরুখ বলেন, “দিলীপ সাহেবের নিজের আলো আছে… সেই আলোতেই আমরা মজে আছি এত কাল… পথও চলছি। “