শরীয়তপুরে নিজ বাড়িতে ব্যক্তিগত অর্থে শহীদ মিনার নির্মাণ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিশু সংগঠক ও কবি মফিজুল ইসলাম। পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের স্বর্ণঘোষ গ্রামের কবিকুঞ্জে শহীদ মিনারটি নির্মাণ করেন তিনি।

এর আগে এ গ্রামের মানুষ ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারতেন না। মফিজুল ইসলাম (কবি ভাই) নিজ বাড়িতে শহীদ মিনার নির্মাণ করায় সেটি আর হবে না। শহীদ দিবসে এবার সকলে মিলে শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন।

এ বিষয়ে কবি মফিজুল ইসলাম জানান, ‘নতুন এ শহীদ মিনারে স্থানীয় শিশু-কিশোর, শিক্ষার্থী, জাতীয় কবিতা পরিষদের সদস্যবৃন্দ ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।’

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘কবি মফিজুল ইসলাম (কবি ভাই) নিজের টাকায় শহীদ মিনার করায় তার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আরও বেড়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জেলায় ৬৯৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৪৫টি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই। এবার ৫৫৩ টি স্কুলের খুদে শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ বিদ্যালয়ের মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে। বাকি বিদ্যালয়গুলোতেও শহীদ মিনার হবে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা কবি মফিজুল ইসলাম ১৯৫৩ সালের ১৫ জানুয়ারি শরীয়তপুর সদর উপজেলার বিনোদপুর সুবেদারকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিকভাবে কবি মফিজুল ইসলাম সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক আবহে বড় হয়েছেন। বাল্যকাল থেকে লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত হন তিনি।

১৯৭১ সালে তিনি পালং তুলাসার গুরুদাস সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান গ্রুপে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। পরে মাদারীপুর নাজিম উদ্দিন কলেজে অধ্যায়ন করেন। এরপর তিনি বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ড থেকে তিন বছর মেয়াদি কৃষি ডিপ্লোমায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন।

১৯৮২ সালে তিনি ভেদরগঞ্জ থানা পরিষদ থেকে স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার, ২০০২ সালে শরীয়তপুর জেলা কৃষি মেলা পুরস্কার, ২০০৫ সালে ফরিদপুর কবি জসিমউদদীন হলে সংবর্ধনা ও নির্ণয় শিল্প গোষ্ঠী পুরস্কার, ২০০৮ সালে মাদারীপুর এম এম হাফিজ মেমোরিয়াল পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে সংবর্ধনা ও সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সাহিত্য পুরস্কার, ২০১১ সালে বিজ্ঞান বিষয়ক বইয়ের (পরিবেশ ও জীবন) জন্য বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক (রাষ্ট্রীয় পুরস্কার), সর্বশেষ ২০১৫ সালে জাতীয় সাহিত্য পরিষদ সম্মাননা পদক অর্জন করেন।