চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় ভরা মৌসুমেও জেলেদের জালে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। ইলিশ না পাওয়ায় জেলে ও আড়তদাররা হতাশ হয়ে পড়েছে। নদীর নিন্মাঞ্চলে মাছ ধরা পড়ছে, খুব শীঘ্রই চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় ধরা পড়বে ইলিশ এমনটাই আশা ছিল জেলে ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের।

জেলে রওশন দেওয়ান ও বাচ্চু বেপারী বলেন, প্রতি বছর এ সময়ে পদ্মা-মেঘনায় ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ে।

কিন্তু এবছরের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। জেলেরা নদীতে গিয়ে একপ্রকার শূন্য হতেই বাড়ি ফিরছে। যে পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ছে তা দিয়ে তাদের জ্বালানি খরচও মিটছে না। ধার-দেনা করে এখন চোখে অন্ধকার দেখছি।

ছেলে-মেয়ে নিয়ে সামনে কীভাবে সংসার চালাবো ভেবে পাচ্ছি না।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মনজিল সর্দার ও হাসান দেওয়ান বলেন, লাখ লাখ টাকা দাদন দিয়ে নদীতে জেলেদের পাঠিয়েছি। তারপরেও আশানুরূপ ইলিশ না পাওয়ায় আমরা হতাশ। এতে করে আমরা ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি।

অন্যান্য বছর এসময়ে প্রচুর ইলিশ জেলেদের জালে ধরা পড়তো। তাতে দাদনের টাকা কিছুটা হলেও পুষিয়ে উঠতে পারতাম। সামনে জেলেদের কাছ থেকে এই দাদনের টাকা কীভাবে উঠাবো ভাবছি।

চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনিস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আনিছুর রহমান বলছেন আশার কথা, যেহেতু দক্ষিণাঞ্চলে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে, তাই অচিরেই এখানকার পদ্মা মেঘনায়ও ইলিশ ধরা পড়বে। তাই তিনি জেলেদের হতাশ হতে বারণ করেছেন।

চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদী বেষ্টিত ৪টি উপজেলায় সদর, মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ ও হাইমচরে প্রায় ৫১ হাজার জেলে রয়েছে। গত তিন বছর মার্চ-এপ্রিল দু’মাস জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি প্রায় শতভাগ পালিত হচ্ছে। যে কারণে ইলিশের উৎপাদন কিছুটা বেড়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ৫ লাখ ১৭ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদন হয়েছে।