সুউচ্চ ভবনের কথা আসলেই মাথায় ঘুরপাক খায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় টাওয়ার দুবাইয়ের নান্দনিক ‘বুর্জ খলিফা’র কথা। এছাড়াও সৌদি আরবের মক্কা ক্লক টাওয়ার, চীনের সাংহাই টাওয়ার আমেরিকার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ইত্যাদি।

এমনি এক উচ্চতায় প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বিশ্বের সেরা কয়েকটি স্থাপত্যের সমন্বয়ে দেশে তৈরি হবে তিনটি চোঁখ ধাঁধানো সুউচ্চ  টাওয়ার।

ঢাকার অদূরে পূর্বাচলে গড়ে উঠতে যাওয়া বাংলাদেশের স্বপ্নের ‘বঙ্গবন্ধু ট্রাই টাওয়ার’ প্রকল্পটিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে একটি স্মার্ট সিটি। টাওয়ার তিনটিকে কেন্দ্র করে থাকছে নান্দনিক স্টেডিয়াম, হাসপাতাল, বিজনেস সেন্টার, আধুনিক ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ইত্যাদি।

প্রকল্পের মূল আকর্ষণ ‘বঙ্গবন্ধু ট্রাই টাওয়ার’ এ থাকছে যথাক্রমে ভাষা আন্দোলনের স্মরণে ৫২তলা, মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মরণে ৭১তলা এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লিগ্যাসি স্মরণে ১১১ তলা বিল্ডিং।

২০১৯ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ২৫ ভবন নিয়ে করা ‘আর্ক ডেইলি’র প্রতিবেদনে দেখা যায় ৮৮৪ মিটারের উচ্চতা নিয়ে ১০৮ তলা বিশিষ্ট হংকংয়ের ইন্টারন্যাশনাল কমার্স সেন্টার পৃথিবীর ১১তম বড় বিল্ডিং।

সেই হিসেবে লিগ্যাসি টাওয়ার উচ্চতার দিক থেকে হতে পারে বিশ্বের ১২তম উঁচু ভবন। যদিও সরকারের দাবি, ৪৭৩মিটার উচ্চতার লিগেসি টাওয়ারটি হবে বিশ্বের ৫ম উঁচুতম ভবন।

সেই সাথে এই তিন টাওয়ারের চারদিকে ৪৯ তলার আরও ৪০টি ভবন নির্মিত হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে যথাক্রমে শিকদার গ্রুপের সিস্টার কোম্পানি পাওয়ার প্যাক হোল্ডিংস লিমিটেড এবং জাপানের কাজিমা কর্পোরেশনের মাধ্যমে।

বিশ্বের সর্বাধুনিক সোলার গ্লাসে তৈরি এ ভবনগুলো হবে পরিবেশবান্ধব। আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও বিভিন্ন ইউটিলিটির জন্যে করা হবে বিশেষ ব্যবস্থা।

চীনের গ্রেট ওয়ালের আদলে তৈরি হবে ভবনগুলোর সীমানা প্রাচীর, যেখানে থাকবে ওয়াক ওয়ে। আর অভ্যন্তরীন যাতায়াতের জন্য পরিবেশ বান্ধব ইলেকট্রনিক বাস। এছাড়া আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াক ওয়েও থাকবে এখানে।

সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৪ সালে প্রকল্পটি দৃশ্যমান হওয়া শুরু করবে এবং বর্তমানে প্রকল্পের পাইলিংয়ের কাজ চলছে পুরোদমে এবং প্রকল্পটির তদারকির দায়িত্বে আছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৬ হাজার কোটি টাকা এবং এ প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী দেশগুলো হলো সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ফিলিপাইন। এরইমধ্যেই প্রকল্পের মোট প্রস্তাবিত ব্যয়ের ৬০ হাজার কোটি টাকা যোগাড় করা হয়েছে।

এ প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক দৃঢ়তা প্রকাশ পাবে তার সঙ্গে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে বহির্বিশ্বে।