নির্মাণ শৈলীতে বিশ্বের বিস্ময় পদ্মা সেতু। বিশেষজ্ঞরা জানান, নদীর নিচের মাটি থেকে সর্বোচ্চ ৪১২ ফুট গভীরতায় বসেছে এই সেতুর একেকটি পাইল।

যে কারণে এর একটি পিলার কমপক্ষে ৫০ হাজার টন ওজন বহন করতে পারবে। যা এই সেতুকে দিয়েছে সর্বোচ্চ ৯ মাত্রার ভূমিকম্পেও টিকে থাকার ক্ষমতা।

খরস্রোতা পদ্মা যে শুধু একমুখী হয়ে বয়ে চলে তা নয়। মৌসুমে মৌসুমে এই নদীর চরিত্র পাল্টায়। এক ঋতুতে শান্ত পদ্মাই আরেক ঋতুতে হয়ে ওঠে প্রমত্ত।

পাল্টে যায় নদীর আকার আয়তন থেকে শুরু করে পানি প্রবাহের চরিত্রও। পদ্মার এই দোদুল্যমান চরিত্রকে মাথায় রেখেই সেতুর ভিত তৈরি করা হয়েছে বিশেষভাবে।

পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর পাইলের সেতু হলো পদ্মা। মূল সেতুতে পাইল আছে ২৬৪টি। একেকটি পিলারের নীচে আবার ছয় থেকে সাতটি করে পাইল বসানো হয়েছে।

এই পাইল নদীর তলদেশের মাটি থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৪১২ ফুট গভীরে বসানো হয়েছে। বিশ্বে আর কোনো সেতুতে এতো গভীরে পাইল বসানোর দরকার হয়নি।

এসব পাইলের ওপরই নির্মাণ করা হয় পিলার। এর ওপর বসানো হয় ইস্পাতের স্প্যান। পদ্মা সেতুতে স্প্যানের ওপর কংক্রিটের স্ল্যাব জোড়া লাগিয়ে তৈরি হয়েছে যান চলাচলের পথ।

ছোট-বড় কিছু কাজের শেষ পর্যায়ে পিচ ঢালাই দিয়ে সড়ক তৈরি করে যানবাহন চলাচলের জন্য প্রস্তুত করা হয় সেতু। ২৫ জুন উদ্বোধনের মাধ্যমে বিশাল এই কর্মযজ্ঞ শেষ হতে চলেছে।

পানি সম্পদ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ এবং পদ্মা সেতু প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সদস্য আইনুন নিশাত জানান, খরস্রোতা পদ্মায় পাইল বসানো ছিল অন্যতম জটিল কাজ।

তিনি বলেন, গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র দুই নদ–নদীর মিলিত শক্তি হচ্ছে পদ্মার। প্রতি সেকেন্ডে এই নদীর পানি ১৫ ফুট পর্যন্ত এগিয়ে যায়। নদীর ব্যাপকতায় ঘূর্ণিঝড়ও আঘাত হানতে পারে।

ড. নিশাত জানান, উচ্চমাত্রার ভূমিকম্প সহনশীলতা নিশ্চিত করতে পদ্মা সেতুর পাইলিং কাজে যে হ্যামার ব্যবহার করা হয়েছে সেটাও বিশেষভাবে তৈরি করে বিদেশ থেকে আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু ভূমিকম্প সহনশীলতাই নয়, চার হাজার ডেড ওয়েট টন সক্ষমতার জাহাজের ধাক্কাও সামলাতে পারবে পদ্মা সেতু।

এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, যত ধরনের দুর্যোগ হতে পারে সেসব সব মাথায় রেখেই পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। সব মিলে নির্মাণ শৈলী ও ঝুঁকি সহনশীলতায় পদ্মা সেতু বিশ্বের বিস্ময়।