সৌদি আরবগামী প্রায় ৩০ হাজার কর্মী চীনের সিনোফার্মের টিকা নিয়ে সেদেশের শর্তের কারণে আটকা পড়ায় অন্যান্য উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনা প্রতিরোধী টিকার বুস্টার ডোজ প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে সৌদি আরবগামী এই ৩০ হাজার প্রবাসী কর্মীদের প্রথম বুস্টার ডোজ প্রয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমেদ।

সম্প্রতি সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, বিদেশে সিনোফার্ম ও সিনোভ্যাকের টিকা গ্রহণকারীদেরও সৌদি আরবে প্রবেশের ক্ষেত্রে সেদেশে অনুমোদিত চারটি টিকার কোনো একটির বুস্টার ডোজ নিতে হবে।

টিকাগুলো হলো: অক্সফোর্ডের অ্যাস্ট্রাজেনেকা, ফাইজারের-বায়োনটেক, জনসন অ্যান্ড জনসন এবং মডার্নার টিকা।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় মন্ত্রী ইমরান আহমেদ বলেছেন, সৌদিগামী কর্মীরা আটকে আছেন। তাদের বুস্টার ডোজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রবাসী কর্মীদের জন্য পূর্বনির্ধারিত ৭টি কেন্দ্রে তাদের বুস্টার ডোজ দেওয়া হবে। তবে তার আগে আইসিটি মন্ত্রণালয়কে নিশ্চিত করতে হবে যে এই রেফারেন্সে তারা ঠিকমতো সার্টিফিকেট প্রদান করবে।

এদিকে প্রবাসীদের সুবিধার্থে ঢাকার মতো চট্টগ্রাম ও সিলেটেও করোনার আরটি-পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি।

বিদেশগামী প্রবাসী কর্মীদের স্বার্থে র‌্যাপিড পিসিআর টেস্টের সুবিধা আরও বাড়ানো উচিত জানিয়ে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, এবার সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরেও এ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী বলেছেন, বিভিন্ন বিমানবন্দরে যে র‌্যাপিড পিসিআর টেস্ট হচ্ছে এতে অনীহা নেই আমাদের। আমাদের অনীহা শুধু এক জায়গায়, তা হলো এটির রেট বেশি। যারা যাবে এটা তাদের ওপর নির্ভর করে তারা কত রেট প্রদান করতে ইচ্ছুক। ঢাকাকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি কারণ ঢাকাতে ইতিমধ্যে ফ্লাইটগুলো চালু আছে। সেখানে পিসিআর টেস্টের ব্যবস্থা হয়ে গেলে সরাসরি ফ্লাইটগুলো চালু হয়ে যাবে। এর ফলে সিলেট ও চট্টগ্রাম থেকে বিদেশগামীদের জন্য সুবিধা হয়ে যাবে।

বুস্টার ডোজের সনদপ্রাপ্তির ব্যবস্থা করতে আইসিটি মন্ত্রণালয় ও আরটি-পিসিআর পরীক্ষার সুবিধা বাড়াতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে তাগিদ দেওয়ার কথাও জানান প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী।

প্রবাল/মইম