বাংলাদেশে বাড়ছে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা স্ট্রোকের রোগী। পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে স্ট্রোকে মৃত্যু বেড়েছে দ্বিগুণ।

শুধু বয়স্করাই স্ট্রোকে আক্রান্ত হন এমন ধারণা সঠিক নয়, বলছেন চিকিৎসকেরা। জীবনাচার কিংবা অনিয়ন্ত্রিত শারিরীক জটিলতার কারণে যে কোন বয়সে স্ট্রোক হতে পারে।

মানব শরীরের ফুসফুস-হৃদপিণ্ড, হাত-পা থেকে শুরু করে প্রতিটি অঙ্গ নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিস্ক। আর এই মস্তিস্কের সামান্যতম জটিলতাও মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনকে ব্যাহত করে চরমভাবে।

মস্তিস্কের পরিচিত একটি রোগের নাম স্ট্রোক। মূলত মস্তিস্কের ভেতরে কোন অংশে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা রক্তনালী ছিড়ে গিয়ে মস্তিস্কের একটি অংশ অচল হয়ে যাওয়াই স্ট্রোক।

শুধু বয়স্করাই স্ট্রোকের ঝুঁকিতে থাকেন বলে প্রচলিত ধারণা থাকলেও তা আসলে সঠিক নয়। যে কোন বয়সী মানুষই স্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারেন। সেটা হতে পারে শারীরিক জটিলতা কিংবা বাহ্যিক আঘাতজনিত কারণে।

বিএসএমএমইউ-এর নিউরোসার্জারী বিভাগের অধ্যাপক ডা. ধীমান চৌধুরী জানান, হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা, সঙ্গে বমি বা বমি বমি ভাব, ঘাড়ব্যথা, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, চোখে ঝাপসা দেখা বা দুটো দেখা, চোখ ব্যথা, খিঁচুনি থেকে শুরু করে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে।

এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলেন, স্ট্রোকের চিকিৎসা মূলত নির্ভর করে যত তাড়াতাড়ি রোগটি শনাক্ত করা যায় তার ওপর।

শরীরের একপাশ অবশ হয়ে যাওয়া বা কথা জড়িয়ে যাবার মত কিছু উপসর্গ দেখা দেয়া মাত্রই যদি চিকিৎসকের শরণাপণ্ণ হলে, সেক্ষেত্রে অনেক রোগীই কম সময়ের মধ্যেই সেরে উঠেন।

শারীরিক জটিলতার কারণে যারা স্ট্রোকে আক্রান্ত হন তাদের ক্ষেত্রে দ্বিতীয়বার স্ট্রোক করার প্রবণতা থাকে। ফলে এমন রোগীদের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেবার প্রয়োজন হয়।

আর স্ট্রোক এড়াতে, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা, রক্তের চর্বির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে করা, আদর্শ ওজন বজায় রাখা ও নিয়মিত ব্যায়ামের পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

সেই সঙ্গে যাঁদের বংশে এই ধরনের রোগ আছে, তাঁরা কম বয়স থেকেই সতর্ক ও সচেতনভাবে জীবন যাপন করতেও পরামর্শ দেয়া হয়েছে।